০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ ৪৭তম শুভ জন্মদিন রাহুল দ্রাবিড়, ‘দ্যা ওয়াল’

‘প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে আপনি তার উইকেট নেয়ার চেষ্টা করুন। যদি তাতে ব্যর্থ হোন। তাহলে বাকিদের উইকেট নেয়ার চেষ্টা করুন।’- রাহুল দ্রাবিড়কে নিয়ে এমন মন্তব্য ছিল সাবেক অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহের। ঠিক তাই, রাহুল দ্রাবিড় একবার মাঠে জমে গেলে তাকে আউট করা খুব কঠিন। টেস্ট ক্রিকেটে ৩১,২৫৮ বল খেলাই তার প্রমাণ।

তার চেয়ে ৩৬ টেস্ট বেশি খেলা শচীন টেন্ডুলকারও পারেনি টেস্টে ৩০ হাজার বল খেলতে। পারেনি টেস্ট ইতিহাসের অন্য কোনো ব্যাটসম্যানও। আজ এই ভারতীয় কিংবদন্তির ৪৭তম জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের আজকের দিনে মধ্য প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

২৩ বছর বয়সে ‘ক্রিকেটের মক্কা’ খ্যাত লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হয় এই ক্রিকেটারের। অভিষেক ইনিংসে শতক থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে ফিরতে হয় তাকে। নতুবা লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক টেস্টে অভিষেকেই সেঞ্চুরির জন্য অনার্স বোর্ডে নাম উঠতে পারতো দ্রাবিড়ের। একই বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় এই ক্রিকেটারের।

দীর্ঘ ১৫ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে ২০১১ সালে কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এর এক বছর পর টেস্ট থেকেও বিদায় নেন দ্রাবিড়। ক্যারিয়ারে মাত্র ১টি টি-টোয়েন্টি খেলেন দ্রাবিড়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে ম্যাচে ৩১ রান করেন ৪৭ বছর বয়সী দ্রাবিড়।

ক্যারিয়ার জুড়ে অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী দেখিয়েছেন দ্রাবিড়। ক্রিকেটিয় ব্যাকরণ মেনে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতেন ‘দ্যা ওয়াল’ খ্যাত দ্রাবিড়। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে জমাট ব্যাটিংয়ের জন্য সুনাম কুড়িয়েছেন এই তারকা ব্যাটসম্যান।

২০০৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৭০ রানের ইনিংস খেলার পর পাকিস্তানি পেসার শোয়েব আখতার তাকে নিয়ে বলেন, ‘শচীন নিঃসন্দেহে গ্রেট ব্যাটসম্যান। তারপরও আমার কাছে সবচেয়ে নিখুঁত মনে হয় দ্রাবিড়কে।

জমাট ব্যাটিং করে সে। শট খুব কম খেলে। যার কারণে তার খেলায় ভুল করার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই তাকে আউট করাও কঠিন হয়ে পড়ে।’

২০০৩ সালে বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের নাকানি-চুবানি খাওয়ান দ্রাবিড়। সে সিরিজে ১২৩ গড়ে সর্বোচ্চ ৬১৯ রান করেন ‘দ্যা ওয়াল’। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তার ২৩৩ রানে ভর করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় পায় ভারত।

সে সিরিজ শেষে অজিদের সব সেরা তারকা দ্রাবিড়কে প্রশংসা বাণে ভাসান। অজি ওপেনার ম্যাথু হেইডেন বলেন, ‘আমরা যেটাকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট বলে থাকি আসলে সেটি আক্রমণাত্মক নয়।

সত্যিকারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যদি চান, তাহলে ক্রিকেট মাঠে দ্রাবিড়ের চোখের ভাষা পড়ুন।’ আরেক কিংবদন্তি অজি ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন বলেন, ‘দ্যা ওয়াল নামটি তার সঙ্গে যায়। সে একবার মাঠে জমে গেলে। আপনি কামান এনেও তাকে আউট করার উপায় খুঁজে পাবেন না।’

রাহুল দ্রাবিড়, মাঠের খেলা থেকে অবসর নিলেও ক্রিকেট ছাড়েননি এই ক্রিকেটার। ব্যক্তিজীবনে প্রচন্ড নিয়মতান্ত্রিক দ্রাবিড় নিজের গুণ ছড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের বয়সভিত্তিক দলে। তার কোচিংয়ে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত।

বর্তমানে দেশটির ন্যাশনাল ক্রিকেট একাড়েমির ক্রিকেট অপারেশনের পরিচালক হিসেবে আছেন। তৃণমূল ক্রিকেটকে সুগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

টেস্টে ১৩ হাজার ও ওয়ানডেতে ১০ হাজারের অধিক রান করা দ্রাবিড় অনেক উদীয়মান ক্রিকেটারের আইডল। শচীন টেন্ডুলকারের বিশাল অর্জনের মাঝেও নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন এই ক্রিকেটার।

দলকে নির্ভরতা এনে দিয়েছেন পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে। ক্ষেত্র বিশেষে তাকে শচীনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়। তাইতো সমর্থকরা বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে শচীনকে ভাবা হয় ঈশ্বর। আর যখন ঈশ্বর ব্যর্থ হন তখন ভারতীয় ক্রিকেটকে ধরে রাখেন দ্যা ওয়াল, রাহুল শারদ দ্রাবিড়।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ঠিকাদার সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি গঠিত

আজ ৪৭তম শুভ জন্মদিন রাহুল দ্রাবিড়, ‘দ্যা ওয়াল’

প্রকাশিত : ০১:২০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২০

‘প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে আপনি তার উইকেট নেয়ার চেষ্টা করুন। যদি তাতে ব্যর্থ হোন। তাহলে বাকিদের উইকেট নেয়ার চেষ্টা করুন।’- রাহুল দ্রাবিড়কে নিয়ে এমন মন্তব্য ছিল সাবেক অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহের। ঠিক তাই, রাহুল দ্রাবিড় একবার মাঠে জমে গেলে তাকে আউট করা খুব কঠিন। টেস্ট ক্রিকেটে ৩১,২৫৮ বল খেলাই তার প্রমাণ।

তার চেয়ে ৩৬ টেস্ট বেশি খেলা শচীন টেন্ডুলকারও পারেনি টেস্টে ৩০ হাজার বল খেলতে। পারেনি টেস্ট ইতিহাসের অন্য কোনো ব্যাটসম্যানও। আজ এই ভারতীয় কিংবদন্তির ৪৭তম জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের আজকের দিনে মধ্য প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

২৩ বছর বয়সে ‘ক্রিকেটের মক্কা’ খ্যাত লর্ডসে টেস্ট অভিষেক হয় এই ক্রিকেটারের। অভিষেক ইনিংসে শতক থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে ফিরতে হয় তাকে। নতুবা লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক টেস্টে অভিষেকেই সেঞ্চুরির জন্য অনার্স বোর্ডে নাম উঠতে পারতো দ্রাবিড়ের। একই বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় এই ক্রিকেটারের।

দীর্ঘ ১৫ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে ২০১১ সালে কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এর এক বছর পর টেস্ট থেকেও বিদায় নেন দ্রাবিড়। ক্যারিয়ারে মাত্র ১টি টি-টোয়েন্টি খেলেন দ্রাবিড়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে ম্যাচে ৩১ রান করেন ৪৭ বছর বয়সী দ্রাবিড়।

ক্যারিয়ার জুড়ে অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী দেখিয়েছেন দ্রাবিড়। ক্রিকেটিয় ব্যাকরণ মেনে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতেন ‘দ্যা ওয়াল’ খ্যাত দ্রাবিড়। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে জমাট ব্যাটিংয়ের জন্য সুনাম কুড়িয়েছেন এই তারকা ব্যাটসম্যান।

২০০৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৭০ রানের ইনিংস খেলার পর পাকিস্তানি পেসার শোয়েব আখতার তাকে নিয়ে বলেন, ‘শচীন নিঃসন্দেহে গ্রেট ব্যাটসম্যান। তারপরও আমার কাছে সবচেয়ে নিখুঁত মনে হয় দ্রাবিড়কে।

জমাট ব্যাটিং করে সে। শট খুব কম খেলে। যার কারণে তার খেলায় ভুল করার সম্ভাবনা কমে যায়। তাই তাকে আউট করাও কঠিন হয়ে পড়ে।’

২০০৩ সালে বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের নাকানি-চুবানি খাওয়ান দ্রাবিড়। সে সিরিজে ১২৩ গড়ে সর্বোচ্চ ৬১৯ রান করেন ‘দ্যা ওয়াল’। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তার ২৩৩ রানে ভর করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় পায় ভারত।

সে সিরিজ শেষে অজিদের সব সেরা তারকা দ্রাবিড়কে প্রশংসা বাণে ভাসান। অজি ওপেনার ম্যাথু হেইডেন বলেন, ‘আমরা যেটাকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট বলে থাকি আসলে সেটি আক্রমণাত্মক নয়।

সত্যিকারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যদি চান, তাহলে ক্রিকেট মাঠে দ্রাবিড়ের চোখের ভাষা পড়ুন।’ আরেক কিংবদন্তি অজি ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন বলেন, ‘দ্যা ওয়াল নামটি তার সঙ্গে যায়। সে একবার মাঠে জমে গেলে। আপনি কামান এনেও তাকে আউট করার উপায় খুঁজে পাবেন না।’

রাহুল দ্রাবিড়, মাঠের খেলা থেকে অবসর নিলেও ক্রিকেট ছাড়েননি এই ক্রিকেটার। ব্যক্তিজীবনে প্রচন্ড নিয়মতান্ত্রিক দ্রাবিড় নিজের গুণ ছড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের বয়সভিত্তিক দলে। তার কোচিংয়ে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত।

বর্তমানে দেশটির ন্যাশনাল ক্রিকেট একাড়েমির ক্রিকেট অপারেশনের পরিচালক হিসেবে আছেন। তৃণমূল ক্রিকেটকে সুগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

টেস্টে ১৩ হাজার ও ওয়ানডেতে ১০ হাজারের অধিক রান করা দ্রাবিড় অনেক উদীয়মান ক্রিকেটারের আইডল। শচীন টেন্ডুলকারের বিশাল অর্জনের মাঝেও নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন এই ক্রিকেটার।

দলকে নির্ভরতা এনে দিয়েছেন পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে। ক্ষেত্র বিশেষে তাকে শচীনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয়। তাইতো সমর্থকরা বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে শচীনকে ভাবা হয় ঈশ্বর। আর যখন ঈশ্বর ব্যর্থ হন তখন ভারতীয় ক্রিকেটকে ধরে রাখেন দ্যা ওয়াল, রাহুল শারদ দ্রাবিড়।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান