১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নিজেদের উদ্যোগে ৯টি সাঁকো তৈরি করলো তিস্তাপাড়ের বানভাসি মানুষ

বন্যায় ভেঙে যাওয়া রাস্তায় ৯টি সাঁকো তৈরি করে কোনো রকমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করেছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ।
জানা গেছে, গত জুন থেকে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফায় বন্যার কবলে পড়ে তিস্তার বাম তীরে লালমনিরহাট জেলার মানুষ। বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সব রাস্তা পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জেলার ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের প্রায় সব রাস্তাঘাট পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন। এসব এলাকার রাস্তাগুলো বেশ কিছু স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এ অঞ্চলের মানুষদের পানিতে ভিজে পারাপার করতে হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে তাদের আলাদা শুকনো কাপড় ব্যাগে নিয়ে মূল ভূখণ্ডে গিয়ে ভিজা কাপড় পরিবর্তন করে গন্তব্যে যেতে হয়। ভেঙে যাওয়া এসব রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙেছেন। রাস্তা ভাঙা থাকায় কোনো আত্মীয়-স্বজনও এসব গ্রামে আসছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীরা রয়েছে চরম বিপাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ হলেও নষ্ট হওয়া এসব গ্রামীন রাস্তা সংস্কার বা বাঁশের সাঁকো তৈরির কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। ফলে চরম কষ্টে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিস্তা পাড়ে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ।
চলতি বছর বন্যার কারণে এমনিভাবে কোয়ার্টার কিলোমিটারে ৯টি স্থানে ভেঙে যায় কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মিলন বাজার থেকে রুদ্বেশ্বর, বাগেরহাট ও ইচলি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি।
স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের বারংবার অনুরোধ করেও সুফল পাননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে নিজেদের দুর্ভোগ কমাতে গ্রামবাসী নিজেরাই বাঁশ ও টাকা চাঁদা দিয়ে ৯টি সাঁকো তৈরি করেছেন। যা দিয়ে কেবলমাত্র হেঁটে বা বাই সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যায়। নিজেদের তৈরি সাঁকো দিয়ে হেঁটে হলেও এখন আর কাপড় ভিজে না নদী তীরবর্তী ও তিনটি গ্রামের মানুষদের। তবে রিকশা বা ভ্যান যাওয়ার সুযোগ নেই বাগেরহাট, ইচলি, রুদ্বেশ্বর গ্রামে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরিবহন সমস্যার কারণে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারে উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয়রা।
ইচলি গ্রামের মরিয়ম বেগম জানান, বন্যার পানিতে ভেঙে যাওয়া রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে তার স্বামীর পা ভেঙে। নদীভাঙনে এবং বন্যায় আবাদি জমি হারিয়ে ৯ সদস্যের পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিছানায় পড়ে থাকায় চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। রুদ্বেশ্বর গ্রামের অহেদ আলী ও শাহআলম জানান, বন্যায় ভেঙে যাওয়ায় বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা ঠিক করতে স্থানীয় প্রশাসনকে কয়েক দফায় বলা হয়েছে। কিন্তু এ গ্রামগুলো লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার সীমান্তে হওয়ায় কেউ খবর রাখে না। গ্রামের এসব ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়ে নিজেরা সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশ ও টাকা দিয়ে ৯টি সাঁকো তৈরি করেছে। পায়ে হেঁটে যেতে পারলেও রিকশাভ্যানে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অসুস্থ হলেও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানান তারা।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বন্যার কবলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রামীন অবকাঠামো মেরামত করতে প্রকল্পের তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ ডটকম সম্পাদক দুই হাজার পরিবারকে উপহার দিলেন ঈদ সামগ্রী

নিজেদের উদ্যোগে ৯টি সাঁকো তৈরি করলো তিস্তাপাড়ের বানভাসি মানুষ

প্রকাশিত : ০৫:৪৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২০

বন্যায় ভেঙে যাওয়া রাস্তায় ৯টি সাঁকো তৈরি করে কোনো রকমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করেছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ।
জানা গেছে, গত জুন থেকে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফায় বন্যার কবলে পড়ে তিস্তার বাম তীরে লালমনিরহাট জেলার মানুষ। বন্যায় ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সব রাস্তা পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জেলার ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের প্রায় সব রাস্তাঘাট পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন। এসব এলাকার রাস্তাগুলো বেশ কিছু স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এ অঞ্চলের মানুষদের পানিতে ভিজে পারাপার করতে হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে তাদের আলাদা শুকনো কাপড় ব্যাগে নিয়ে মূল ভূখণ্ডে গিয়ে ভিজা কাপড় পরিবর্তন করে গন্তব্যে যেতে হয়। ভেঙে যাওয়া এসব রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙেছেন। রাস্তা ভাঙা থাকায় কোনো আত্মীয়-স্বজনও এসব গ্রামে আসছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীরা রয়েছে চরম বিপাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ হলেও নষ্ট হওয়া এসব গ্রামীন রাস্তা সংস্কার বা বাঁশের সাঁকো তৈরির কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। ফলে চরম কষ্টে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিস্তা পাড়ে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ।
চলতি বছর বন্যার কারণে এমনিভাবে কোয়ার্টার কিলোমিটারে ৯টি স্থানে ভেঙে যায় কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মিলন বাজার থেকে রুদ্বেশ্বর, বাগেরহাট ও ইচলি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি।
স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের বারংবার অনুরোধ করেও সুফল পাননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে নিজেদের দুর্ভোগ কমাতে গ্রামবাসী নিজেরাই বাঁশ ও টাকা চাঁদা দিয়ে ৯টি সাঁকো তৈরি করেছেন। যা দিয়ে কেবলমাত্র হেঁটে বা বাই সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যায়। নিজেদের তৈরি সাঁকো দিয়ে হেঁটে হলেও এখন আর কাপড় ভিজে না নদী তীরবর্তী ও তিনটি গ্রামের মানুষদের। তবে রিকশা বা ভ্যান যাওয়ার সুযোগ নেই বাগেরহাট, ইচলি, রুদ্বেশ্বর গ্রামে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরিবহন সমস্যার কারণে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারে উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয়রা।
ইচলি গ্রামের মরিয়ম বেগম জানান, বন্যার পানিতে ভেঙে যাওয়া রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে তার স্বামীর পা ভেঙে। নদীভাঙনে এবং বন্যায় আবাদি জমি হারিয়ে ৯ সদস্যের পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিছানায় পড়ে থাকায় চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। রুদ্বেশ্বর গ্রামের অহেদ আলী ও শাহআলম জানান, বন্যায় ভেঙে যাওয়ায় বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা ঠিক করতে স্থানীয় প্রশাসনকে কয়েক দফায় বলা হয়েছে। কিন্তু এ গ্রামগুলো লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার সীমান্তে হওয়ায় কেউ খবর রাখে না। গ্রামের এসব ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়ে নিজেরা সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশ ও টাকা দিয়ে ৯টি সাঁকো তৈরি করেছে। পায়ে হেঁটে যেতে পারলেও রিকশাভ্যানে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অসুস্থ হলেও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানান তারা।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, বন্যার কবলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রামীন অবকাঠামো মেরামত করতে প্রকল্পের তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ