০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে অংশীজনদের নিয়ে কর্মশালা, ভবদহের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ভবদহের সমস্যা টিআরএমের মধ্যে লুকায়িত রয়েছে। কিন্তু টিআরএম বাস্তবায়নে আস্থার সংকট রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ সঠিকভাবে দিয়ে আস্থায় নিলে দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে। যেহেতু এ সমস্যার সমাধান আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গিকার। তাই এ কাজ শেষ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় সরকার।

যশোরের অভিশাপখ্যাত ভবদহ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকার পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আজ শনিবার সকালে যশোর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সহযোগিতায় এই মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাপাউবো-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক নাজরিন আক্তার খান এবং সমীক্ষা প্রকল্পের বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন আইডব্লিউএম এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান।

কর্মশালায় জানানো হয়,ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা হওয়া এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েক যুগ ধরে এই অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অতীতে টিআরএম কার্যক্রমের মাধ্যমে সুফল পাওয়া গেলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে। ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরের ওপর ২০টি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন করা হলেও ২০২৪ সালের অতিবর্ষণজনিত বন্যা প্রমাণ করে যে এই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আইডব্লিউএম (IWM)-কে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কর্মশালায় আরো জানানো হয়, এই সমীক্ষাটির আওতায় যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা সমীক্ষা চালানো হয়। প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এই প্রকল্প এলাকায় নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য পৃথকভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্য রয়েছে বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল খনন, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন ও পাইলট চ্যানেল খনন, নদীর সঙ্গে বিল সংযুক্ত করে পুনরায় টিআরএম চালু করা, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্তকরণ, ভবদহ রেগুলেটরকে ‘সেতু’ দ্বারা প্রতিস্থাপন করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার রেগুলেটর মেরামত ও স্থাপন করা।

কর্মশালায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় এই প্রস্তাবিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়িত হলে ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিশাপ এই জলাবদ্ধতা এবং নদীতে পলি জমার সমস্যার একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাছুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিম আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাপাউবো এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ রূহুল আমিন।

কর্মশালায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জনগণকে দেওয়া ওয়াদা বিএনপি পূরণ করে: প্রধানমন্ত্রী

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে অংশীজনদের নিয়ে কর্মশালা, ভবদহের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ভবদহের সমস্যা টিআরএমের মধ্যে লুকায়িত রয়েছে। কিন্তু টিআরএম বাস্তবায়নে আস্থার সংকট রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ সঠিকভাবে দিয়ে আস্থায় নিলে দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে। যেহেতু এ সমস্যার সমাধান আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গিকার। তাই এ কাজ শেষ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় সরকার।

যশোরের অভিশাপখ্যাত ভবদহ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকার পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আজ শনিবার সকালে যশোর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সহযোগিতায় এই মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাপাউবো-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক নাজরিন আক্তার খান এবং সমীক্ষা প্রকল্পের বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন আইডব্লিউএম এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান।

কর্মশালায় জানানো হয়,ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা হওয়া এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েক যুগ ধরে এই অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অতীতে টিআরএম কার্যক্রমের মাধ্যমে সুফল পাওয়া গেলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে। ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরের ওপর ২০টি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন করা হলেও ২০২৪ সালের অতিবর্ষণজনিত বন্যা প্রমাণ করে যে এই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আইডব্লিউএম (IWM)-কে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কর্মশালায় আরো জানানো হয়, এই সমীক্ষাটির আওতায় যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা সমীক্ষা চালানো হয়। প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এই প্রকল্প এলাকায় নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য পৃথকভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্য রয়েছে বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল খনন, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন ও পাইলট চ্যানেল খনন, নদীর সঙ্গে বিল সংযুক্ত করে পুনরায় টিআরএম চালু করা, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্তকরণ, ভবদহ রেগুলেটরকে ‘সেতু’ দ্বারা প্রতিস্থাপন করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার রেগুলেটর মেরামত ও স্থাপন করা।

কর্মশালায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় এই প্রস্তাবিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়িত হলে ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিশাপ এই জলাবদ্ধতা এবং নদীতে পলি জমার সমস্যার একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাছুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিম আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাপাউবো এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ রূহুল আমিন।

কর্মশালায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ডিএস./