১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

‘নোংরা পানি পান করছে পটিয়ার জনগণ’

পটিয়া উপজেলার রাস্তার পাশে চায়ের দোকান। সাধারণ জনগণ ভিড় করে চা-বিস্কুট, রুটি-কলা খেয়েই যাচ্ছে। আর পানি পান করছে পাশে রাখা পানির জার থেকে। আরো বেশ কয়েকটি জার ভর্তি পানি আছে। ময়লার আস্তরে পাল্টে গেছে বোতলের আসল রং। কিন্তু কোম্পানির নামহীন জারগুলোর মুখ ঠিকই নীল রঙের ছিপিতে আটকানো।

এই পানি কি বিশুদ্ধ? খাওয়ার উপোযোগী কি? এমন প্রশ্ন শুনে দোকানদার খানিকটা বিরক্তিকর সুরেই বললেন, আপনার ইচ্ছে হলে খাবেন, ইচ্ছে না হলে খাবেন না। সবাই খাচ্ছে, এতো কথার দরকার কি? কেন দরকার তা বুঝিয়ে বলে এই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিতেই চেহারা পাল্টে যায় দোকানদারের। বিনয়ের সঙ্গে বললেন, পেটে লাথি মারবেন না। আমার নামটা দিবেন না। মিথ্যা বলবোনা, এ পানি আসলে ফিল্টার করা পানি না। এ পানির প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মম’।

এ প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. ইব্রাহিম এর সাথে সরজমিনে যোগাযোগ করলে তিনি পটিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম ধরে এ প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয়।

এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে, পটিয়ার বিসিক শিল্প এলাকার প্রধান সড়কের বিপরীত দিকের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে নোংরা স্যতস্যেতে একটি রুমে পানির জার ভর্তি করে বলে জানান নিকস্থ কয়েক জন পথচারী। এখানে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায়নি।

পটিয়া উপজেলাসহ আশপাশের সব জায়গায় পথেঘাটে, হাটবাজারে সব খানে চোখে পড়ছে এমন পানির জার। ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নাম করা রেস্তোঁরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাসাবাড়ি এমন কি পটিয়ার সরকারি দপ্তরেও চলছে নোংরা পানির এ জারের ব্যবহার। কিন্তু এ ফিল্টারের পানি আসলে কতটা নিরাপদ? সে খোঁজ জানা নেই পটিয়ার বেশির ভাগ মানুষের।

এ প্রতিবেদকের পরিচিত এক ক্যামিস্ট বলেন, বিভিন্ন সময় অবৈধ অনেক পানির ফিলিং মেশিনের আল্ট্রাভায়োলেট রে পাওয়া যায়নি ফলে এ সব মেশিনে শুধু ফিল্টার বা ছাঁকনি ব্যবহার করে ময়লা দূর করা গেলেও সব জিবানু বা ভাইরাসমুক্ত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে আল্ট্্ভায়োলেট রের জন্য বিশেষ মেশিন দরকার। ঐ মেশিনের দাম বেশি বলে অনেকেই তা ব্যবহার করে না। তা ছাড়া অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত কোনো ল্যাব বা কেমিস্টও থাকে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

‘নোংরা পানি পান করছে পটিয়ার জনগণ’

প্রকাশিত : ০৬:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২০

পটিয়া উপজেলার রাস্তার পাশে চায়ের দোকান। সাধারণ জনগণ ভিড় করে চা-বিস্কুট, রুটি-কলা খেয়েই যাচ্ছে। আর পানি পান করছে পাশে রাখা পানির জার থেকে। আরো বেশ কয়েকটি জার ভর্তি পানি আছে। ময়লার আস্তরে পাল্টে গেছে বোতলের আসল রং। কিন্তু কোম্পানির নামহীন জারগুলোর মুখ ঠিকই নীল রঙের ছিপিতে আটকানো।

এই পানি কি বিশুদ্ধ? খাওয়ার উপোযোগী কি? এমন প্রশ্ন শুনে দোকানদার খানিকটা বিরক্তিকর সুরেই বললেন, আপনার ইচ্ছে হলে খাবেন, ইচ্ছে না হলে খাবেন না। সবাই খাচ্ছে, এতো কথার দরকার কি? কেন দরকার তা বুঝিয়ে বলে এই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিতেই চেহারা পাল্টে যায় দোকানদারের। বিনয়ের সঙ্গে বললেন, পেটে লাথি মারবেন না। আমার নামটা দিবেন না। মিথ্যা বলবোনা, এ পানি আসলে ফিল্টার করা পানি না। এ পানির প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মম’।

এ প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. ইব্রাহিম এর সাথে সরজমিনে যোগাযোগ করলে তিনি পটিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম ধরে এ প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয়।

এ প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে, পটিয়ার বিসিক শিল্প এলাকার প্রধান সড়কের বিপরীত দিকের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে নোংরা স্যতস্যেতে একটি রুমে পানির জার ভর্তি করে বলে জানান নিকস্থ কয়েক জন পথচারী। এখানে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায়নি।

পটিয়া উপজেলাসহ আশপাশের সব জায়গায় পথেঘাটে, হাটবাজারে সব খানে চোখে পড়ছে এমন পানির জার। ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নাম করা রেস্তোঁরা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাসাবাড়ি এমন কি পটিয়ার সরকারি দপ্তরেও চলছে নোংরা পানির এ জারের ব্যবহার। কিন্তু এ ফিল্টারের পানি আসলে কতটা নিরাপদ? সে খোঁজ জানা নেই পটিয়ার বেশির ভাগ মানুষের।

এ প্রতিবেদকের পরিচিত এক ক্যামিস্ট বলেন, বিভিন্ন সময় অবৈধ অনেক পানির ফিলিং মেশিনের আল্ট্রাভায়োলেট রে পাওয়া যায়নি ফলে এ সব মেশিনে শুধু ফিল্টার বা ছাঁকনি ব্যবহার করে ময়লা দূর করা গেলেও সব জিবানু বা ভাইরাসমুক্ত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে আল্ট্্ভায়োলেট রের জন্য বিশেষ মেশিন দরকার। ঐ মেশিনের দাম বেশি বলে অনেকেই তা ব্যবহার করে না। তা ছাড়া অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত কোনো ল্যাব বা কেমিস্টও থাকে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর