০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে শ্রীমঙ্গলে ২৫৫ হেক্টর বোরো ধান নষ্ট, দিশেহারা কৃষক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ধান। অবিরাম বর্ষণে ২৫৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা; অনেকেই এখন দিশেহারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে মোট ১১ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২৮৭ হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৫ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট এবং আরও ৩২ হেক্টর আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার ভূনবীর, শ্রীমঙ্গল সদর, কালাপুর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের হাইল হাওর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকরা ধান কাটার আগেই ফসল হারিয়েছেন।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা শেষ চেষ্টা হিসেবে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে অতিবৃষ্টির প্রভাবে শুধু ধান নয়, সবজির ক্ষেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলায় ১৩১ হেক্টর সবজি জমির মধ্যে ২৬ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ৩০ হেক্টর আংশিক ক্ষতির শিকার। পাশাপাশি আউশ ধানের বীজতলার ১ হেক্টর জমিও নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, আকস্মিক অতিবৃষ্টির কারণে হাইল হাওর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি। ইতোমধ্যে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :

আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে মাদক সহ গ্রেফতার

টানা বৃষ্টিতে শ্রীমঙ্গলে ২৫৫ হেক্টর বোরো ধান নষ্ট, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত : ০৪:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ধান। অবিরাম বর্ষণে ২৫৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা; অনেকেই এখন দিশেহারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে মোট ১১ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২৮৭ হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৫ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট এবং আরও ৩২ হেক্টর আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার ভূনবীর, শ্রীমঙ্গল সদর, কালাপুর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের হাইল হাওর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকরা ধান কাটার আগেই ফসল হারিয়েছেন।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা শেষ চেষ্টা হিসেবে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে অতিবৃষ্টির প্রভাবে শুধু ধান নয়, সবজির ক্ষেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলায় ১৩১ হেক্টর সবজি জমির মধ্যে ২৬ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ৩০ হেক্টর আংশিক ক্ষতির শিকার। পাশাপাশি আউশ ধানের বীজতলার ১ হেক্টর জমিও নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, আকস্মিক অতিবৃষ্টির কারণে হাইল হাওর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি। ইতোমধ্যে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।

ডিএস./