০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগরে মসজিদের বেহাত জমি পুনরুদ্ধার, আদালতের রায়ের পর বাঁশের বেড়া দিয়ে দখল

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে বেহাত হওয়া একটি মসজিদের জমির অংশ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লি-গ্রামবাসী। সম্প্রতি তারা ওই জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে দখল নিয়েছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চককুতুব জামে মসজিদের পরিচালনার জন্য জমির সাবেক মালিক মো. কছির উদ্দিন শাহ ১৯৬০ সালের ১৯ জানুয়ারি ১৯ নম্বর খতিয়ানের ২২৭ নম্বর দাগের ২৮ শতক জমিসহ অন্যান্য সম্পত্তি তার স্ত্রী ও পুত্রদের নামে অছিয়ত করেন।

তৎকালীন সময়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন তার দুই ছেলে কমর উদ্দিন চৌধুরী ও আবুল কাসেম চৌধুরী। পরবর্তীতে আর.এস জরিপে ৫৪ নম্বর খতিয়ান প্রস্তুত হলেও ভুলবশত মসজিদ কমিটির পক্ষে তাদের জিম্মাদার হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৮৭ সালের ১২ অক্টোবর আবুল কাসেম ৭ শতক জমি কপিল উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ ও নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। একই বছরের ১৫ নভেম্বর কমর উদ্দিন আরও ১৪ শতক জমি পৃথক দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ২০০৭ সালে তৎকালীন মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মকলেছুর রহমান একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৯৩/২০০৭)।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি নওগাঁর সিনিয়র জেলা জজ মো. রোকনুজ্জামান মসজিদের পক্ষে রায় দেন। রায়ে ১৯৯৪ সালের একটি পূর্ববর্তী মামলার রায়কে প্রতারণামূলক উল্লেখ করে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রায়ের ভিত্তিতে মসজিদ কমিটি বেহাত হওয়া জমির একটি অংশে দখল নিলেও জমির ক্রেতা পক্ষ আদালতের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) জারি করলে বর্তমানে ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা বহাল রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় ২২-২৩ শতক জমি আগে থেকেই মসজিদের দখলে রয়েছে।

মামলার বাদী মো. মকলেছুর রহমান বলেন,“জিম্মাদাররা জমি বিক্রির এখতিয়ার রাখেন না; তারা কেবল দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু অন্য উত্তরাধিকারীদের স্বাক্ষর জাল করে জমি বিক্রি করা হয়েছে। আদালতের রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

জমির ক্রেতা কপিল উদ্দিন মন্ডল বলেন,“আমরা বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। জেলা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও আদালতের রায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়রা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং মসজিদের সম্পত্তি সুরক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ডিএস./

ট্যাগ :

আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে মাদক সহ গ্রেফতার

নওগাঁর রাণীনগরে মসজিদের বেহাত জমি পুনরুদ্ধার, আদালতের রায়ের পর বাঁশের বেড়া দিয়ে দখল

প্রকাশিত : ০৪:৪০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে বেহাত হওয়া একটি মসজিদের জমির অংশ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লি-গ্রামবাসী। সম্প্রতি তারা ওই জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে দখল নিয়েছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চককুতুব জামে মসজিদের পরিচালনার জন্য জমির সাবেক মালিক মো. কছির উদ্দিন শাহ ১৯৬০ সালের ১৯ জানুয়ারি ১৯ নম্বর খতিয়ানের ২২৭ নম্বর দাগের ২৮ শতক জমিসহ অন্যান্য সম্পত্তি তার স্ত্রী ও পুত্রদের নামে অছিয়ত করেন।

তৎকালীন সময়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন তার দুই ছেলে কমর উদ্দিন চৌধুরী ও আবুল কাসেম চৌধুরী। পরবর্তীতে আর.এস জরিপে ৫৪ নম্বর খতিয়ান প্রস্তুত হলেও ভুলবশত মসজিদ কমিটির পক্ষে তাদের জিম্মাদার হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯৮৭ সালের ১২ অক্টোবর আবুল কাসেম ৭ শতক জমি কপিল উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ ও নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। একই বছরের ১৫ নভেম্বর কমর উদ্দিন আরও ১৪ শতক জমি পৃথক দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ২০০৭ সালে তৎকালীন মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মকলেছুর রহমান একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৯৩/২০০৭)।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি নওগাঁর সিনিয়র জেলা জজ মো. রোকনুজ্জামান মসজিদের পক্ষে রায় দেন। রায়ে ১৯৯৪ সালের একটি পূর্ববর্তী মামলার রায়কে প্রতারণামূলক উল্লেখ করে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রায়ের ভিত্তিতে মসজিদ কমিটি বেহাত হওয়া জমির একটি অংশে দখল নিলেও জমির ক্রেতা পক্ষ আদালতের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) জারি করলে বর্তমানে ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা বহাল রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় ২২-২৩ শতক জমি আগে থেকেই মসজিদের দখলে রয়েছে।

মামলার বাদী মো. মকলেছুর রহমান বলেন,“জিম্মাদাররা জমি বিক্রির এখতিয়ার রাখেন না; তারা কেবল দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু অন্য উত্তরাধিকারীদের স্বাক্ষর জাল করে জমি বিক্রি করা হয়েছে। আদালতের রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

জমির ক্রেতা কপিল উদ্দিন মন্ডল বলেন,“আমরা বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। জেলা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও আদালতের রায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়রা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং মসজিদের সম্পত্তি সুরক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ডিএস./