০৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

উপবৃত্তির টাকা দিয়ে ২০০ মানুষকে খাবার দিল অষ্টম শ্রেণির সিনথিয়া

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার কর্মহীন ২০০ শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনথিয়া।

স্থানীয়রা জানায়, নেত্রকোনা সদর উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের জুয়েল ভাণ্ডারীর কন্যা সিনথিয়া আক্তার। সে স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। আশপাশের খেটে খাওয়া মানুষের অভাব অনটন দেখে তার বাবা জুয়েল ভাণ্ডারীকে বলেন, মানুষের জন্য কিছু করার। বাবা-মায়ের দেয়া জমানো টাকাসহ স্কুলের উপবৃত্তির জমানো টাকায় বাবাকে নিয়ে চাল ডালসহ কিছু ত্রাণসামগ্রী ক্রয় করেন। স্থানীয় ২০০ জন হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের তালিকা করে তাদের কাছে তা পৌঁছে দেয় সিনথিয়া।

ওই গ্রামের আয়েশা খাতুন (৭০) নামে একজন বৃদ্ধা জানান, এমন সময়ে এ ত্রাণ পেয়ে খুবই খুশি। ছোট্ট শিশু যদি ২০০ জনকে ত্রাণ দিতে পারে তাহলে সমাজের বিত্তবানরা কী করে? জনপ্রতিনিধিরা কোথায় আছে।

স্কুলছাত্রী সিনথিয়ার বাবা জুয়েল ভাণ্ডারী বলেন, মেয়ের আবদার করে কিছু টাকা দিতে। এই টাকা দিয়ে সে এমন কাজ করবে ভাবিনি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। আর দেশের এমন সময়ে মেয়ের উছিলায় মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে আল্লাহর নিকট অনেক শুকরিয়া জানাই। মেয়ের জমানো উপবৃত্তির টাকার সঙ্গে তিনি নিজের হাত থেকে আরও কিছু টাকা যোগ করে ২০০ মানুষের জন্য এ আয়োজন করেন।

বাংলা কৃষ্ণ গোবিন্দ উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনথিয়া আক্তার জানায়, শুধু দেশের নয়, সারা বিশ্বের পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। এ সময় মানুষ খাবারসহ নানারকম দুর্ভোগে পড়েছে। দেশের সব বিত্তবান মানুষকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধও করেন শিক্ষার্থী সিনথিয়া।

এ বিষয়ে নেত্রকোনার সংরক্ষিত আসনের এমপি হাবিবা রহমান খান শেফালী জানান, সিনথিয়ার কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। প্রায় সব শিক্ষার্থীই উপবৃত্তির টাকা দিয়ে নিজের জামা কাপড় কিংবা খাতা-কলম কিনতে খরচ করে। সে নিজের জমানো টাকা দিয়ে যে কাজটা করেছে তার কাছ থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, এই ছোট্ট বাচ্চা একটা মেয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তা দেখে সমাজের বিত্তবানরা উদ্বুদ্ধ হোক। ভালো থাকুক সিনথিয়া। তার মতোই নতুন প্রজন্মরা এমন আরও ভালো কাজে এগিয়ে আসুক। ওদের হাতেই আসুক ভবিষ্যতের নেতৃত্ব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে পিকআপ চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

উপবৃত্তির টাকা দিয়ে ২০০ মানুষকে খাবার দিল অষ্টম শ্রেণির সিনথিয়া

প্রকাশিত : ১০:৫২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার কর্মহীন ২০০ শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনথিয়া।

স্থানীয়রা জানায়, নেত্রকোনা সদর উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের জুয়েল ভাণ্ডারীর কন্যা সিনথিয়া আক্তার। সে স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। আশপাশের খেটে খাওয়া মানুষের অভাব অনটন দেখে তার বাবা জুয়েল ভাণ্ডারীকে বলেন, মানুষের জন্য কিছু করার। বাবা-মায়ের দেয়া জমানো টাকাসহ স্কুলের উপবৃত্তির জমানো টাকায় বাবাকে নিয়ে চাল ডালসহ কিছু ত্রাণসামগ্রী ক্রয় করেন। স্থানীয় ২০০ জন হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের তালিকা করে তাদের কাছে তা পৌঁছে দেয় সিনথিয়া।

ওই গ্রামের আয়েশা খাতুন (৭০) নামে একজন বৃদ্ধা জানান, এমন সময়ে এ ত্রাণ পেয়ে খুবই খুশি। ছোট্ট শিশু যদি ২০০ জনকে ত্রাণ দিতে পারে তাহলে সমাজের বিত্তবানরা কী করে? জনপ্রতিনিধিরা কোথায় আছে।

স্কুলছাত্রী সিনথিয়ার বাবা জুয়েল ভাণ্ডারী বলেন, মেয়ের আবদার করে কিছু টাকা দিতে। এই টাকা দিয়ে সে এমন কাজ করবে ভাবিনি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। আর দেশের এমন সময়ে মেয়ের উছিলায় মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে আল্লাহর নিকট অনেক শুকরিয়া জানাই। মেয়ের জমানো উপবৃত্তির টাকার সঙ্গে তিনি নিজের হাত থেকে আরও কিছু টাকা যোগ করে ২০০ মানুষের জন্য এ আয়োজন করেন।

বাংলা কৃষ্ণ গোবিন্দ উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনথিয়া আক্তার জানায়, শুধু দেশের নয়, সারা বিশ্বের পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। এ সময় মানুষ খাবারসহ নানারকম দুর্ভোগে পড়েছে। দেশের সব বিত্তবান মানুষকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধও করেন শিক্ষার্থী সিনথিয়া।

এ বিষয়ে নেত্রকোনার সংরক্ষিত আসনের এমপি হাবিবা রহমান খান শেফালী জানান, সিনথিয়ার কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। প্রায় সব শিক্ষার্থীই উপবৃত্তির টাকা দিয়ে নিজের জামা কাপড় কিংবা খাতা-কলম কিনতে খরচ করে। সে নিজের জমানো টাকা দিয়ে যে কাজটা করেছে তার কাছ থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, এই ছোট্ট বাচ্চা একটা মেয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তা দেখে সমাজের বিত্তবানরা উদ্বুদ্ধ হোক। ভালো থাকুক সিনথিয়া। তার মতোই নতুন প্রজন্মরা এমন আরও ভালো কাজে এগিয়ে আসুক। ওদের হাতেই আসুক ভবিষ্যতের নেতৃত্ব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান