০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কালীগঞ্জের ঘর থেকে প্রশাসনের চেয়ারে: সুমী আক্তারের অনুপ্রেরণার গল্প

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া সুমী আক্তার আজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত-তিনি ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে গেজেটেড হয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে এবারের বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে একমাত্র নির্বাচিত নারী তিনি, যা এ অঞ্চলের নারীদের জন্য এক অনন্য গর্বের অর্জন।

শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে সুমী আক্তার রেখে গেছেন উজ্জ্বল সাফল্যের ছাপ। ২০১১ সালে কালীগঞ্জের সেন্ট মেরিজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০১৩ সালে ঢাকার উত্তরার হলি চাইল্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্সে সিজিপিএ ৩.৯৩/৪.০০ এবং মাস্টার্সে সিজিপিএ ৪.০০/৪.০০ পেয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে।
অনার্স ও মাস্টার্সে অসামান্য ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন সম্মানজনক “ডিনস অ্যাওয়ার্ড”।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে মেধাক্রম ৩য় হয়ে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তবে লক্ষ্য ছিল প্রশাসন ক্যাডার। সেই লক্ষ্য পূরণে নিরলস প্রস্তুতির ফল হিসেবে ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে মেধাক্রম ৪৩ অর্জন করে চূড়ান্তভাবে গেজেটেড হন তিনি।

সুমী আক্তার বক্তারপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লা ও জরিনা বেগম দম্পতির সন্তান। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের মা। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং কালীগঞ্জ পৌর এলাকার গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। সুমীর জন্মগ্রাম বক্তারপুর হলেও তাঁর শ্বশুরবাড়ি গোলাবাড়ি গ্রামে।

নিজের সাফল্য সম্পর্কে সুমী আক্তার বলেন,“মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অশেষ শুকরিয়া। আলহামদুলিল্লাহ! নিজের নামের পাশে ‘সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ লেখার স্বপ্ন আজ পূর্ণ হলো। ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা-সবই আমার বিয়ের পরের ঘটনা। তাই এই অর্জনের সবচেয়ে বড় অংশীদার আমার স্বামী। আমি যখন মেয়ের জন্মের পর হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম, তখনও সে আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা-বাবা, শাশুড়ি মা, ছোট বোন, আমার মেয়ে এবং যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন-সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তাদের ভালোবাসাই আমার পথ সহজ করেছে।”

সুমী আক্তারের জীবনগাথা প্রমাণ করে-নারী, মা কিংবা স্ত্রী হওয়া কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এগুলোই হতে পারে সাফল্যের দৃঢ় ভিত্তি। প্রতিকূলতার মাঝেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরলে তা একদিন বাস্তবে রূপ নেয়-ঠিক যেমন কালীগঞ্জের এক মেয়ের নামের পাশে আজ যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পরিচয়।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শাটডাউন ও কর্মবিরতি

কালীগঞ্জের ঘর থেকে প্রশাসনের চেয়ারে: সুমী আক্তারের অনুপ্রেরণার গল্প

প্রকাশিত : ০৫:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া সুমী আক্তার আজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত-তিনি ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে গেজেটেড হয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে এবারের বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে একমাত্র নির্বাচিত নারী তিনি, যা এ অঞ্চলের নারীদের জন্য এক অনন্য গর্বের অর্জন।

শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে সুমী আক্তার রেখে গেছেন উজ্জ্বল সাফল্যের ছাপ। ২০১১ সালে কালীগঞ্জের সেন্ট মেরিজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০১৩ সালে ঢাকার উত্তরার হলি চাইল্ড কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্সে সিজিপিএ ৩.৯৩/৪.০০ এবং মাস্টার্সে সিজিপিএ ৪.০০/৪.০০ পেয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে।
অনার্স ও মাস্টার্সে অসামান্য ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন সম্মানজনক “ডিনস অ্যাওয়ার্ড”।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে মেধাক্রম ৩য় হয়ে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তবে লক্ষ্য ছিল প্রশাসন ক্যাডার। সেই লক্ষ্য পূরণে নিরলস প্রস্তুতির ফল হিসেবে ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে মেধাক্রম ৪৩ অর্জন করে চূড়ান্তভাবে গেজেটেড হন তিনি।

সুমী আক্তার বক্তারপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লা ও জরিনা বেগম দম্পতির সন্তান। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের মা। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং কালীগঞ্জ পৌর এলাকার গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। সুমীর জন্মগ্রাম বক্তারপুর হলেও তাঁর শ্বশুরবাড়ি গোলাবাড়ি গ্রামে।

নিজের সাফল্য সম্পর্কে সুমী আক্তার বলেন,“মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অশেষ শুকরিয়া। আলহামদুলিল্লাহ! নিজের নামের পাশে ‘সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ লেখার স্বপ্ন আজ পূর্ণ হলো। ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা-সবই আমার বিয়ের পরের ঘটনা। তাই এই অর্জনের সবচেয়ে বড় অংশীদার আমার স্বামী। আমি যখন মেয়ের জন্মের পর হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম, তখনও সে আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা-বাবা, শাশুড়ি মা, ছোট বোন, আমার মেয়ে এবং যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন-সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তাদের ভালোবাসাই আমার পথ সহজ করেছে।”

সুমী আক্তারের জীবনগাথা প্রমাণ করে-নারী, মা কিংবা স্ত্রী হওয়া কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এগুলোই হতে পারে সাফল্যের দৃঢ় ভিত্তি। প্রতিকূলতার মাঝেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরলে তা একদিন বাস্তবে রূপ নেয়-ঠিক যেমন কালীগঞ্জের এক মেয়ের নামের পাশে আজ যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পরিচয়।

ডিএস./