০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

করোনায় মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতে যারা

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যেসব রোগী আগে থেকেই হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন। এমনটাই জানিয়েছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া চীনের শীর্ষস্থানীয় এক চিকিৎসক, যিনি গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে উহানের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

যদিও এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এখনও কোনো গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে চীনের উহানে কর্মরত চিকিৎসকরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভোগা কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে দ্রুতই তার অবস্থার অবনতি হওয়ার এবং মারা যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর জানুয়ারিতে সেখানে মারা যাওয়া ১৭০ জন রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এদের প্রায় অর্ধেকই হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন।

এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে উহানের পিকিং ইউনিয়ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের পরিচালক দু বিন ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এক্ষেত্রে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।’ দুই মাস আগে উহানে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আক্রান্তদের চিকিৎসায় শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত যে দলটিকে সেখানে পাঠানো হয়, সেই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ড. দু বিন।

তিনি বলেন, ‘অন্য চিকিৎসকদের কাছ থেকে যা শুনেছি এবং আমি নিজে যেসব উপাত্ত দেখেছি, তাতে অন্তর্নিহিত যত রোগ রয়েছে তার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপই সবচেয়ে বিপজ্জনক। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো গবেষণা প্রকাশ হয়নি, তবে আমরা বিশ্বাস করি, হাইপারটেনশন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অবস্থার অবনতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং রোগীকে খারাপ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।’

ড. দু বিনের মতে, করোনাভাইরাসে মৃত্যু ঠেকাতে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও যারা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত তাদের জন্য দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা উচিত। এর পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের জন্য আশার বাণীও শুনিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুরা শারীরিকভাবে ঝুঁকির মুখে থাকলেও এদের তেমন মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যতদূর জানি, করোনভাইরাসে আক্রান্ত হলেও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অবস্থা খুব একটা খারাপের দিকে যায় না। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন, তবে এক্ষেত্রে নয়।’

শিশুদের প্রসঙ্গে ড. দু বিন বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রেও খুব স্বল্প মাত্রায় লক্ষণ প্রকাশ পায়। এ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার মতো খারাপ অবস্থায় যেতে দেখেননি বলেও জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ আরিফ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১২ ফেব্রুয়া‌রির নির্বাচন স্বাধীনতা রক্ষা করার নির্বাচন

করোনায় মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতে যারা

প্রকাশিত : ০৭:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যেসব রোগী আগে থেকেই হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন। এমনটাই জানিয়েছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া চীনের শীর্ষস্থানীয় এক চিকিৎসক, যিনি গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে উহানের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

যদিও এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এখনও কোনো গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে চীনের উহানে কর্মরত চিকিৎসকরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভোগা কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে দ্রুতই তার অবস্থার অবনতি হওয়ার এবং মারা যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর জানুয়ারিতে সেখানে মারা যাওয়া ১৭০ জন রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এদের প্রায় অর্ধেকই হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন।

এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে উহানের পিকিং ইউনিয়ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের পরিচালক দু বিন ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এক্ষেত্রে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।’ দুই মাস আগে উহানে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আক্রান্তদের চিকিৎসায় শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত যে দলটিকে সেখানে পাঠানো হয়, সেই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ড. দু বিন।

তিনি বলেন, ‘অন্য চিকিৎসকদের কাছ থেকে যা শুনেছি এবং আমি নিজে যেসব উপাত্ত দেখেছি, তাতে অন্তর্নিহিত যত রোগ রয়েছে তার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপই সবচেয়ে বিপজ্জনক। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো গবেষণা প্রকাশ হয়নি, তবে আমরা বিশ্বাস করি, হাইপারটেনশন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অবস্থার অবনতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং রোগীকে খারাপ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।’

ড. দু বিনের মতে, করোনাভাইরাসে মৃত্যু ঠেকাতে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও যারা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত তাদের জন্য দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা উচিত। এর পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের জন্য আশার বাণীও শুনিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুরা শারীরিকভাবে ঝুঁকির মুখে থাকলেও এদের তেমন মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যতদূর জানি, করোনভাইরাসে আক্রান্ত হলেও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অবস্থা খুব একটা খারাপের দিকে যায় না। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন, তবে এক্ষেত্রে নয়।’

শিশুদের প্রসঙ্গে ড. দু বিন বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রেও খুব স্বল্প মাত্রায় লক্ষণ প্রকাশ পায়। এ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার মতো খারাপ অবস্থায় যেতে দেখেননি বলেও জানান তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ আরিফ