১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

কয়রা ও পাইকগাছায় জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধে ভাঙন

জোয়ারের পানির চাপে খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার অন্তত পাঁচটি স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল এ ভাঙনে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ২ নং কয়রা, গোবরা, ৩ নং কয়রা ও বেদকাশি গ্রাম।বিকাল থেকে লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে ভেঙে যাওয়া স্থানগুলো সংস্কারের চেষ্টা করেন। এর আগে বুধবার জোয়ারের পানিতে কয়রা উপজেলার কাজীপাড়া, পুঁটিহারী, হরিণখোলা, কাশিরহাট খোলা, ঘাটাখালী প্লাবিত হয়েছিল।

এছাড়া বুধবার পাইকগাছা উপজেলার শিবসা নদীর পানির চাপে হাড়িয়ার বাঁধ ভেঙে মাজরাবাদ, বয়ারঝাপা ও টেংরামারী গ্রাম প্লাবিত হয়। স্থানীয় লোকজন গতকাল স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি সংস্কারের চেষ্টা করেন।

কয়রার সামাজিক সংগঠন জাগ্রত যুব সংঘের সহসভাপতি কামাল হোসেন বলেন, জোয়ারের পানির চাপে কয়রার হরিণখোলা, ঘাটাখালী ও ২ নং কয়রায় পাঁচটি স্থানের বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে আরো চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে আড়াই হাজার পরিবার সংকটে পড়েছে।সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধরক্ষার কাজ বিকাল ৪টা থেকে শুরু করেছে।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানির চাপে ঘাটাখালী ২ নং ও ৩ নং কয়রায় বাঁধ ভেঙে গেছে। সাধারণ মানুষের চেষ্টায় বাঁধ আটকানোর কাজ চলছে। আর কিছু জায়গায় বাঁধ ও পাকা সড়ক উপচে গ্রামে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

কয়রার গাজীপাড়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আম্পানের পর কোনোমতে ঘরে ফিরে বসবাস করছিলাম। কিন্তু জোয়ারের পানিতে আমরা ফের প্লাবিত হয়েছি। এখন আমার ঘরে পানি।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, বুধবার জোয়ারের অতিরিক্ত পানির তোড়ে বাঁধ উপচে বিভিন্ন গ্রামে পানি ডুকেছে। এতে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। গতকালও পাঁচটি জায়গা ভেঙেছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, জোয়ারের পানির চাপে বিভিন্ন স্থান ভেঙে ও সড়ক উপচে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। জোয়ার কমলে এসব স্থানে প্রয়োজনীয় মেরামত করা সম্ভব হবে।

 এদিকে পাইকগাছার সোলাদানার ভাঙ্গাহাড়িয়ার ভাঙন স্থানীয় লোকদের নিয়ে গত বুধবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেরামত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। এর আগে গত বুধবার প্রবল জোয়ারে পাইকগাছার বয়ারঝাপায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গাহাড়িয়া ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ২৫০টি চিংড়ি ঘের ভেসে যায়। চরম দুর্ভোগে রয়েছে তিন গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাইকগাছা জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দীন জানান, এর আগে চারবার সরকারি ও স্থানীয়ভাবে বাঁধ মেরামত করা হলেও টেকসই মেরামতের অভাবে বারবার পাইকগাছার এ এলাকা  ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে। স্থায়ী বাঁধ মেরামতের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নারী ইউপি সদস্য কল্যাণী মণ্ডল বলেন, বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। ১৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা আপাতত আটকানো হয়েছে। এখানে দ্রুত টেকসই বাঁধ দেয়ার ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান

 

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

কয়রা ও পাইকগাছায় জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধে ভাঙন

প্রকাশিত : ০৩:১৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২০

জোয়ারের পানির চাপে খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার অন্তত পাঁচটি স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল এ ভাঙনে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ২ নং কয়রা, গোবরা, ৩ নং কয়রা ও বেদকাশি গ্রাম।বিকাল থেকে লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে ভেঙে যাওয়া স্থানগুলো সংস্কারের চেষ্টা করেন। এর আগে বুধবার জোয়ারের পানিতে কয়রা উপজেলার কাজীপাড়া, পুঁটিহারী, হরিণখোলা, কাশিরহাট খোলা, ঘাটাখালী প্লাবিত হয়েছিল।

এছাড়া বুধবার পাইকগাছা উপজেলার শিবসা নদীর পানির চাপে হাড়িয়ার বাঁধ ভেঙে মাজরাবাদ, বয়ারঝাপা ও টেংরামারী গ্রাম প্লাবিত হয়। স্থানীয় লোকজন গতকাল স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি সংস্কারের চেষ্টা করেন।

কয়রার সামাজিক সংগঠন জাগ্রত যুব সংঘের সহসভাপতি কামাল হোসেন বলেন, জোয়ারের পানির চাপে কয়রার হরিণখোলা, ঘাটাখালী ও ২ নং কয়রায় পাঁচটি স্থানের বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে আরো চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে আড়াই হাজার পরিবার সংকটে পড়েছে।সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধরক্ষার কাজ বিকাল ৪টা থেকে শুরু করেছে।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানির চাপে ঘাটাখালী ২ নং ও ৩ নং কয়রায় বাঁধ ভেঙে গেছে। সাধারণ মানুষের চেষ্টায় বাঁধ আটকানোর কাজ চলছে। আর কিছু জায়গায় বাঁধ ও পাকা সড়ক উপচে গ্রামে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

কয়রার গাজীপাড়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আম্পানের পর কোনোমতে ঘরে ফিরে বসবাস করছিলাম। কিন্তু জোয়ারের পানিতে আমরা ফের প্লাবিত হয়েছি। এখন আমার ঘরে পানি।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, বুধবার জোয়ারের অতিরিক্ত পানির তোড়ে বাঁধ উপচে বিভিন্ন গ্রামে পানি ডুকেছে। এতে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। গতকালও পাঁচটি জায়গা ভেঙেছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, জোয়ারের পানির চাপে বিভিন্ন স্থান ভেঙে ও সড়ক উপচে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। জোয়ার কমলে এসব স্থানে প্রয়োজনীয় মেরামত করা সম্ভব হবে।

 এদিকে পাইকগাছার সোলাদানার ভাঙ্গাহাড়িয়ার ভাঙন স্থানীয় লোকদের নিয়ে গত বুধবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেরামত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। এর আগে গত বুধবার প্রবল জোয়ারে পাইকগাছার বয়ারঝাপায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গাহাড়িয়া ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ২৫০টি চিংড়ি ঘের ভেসে যায়। চরম দুর্ভোগে রয়েছে তিন গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাইকগাছা জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দীন জানান, এর আগে চারবার সরকারি ও স্থানীয়ভাবে বাঁধ মেরামত করা হলেও টেকসই মেরামতের অভাবে বারবার পাইকগাছার এ এলাকা  ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে। স্থায়ী বাঁধ মেরামতের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নারী ইউপি সদস্য কল্যাণী মণ্ডল বলেন, বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। ১৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা আপাতত আটকানো হয়েছে। এখানে দ্রুত টেকসই বাঁধ দেয়ার ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান