০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যে কারণে ঘূর্ণিঝড়ে বড় জাহাজকে সাগরে পাঠানো হয়

আবহাওয়া অফিস বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত দেখালেই বন্দরের জেটিতে থাকা বড় বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ছোট ছোট জাহাজ, ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়।

সাধারণ মানুষের কাছে বড় জাহাজকে বিপদের সময় গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া ‘অমানবিক আচরণ’ মনে হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ কাজটি করে জাহাজের নিরাপত্তা ও ক্ষতি কমানোর জন্য।

আম্পানের কারণে এবারও মঙ্গলবার (১৯ মে) বন্দরের জেটিতে থাকা ১৯টি জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভ্যাসেলগুলো (বড় জাহাজ) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার উপকূলের গভীর সাগরে। মাঝারি আকারের জাহাজ পাঠানো হয়েছে সাগরের কুতুবদিয়া অংশে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টা থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে দেখাতে বলা হয়েছে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমানের বড় জাহাজ সাগরে পাঠানো প্রসঙ্গে বলেন, অনেকের মনে আছে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর মাঝখানের একটি অংশ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলো একটি বড় জাহাজ। এটি একটি অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি জেটিতে বাঁধা বড় জাহাজগুলো প্রচণ্ড ঝড়ে রশি ছিঁড়ে একটি আরেকটির ওপর আছড়ে পড়লে, ধাক্কা দিলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে। বন্দর চ্যানেলে যদি কোনো জাহাজ ডুবে যায় তবে বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সবচেয়ে বড় কথা মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) হচ্ছে কৃত্রিম বা প্রটেকটেড হারবার না থাকলে বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া। চট্টগ্রাম বন্দরে আছে ন্যাচারাল হারবার, এটি প্রকৃতির দান।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে জাহাজ আছড়ে পড়ে ভেঙে যায় শাহ আমানত সেতু। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বলছে-জাহাজ নিরাপদ সাগরে। সুপার সাইক্লোনে বা হেভিং টো হলে সাগরে জাহাজ ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারবে, ঢেউ চলে যাওয়ার পর পানিতে আছড়ে পড়বে কিন্তু ডুবে যাবে না।

উন্নত দেশে যেমন চীনে ডাজিয়া নামে একটি হারবার আছে, পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। ঘূর্ণিঝড়ের সময় জাহাজগুলো সেখানে আশ্রয় নেয়। আমিও একবার জাহাজসহ আশ্রয় নিয়েছিলাম। হাওয়াই দ্বীপে আছে ল্যান্ড লক এরিয়া। আমাদের নেই। তাই আমরা জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য সাগরে পাঠিয়ে দিয়ে থাকি। সাধারণ মানুষের কাছে যা অমানবিক। যোগ করেন ক্যাপ্টেন ফরিদুল।

তিনি বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি সব জাহাজকে ফুল ইঞ্জিন চালু রাখতে। বড় জাহাজগুলোতে দুইটি ইঞ্জিন থাকে। দুইটি যদি চালু থাকে তবে ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে জাহাজগুলো। এ সময় ৩-৪ নট গতিতে জাহাজ চালানো হয়। যাতে ঝড়ের সঙ্গে জাহাজের ভারসাম্য ঠিক রেখে অবস্থান ধরে রাখা যায়।

যদি বড় জাহাজগুলো গভীর সাগরে না পাঠিয়ে বহির্নোঙরে রেখে দেওয়া হতো তাহলে সমস্যা হতো। বহির্নোঙরে সাধারণ গভীরতা বা ড্রাফট ১০-১২ মিটার। জোয়ারের সময় যখন ১০-১২ ফুট জলোচ্ছ্বাস হবে তখন বড় ঢেউ যখন জাহাজকে উপরে তুলবে এবং ঢেউ চলে যাওয়ার পর নিচে নামবে তখন তলা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গভীর সাগরে পাঠানো হচ্ছে-যেখানে গভীরতা ২-৫ হাজার মিটার।

বিজনেস বাংলাদেশ / শেখ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণপাড়া কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

যে কারণে ঘূর্ণিঝড়ে বড় জাহাজকে সাগরে পাঠানো হয়

প্রকাশিত : ০১:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২০

আবহাওয়া অফিস বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত দেখালেই বন্দরের জেটিতে থাকা বড় বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ছোট ছোট জাহাজ, ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়।

সাধারণ মানুষের কাছে বড় জাহাজকে বিপদের সময় গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া ‘অমানবিক আচরণ’ মনে হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ কাজটি করে জাহাজের নিরাপত্তা ও ক্ষতি কমানোর জন্য।

আম্পানের কারণে এবারও মঙ্গলবার (১৯ মে) বন্দরের জেটিতে থাকা ১৯টি জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভ্যাসেলগুলো (বড় জাহাজ) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার উপকূলের গভীর সাগরে। মাঝারি আকারের জাহাজ পাঠানো হয়েছে সাগরের কুতুবদিয়া অংশে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টা থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে দেখাতে বলা হয়েছে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমানের বড় জাহাজ সাগরে পাঠানো প্রসঙ্গে বলেন, অনেকের মনে আছে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর মাঝখানের একটি অংশ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলো একটি বড় জাহাজ। এটি একটি অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি জেটিতে বাঁধা বড় জাহাজগুলো প্রচণ্ড ঝড়ে রশি ছিঁড়ে একটি আরেকটির ওপর আছড়ে পড়লে, ধাক্কা দিলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে। বন্দর চ্যানেলে যদি কোনো জাহাজ ডুবে যায় তবে বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সবচেয়ে বড় কথা মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) হচ্ছে কৃত্রিম বা প্রটেকটেড হারবার না থাকলে বড় জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া। চট্টগ্রাম বন্দরে আছে ন্যাচারাল হারবার, এটি প্রকৃতির দান।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে জাহাজ আছড়ে পড়ে ভেঙে যায় শাহ আমানত সেতু। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বলছে-জাহাজ নিরাপদ সাগরে। সুপার সাইক্লোনে বা হেভিং টো হলে সাগরে জাহাজ ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারবে, ঢেউ চলে যাওয়ার পর পানিতে আছড়ে পড়বে কিন্তু ডুবে যাবে না।

উন্নত দেশে যেমন চীনে ডাজিয়া নামে একটি হারবার আছে, পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। ঘূর্ণিঝড়ের সময় জাহাজগুলো সেখানে আশ্রয় নেয়। আমিও একবার জাহাজসহ আশ্রয় নিয়েছিলাম। হাওয়াই দ্বীপে আছে ল্যান্ড লক এরিয়া। আমাদের নেই। তাই আমরা জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য সাগরে পাঠিয়ে দিয়ে থাকি। সাধারণ মানুষের কাছে যা অমানবিক। যোগ করেন ক্যাপ্টেন ফরিদুল।

তিনি বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি সব জাহাজকে ফুল ইঞ্জিন চালু রাখতে। বড় জাহাজগুলোতে দুইটি ইঞ্জিন থাকে। দুইটি যদি চালু থাকে তবে ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে জাহাজগুলো। এ সময় ৩-৪ নট গতিতে জাহাজ চালানো হয়। যাতে ঝড়ের সঙ্গে জাহাজের ভারসাম্য ঠিক রেখে অবস্থান ধরে রাখা যায়।

যদি বড় জাহাজগুলো গভীর সাগরে না পাঠিয়ে বহির্নোঙরে রেখে দেওয়া হতো তাহলে সমস্যা হতো। বহির্নোঙরে সাধারণ গভীরতা বা ড্রাফট ১০-১২ মিটার। জোয়ারের সময় যখন ১০-১২ ফুট জলোচ্ছ্বাস হবে তখন বড় ঢেউ যখন জাহাজকে উপরে তুলবে এবং ঢেউ চলে যাওয়ার পর নিচে নামবে তখন তলা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গভীর সাগরে পাঠানো হচ্ছে-যেখানে গভীরতা ২-৫ হাজার মিটার।

বিজনেস বাংলাদেশ / শেখ