০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

একনেকে ছয় হাজার ২৭৬ কোটি টাকার নয় প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ ব্রিফিংয়ে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

নয় প্রকল্পের মধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীর রাস্তায় চাপ কমানোর লক্ষ্যে রাজধানীর হারিরঝিল ও রামপুরা সেতু থেকে বনশ্রী, শেখের জায়গা ও আমুলিয়া হয়ে ডেমরা পর্যন্ত সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রস্তাবিত এ সড়কের কাজ শেষ করতে ১ হাজার ২০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে একটি সহায়ক প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাইপাস এ সড়কটি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি অনুমোদন পেলে সিলেট ও চট্টগ্রামবাসীর জন্য খুবই ভালো হবে। কোনো জটলা ছাড়াই ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে পারবো আমরা। গুরুত্বসহকারে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী জানান, অর্থ দিয়ে প্রকল্প এলাকার জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পরামর্শক ও স্বাধীন প্রকৌশল পরামর্শক সেবার মাধ্যমে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সামগ্রী, ভাড়াভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৭২ জন সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ সফর করবেন। তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের আগে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ সভায় অনুমোদিত ৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। এর বাইরে অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫৮ কোটি ৮৫ কোটি টাকা। মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ১৪৭ কোটি, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার আওতাধীন সুরমা নদীর ডান তীরে অবস্থিত দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, লক্ষীবাউর ও বেতুরা এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া অনুমোদন পাওয়া মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদীতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, হাতিরঝিল সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত এ সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত হলে প্রতিদিন এটি দিয়ে ১১ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। মহাসড়কটি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগর চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ অন্য জেলার সংযোগ ঘটাবে। প্রস্তাবিত র‍্যুটটি গুলশান, বাড্ডা, ফার্মগেট, তেজগাঁও, বনানী, রামপুরা ও উত্তরার যানবাহনও আকৃষ্ট করবে। এছাড়া, এটি দুই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গেও সংযুক্ত হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৮০০ কোটি টাকার জমি ৪০০ কোটিতে বিক্রির ছক: স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

একনেকে ছয় হাজার ২৭৬ কোটি টাকার নয় প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত : ০৪:৫১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ ব্রিফিংয়ে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

নয় প্রকল্পের মধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীর রাস্তায় চাপ কমানোর লক্ষ্যে রাজধানীর হারিরঝিল ও রামপুরা সেতু থেকে বনশ্রী, শেখের জায়গা ও আমুলিয়া হয়ে ডেমরা পর্যন্ত সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রস্তাবিত এ সড়কের কাজ শেষ করতে ১ হাজার ২০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে একটি সহায়ক প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাইপাস এ সড়কটি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি অনুমোদন পেলে সিলেট ও চট্টগ্রামবাসীর জন্য খুবই ভালো হবে। কোনো জটলা ছাড়াই ঢাকা থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে পারবো আমরা। গুরুত্বসহকারে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী জানান, অর্থ দিয়ে প্রকল্প এলাকার জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পরামর্শক ও স্বাধীন প্রকৌশল পরামর্শক সেবার মাধ্যমে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সামগ্রী, ভাড়াভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৭২ জন সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ সফর করবেন। তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের আগে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ সভায় অনুমোদিত ৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। এর বাইরে অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫৮ কোটি ৮৫ কোটি টাকা। মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ১৪৭ কোটি, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার আওতাধীন সুরমা নদীর ডান তীরে অবস্থিত দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, লক্ষীবাউর ও বেতুরা এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া অনুমোদন পাওয়া মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদীতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, হাতিরঝিল সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবিত এ সড়কটি ফোর লেনে উন্নীত হলে প্রতিদিন এটি দিয়ে ১১ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। মহাসড়কটি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগর চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ অন্য জেলার সংযোগ ঘটাবে। প্রস্তাবিত র‍্যুটটি গুলশান, বাড্ডা, ফার্মগেট, তেজগাঁও, বনানী, রামপুরা ও উত্তরার যানবাহনও আকৃষ্ট করবে। এছাড়া, এটি দুই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গেও সংযুক্ত হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ