মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্তব্দ হয়েছে পুরো রাঙ্গামাটি। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাঙ্গামাটি জেলাতে ৬ লক্ষ ২০ হাজার ২শত ১৪জন মানুষের বসবাস। করোনার কারণে জনজীবনে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে দুর্দশাগ্রস্ত দেশের ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যা রাঙ্গামাটি থেকে ইতিমধ্যেই ৫১হাজার ৭৯০ জন পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ হাজার টাকা প্রণোদনা। রাঙ্গামাটি জেলাতে ৬০ হাজার দুর্দশাগ্রস্ত ও দিনমজুর পরিবার প্রণোদনা পাবে এমন টার্গেটের তালিকা করেন জেলা প্রশাসন। তবে দুর্দশাগ্রস্ত ও দিনমজুর পরিবার প্রণোদনা পাওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্ত ও দিনমজুর পরিবার প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এমনটা অভিযোগ উঠেছে।
যারা স্বচ্ছল পরিবার ও আর্থিক দিক দিয়ে স্বচ্ছল সেসব পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা প্রণোদনা পেয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্ত ও দিনমজুর পরিবার।
তাদের নামের তালিকা কেউ করেনি। কেউ খোঁজ নেয়নি তাদের অভাবের দৈনন্দিন সংসার কিভাবে চলছে। অথচ তারা পরের বাড়িতে কাজ করে যা বেতন পায় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। বন্দুভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দার কয়েক দুর্দশাগ্রস্ত ও দিনমজুর পরিবারের ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, জেলার আনাচে-কানাচে বেশির ভাগ দুর্দশাগ্রস্ত ও দিনমজুর পরিবার বঞ্চিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা থেকে। বাদ পড়েছে রাঙ্গামাটি শহরের কয়েক এলাকার দরিদ্র পরিবার। যা এখনো পৌঁছায় নি প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রণোদনা।
এবিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আরিফুল ইসলাম জানান, যারা দুর্দশাগ্রস্ত ও দিনমজুর পরিবার তারাই প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকার প্রণোদনা পাবে। রাঙ্গামাটিতে মোট ৬০ হাজার দরিদ্র পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। যা অনেকে বাদ পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষে সবার বাড়িতে গিয়ে সঠিক তালিকা করা কঠিন। এক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলাতে যারা ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বার ও এবং শহরের কাউন্সিলর আছেন মূলত তারাই তালিকা করেছেন। তারা জানতে পারবে, আসলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা পেয়েছে কিনা। তবে যাদের নাম তালিকা করেও এখনো পায়নি তারা পরে অবশ্যই পাবে। রেজিস্ট্রেশনে ভুল, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয় পত্রে ভুল এবং সীমের নাম্বার অনেকের রেজিস্ট্রেশন না থাকাতে এ সমস্যা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, রাঙ্গামাটির ৫১হাজার ৭৯০ জনকে ২৫০০ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর প্রানোদনা পেয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পেশাজীবি বেসরকারী শিক্ষক ,মাদ্রাসার শিক্ষক,কওমি মাদ্রাসা ও মসজিদের ঈমাম এবং সংস্কৃতিসেবীদের মাঝে প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। এই পর্যন্ত মোট ১৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর অনুদান প্রদান হয়েছে । এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে ২হাজার ৮শ ৪৫ জনকে খাদ্যশষ্য ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে । এরপর জেলা পরিষদ,পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যন্যা সংস্থা ত্রাণ সহায়তা অব্যহত রয়েছে । আমাদের ত্রাণের কোন ঘাটতি হয় নাই । সরকারের পক্ষ থেকে এসব ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















