০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুপিয়ে জখম, অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের লোকজনকে কুপিয়ে জখম এবং বাদীর ছোট ভাইয়ের কব্জি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রনির বোন জোসনা আক্তার বাদী হয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও তার সহযোগীদের নাম

উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হামলার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামে আট বছর আগে খুন হন আব্দুর রব মিয়া। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মাঈনউদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার আব্দুল্লাহ নামের ওই মামলার এক আসামিকে গ্রেফতর করে পুলিশ।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ইয়ানুছ আলী, রাসেল, জুয়েল, জাকির, আলী হোসেন, হালিম ও আলামিনসহ ১৫-১৬ জন ক্যাডার দেশিয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় তারা মামলার বাদী মাঈন উদ্দিনের ঘরে প্রবেশ তাকে, তার স্ত্রী, ছোট ভাই মোহাম্মদ রনি ও মা জাহানারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। তাদের হামলায় রনির বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই দিনই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হামলাকারীরা মিমাংসার নামে বাদীর লোকজনকে মামলা না করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। বুধবার হামলাকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে থানায় গিয়ে রনির বোন জোসনা আক্তার একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ সেটি মামলা আকারে নথিভুক্ত করে।

রনির ছোট ভাই রাজীব বলেন, সাদ্দামের নেতৃত্বে প্রায় ১৫-১৬ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় তারা কুপিয়ে পরিবারের লোকজনকে জখম করে এবং ধারালো অস্ত্রের কোপে রনির হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এদিকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এই হামলার সঙ্গে জড়িত নই। ঘটনার সময় আমি একটি মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদে গিয়েছিলাম। আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হচ্ছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের পক্ষ এ ব্যপারে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুপিয়ে জখম, অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত : ০৮:০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের লোকজনকে কুপিয়ে জখম এবং বাদীর ছোট ভাইয়ের কব্জি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রনির বোন জোসনা আক্তার বাদী হয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও তার সহযোগীদের নাম

উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হামলার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামে আট বছর আগে খুন হন আব্দুর রব মিয়া। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মাঈনউদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার আব্দুল্লাহ নামের ওই মামলার এক আসামিকে গ্রেফতর করে পুলিশ।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ইয়ানুছ আলী, রাসেল, জুয়েল, জাকির, আলী হোসেন, হালিম ও আলামিনসহ ১৫-১৬ জন ক্যাডার দেশিয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় তারা মামলার বাদী মাঈন উদ্দিনের ঘরে প্রবেশ তাকে, তার স্ত্রী, ছোট ভাই মোহাম্মদ রনি ও মা জাহানারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। তাদের হামলায় রনির বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই দিনই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হামলাকারীরা মিমাংসার নামে বাদীর লোকজনকে মামলা না করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। বুধবার হামলাকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে থানায় গিয়ে রনির বোন জোসনা আক্তার একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ সেটি মামলা আকারে নথিভুক্ত করে।

রনির ছোট ভাই রাজীব বলেন, সাদ্দামের নেতৃত্বে প্রায় ১৫-১৬ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় তারা কুপিয়ে পরিবারের লোকজনকে জখম করে এবং ধারালো অস্ত্রের কোপে রনির হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এদিকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এই হামলার সঙ্গে জড়িত নই। ঘটনার সময় আমি একটি মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদে গিয়েছিলাম। আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হচ্ছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করায় বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের পক্ষ এ ব্যপারে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর