ভয়াল ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালের এইদিনে কিছুসংখ্যক বিপদগামী সেনাসদস্যদের হাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদাৎ বরণ করেন। বাঙালি জাতির মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। কর্মসূচী পালনের সময় করোনা সংক্রমন হতে সতর্ক থাকার উদ্দেশ্যে পূর্বের পরিকল্পিত কর্মসূচী সংক্ষিপ্ত করে স্বল্প পরিসরে সম্পন্ন করা হয়।
১ আগস্ট থেকেই মবক এর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসব্যাপী “কালো ব্যাচ” ধারন এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের মুল ফটক, বন্দর ভবন, জেটি এরিয়া এবং মোংলাস্থ পোর্ট এবং খুলনাস্থ পোর্ট এরিয়ার মুল ফটকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বাণী সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচীর কার্যক্রম শুরু হয়।
১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্থাপনায় জাতীয় পতাকা ও বন্দর পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাদ ফজর সকল মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বন্দর ভবনের সামনে একটি লিচু গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে বন্দরের বৃক্ষরোপন কর্মসূচী শুভ উদ্বোধন করেন এবং সকাল ১১:০০ ঘটিকায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান এর সভাপতিত্বে মবক সভা কক্ষে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। ইয়াসমিন আফসানা, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ও সদস্য (অর্থ), ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সদস্য (হারবার ও মেরিন), বিভাগীয় প্রধানসহ বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, সিবিএ এর নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থতি ছিলেন। অতঃপর চেয়ারম্যান মহোদয় ১১:২৫ ঘটিকায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অনলাইনে যোগদান করেন এবং এই দিনের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তব্য প্রদান করেন।
অনু্ষ্ঠানে বক্তাগন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের উপর বিষদ আলোচনা করেন। অতঃপর বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর “আমাদের বঙ্গবন্ধু” নামক একটি ডকুমেন্টারী ফিল্ম প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তিনি বলেন “বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছেন তা বাস্তবায়নে তঁার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির উন্নয়নে যে সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন তা সফল করার জন্য সকলকে একাত্ম হয়ে আন্তরিকতার সাথে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হচ্ছে তা বেগবান ও টেকসই করার জন্য এবং বঙ্গবন্ধুর শোষন ও দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে একযোগে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।
করোনা প্রাদুর্ভাব কালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘন্টা সচল রাখায় বন্দর সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
এছাড়াও বন্দর ঘোষিত ১৫ আগস্টের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বন্দরের মসজিদ সমূহে পবিত্র কোরআন খতমের আয়োজন ও বাদ যোহর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্থাপনার জামে মসজিদ সমূহে দোয়া মাহফিল এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শাহাদাৎ বরণকারী সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান





















