মিরসরাইয়ে ইয়াবা বহন করতে রাজী না হওয়ায় এক সিএনজি-অটোরিক্সা চালক ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে বুধবার (১জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক মিঠাছড়া-বামনসুন্দর সড়কে গাড়ী চলাচল বন্ধ রেখেছে স্থানিয় অটোরিক্সা চালক সমিতি। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো যাত্রী। ওই এলাকার ৭টি রুটে প্রায় ২৫০ অটোরিক্সা চালক প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করে বলে জানান চালাক সমিতির সদস্যারা।
মিঠাছড়া-বামনসুন্দর অটোরিক্সা চালক সমিতির সভাপতি এজাজ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরিদ বলেন, ইয়াবা বহনের জন্য স্থানীয় মাদকসেবী বেলাল হোসেন (২৬) পিতা: হক সাব তার বড় ভাই হুমায়ুন (২৮), তোফাজ্জল হোসেন (৩০) পিতা: নুরমোহাম্মদ, তানভীর হোসেন (২৮) পিতা: আমিন শরিফ, রাজীব, শরীফুল ইসলাম (৩০)পিতা আব্দুল মন্নান। গত সোমবার দুপর ১টার সময় আমাদের লাইনের সদস্য মোশাররফ হোসেনের গাড়ী ভাড়া নিতে এসেছিলো। মোড়বাড়িয়া থেকে মাদক এনে বামনসুন্দর এলাকায় বিক্রয় করার জন্য। মোশাররফ তাদের ভাড়ায় না নেওয়ার বিষয় জানালে তারা মোশাররফকে মারধর করে। মিরসরাই থানা থেকে আমাদেরকে মদ, ইয়াবা সহ কোন মাদক বহন না করতে বলা হয়েছিলো। তাই চালকরা এখন এলাকার চিহ্নিত কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ভাড়ায় নেয় না। মোশাররফকে মারধরের বিষয়টি আমাদের সমিতিকে জানানোর পর, মঙ্গলবার পুনরায় মাদক ব্যবসায়িরা মোশারফের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার গর্ববতী স্ত্রীকে মারধর করে। উশৃঙ্খল ও ব্যাপরোয়া মাদক ব্যাবসায়িরা মঙ্গলবার রাত ৮টায় দলবল ও লাঠিসোটা নিয়ে কাটাছরা ইউনিয়নের বামনসুন্দর বাজারে আমাদের সমিতির কার্যালয়ে এসে সিএসজি চালকদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকলে আমাদের কার্যালয়ে থাকা কয়েকজন চালক প্রতিবাদ করে। এতে মাদক ব্যাবসায়িও তাদের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী আমাদের চালকদের এলা পাড়াড়ি মারধর করে। অন্যায় ভাবে মারধরের ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য গেলে এসময় তারা আমাদের অফিস ভাংচুর করে। অফিসের দেওয়ালে টাঙ্গানো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও তারা ভাংচুর করে। অফিসের ক্যাশে থাকা ৯০ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, আমরা এঘটনার সাথে জড়িতদের সুষ্ঠ বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই। অন্যথায় আমরা মিঠাছরা-বামনসুন্দর সড়কে কোন গাড়ী চলাচল করতে দিবো না।
উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন বলেন, সিএনজি-অটোরিক্সা চালকের উপর হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় এমন অপকর্ম করে আসছে। হামলার সাথে জড়িত ও তাদের আশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তার করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, মিঠাছরা-বামনসুন্দর অটোরিক্সা লাইনটি মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার দু’টি অংশে বিভক্ত। বামনসুন্দর বাজার অংশ জোরারগঞ্জ থানা আর মিঠাছরা বাজার অংশ মিরসরাই থানা পুলিশ দেখে। ঘটনাস্থল জোরারগঞ্জ থানায় অবস্থিত হলেও মিরসরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছে। আমরা তাদের সকল আইনী সহায়তা দেবো।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত হেলাল উদ্দিন জানান, স্থানিয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে বেলাল একজন মাদক ব্যবসায়ি সে প্রায় সময় মোশারফের সিএসজি ব্যবহার করে মাদক চালান করে বিভিন্ন জায়গায় সাফলাই দেয়। তাদের উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের লেনদেন থাকায় বেলাল অনেক দিনের সিএসজি ভাড়া বকেয়া রাখে। বকেয়া ভাড়া ও মাদক চালানে স্থানিয়দের বাধার কারনে মোশাররফ বেলালকে আর সহযোগিতা করার অপারগতা প্রকাশ করে। কিন্তু বেলাল গত সোমবার দুপুরে পুনরায় সিএজি ভাড়ায় নিতে চায় এতে মোশাররফ অপারগতা প্রকাশ করেলে তাকে মারধর করে বেলাল ও তার সঙ্গীরা। মোশাররফ চালক সমিতিকে জানালে উভয় পক্ষকে শালিশে ডাকলে বেলাল সালিশে না গিয়ে মোশাররফের বাড়িতে হামলা চালায় এতে মোশাররফ ও তার অন্তসতœা স্ত্রী আহত হয়। পরবর্তীতে বেলাল ও তার সঙ্গীরা চালক সমিতির অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর চালায়। কিন্তু তারা কেউই আমাদের থানায় না এসে মিরসরাই থানায় চলে যায়। আমরা খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে অভিযাচ চালিয়েছি তবে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। থানায় এখনো কোন লিখতি অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারে আরো জোরালো অভিযান চালানো হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ


























