০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

সবজি ফলনে বাজিমাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে জমিতে সবজি চাষ করে রিতীমত বাজিমাত সৃষ্টি করেছেন মো. আমজাত খান নামে এক কৃষক। তিনি লাউ, করলা,আর শসা চাষ করে মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় তিনি ফলন পেয়েছে। স্বল্প সময়ে পৌর শহরের তারাগন এলাকায় সবজি চাষ করে তিনি এ সাফল্য পান। ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। গত ১ সপ্তাহ ধরে চলছে সবজি বিক্রি। কম সময়ে অধিক ফলন ও স্থানীয় বাজারে বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি।
গত দেড় মাস পূর্বে পৌর শহরের তারাগন এলাকায় ৪৫ শতক জায়গা এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। সবজি চাষে জমি, মাচা তৈরী চারাসহ অন্যান্য খরচ হয় তার প্রায় প্রায় ১লক্ষ টাকা। খুব কম সময়ে মধ্যে তিনি সবজি চাষে সাফল্য পেয়েছেন।
সরেজমিনে তারাগন গিয়ে দেখা যায়, লাউ, করলা, শসাসহ অন্যান্য সবজিতে পরিচর্যায় তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাচায় সবুজ পাতার ফাকে ঝুলছে ওই সব সবজি। দৃষ্টি নন্দন সবজি বাগান দেখতে প্রতিনিদই লোকজন ভিড় করছেন।
তিনি বলেন চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমি ইজারা নিয়ে পরীক্ষা মূলক লাউ, শসা, করলা চাষ করা হয়। পাশাপাশি রয়েছে তরমুজ ফলও। লাউ, শসা, করলা গাছের পরিচর্যা শেষে ৩৮ দিনের মধ্যেই তার গাছে সবজি বিক্রির উপযোগী হয়। তাছাড়া এখানে নানা প্রকার সবজি চারা ও তিনি বিক্রি করছেন। তার এ কাজের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শ্রমিক রয়েছে।
সবজি চাষে খরচ কম লাভ বেশী উল্লেখ করে কৃষক আমজাদ খান বলেন, জমি তৈরী করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহর মধ্যেই চারা গঁজিয়ে উঠে। এরপর পরিচর্যা, পানি, সার ও মাচা তৈরীসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। গত প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে সবজি বিক্রি। প্রতিদিন ১৭০ পিচ লাউ, ১শ কেজির উপর শসা ও ৩৫- কেজির উপর করলা বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে একটি লাউ ৪০ টাকা, শসা কেজি ১৫-২০, করলা ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান। তবে প্রতিদিনই বিক্রিতে সবজির পরিমান বাড়ছে ।
ওইসব সবজি বিক্রি চলবে প্রায় ৩ মাস। আশা করছি কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে খরচ বাদে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ১ লক্ষ টাকার উপর আয় হবে।
তিনি বলেন বলেন এখানকার বেশী ভাগ তেমন জমি আবাদ হয় না। লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরীক্ষা মূলক সবজি চাষ শুরু করা হয়। জমির গুনগত মান ভাল থাকায় সবজি চাষের পরিধি বৃদ্ধি করবেন বলে জানায়।
এদিকে কৃষি কর্মকর্তারা জানায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষ বেশী লাভ জনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষ। তারা জানায় এ উপজেলায় এখন ১২ মাসই নানা প্রকার সবজি চাষ হচ্ছে। ফলন ভাল করতে সার্বিক ভাবে কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরমুজ আলীর ছেলে আমজাদ খান । এইসএসসি পরীক্ষা পাশ করার পর এক পর্যায়ে তিনি কীটনাশক ও বীজ ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এতে সফলতা না পেয়ে মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। এক পর্যায়ে বাড়ি সংলগ্ন পৈত্রিক জায়গায় করলা,বরবটি, ঢেড়স, কাকরল, গাজর,সিম, টমেটো,পুইশাক,শসাসহ নানা প্রজাতির সবজি চাষ শুরু করেন। দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে তিনি বার মাসই এখন সবজি চাষ করছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষেই তিনি ভাগ্য বদল করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি সবজি চাষের উদ্যোক্তা হিসাবে কৃষকদের মাঝে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। তাছাড়া সফল সবজি চাষি হিসাবে তিনি ২০১২-১৪ সনে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে ২ বার পুরুস্কার পেয়েছেন।
তিনি বলেন বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও বন্যা থাকায় নিচু এলাকায় সবজি চাষ করা যায় না। তাই উচু জমিতে সবজি চাষ করতে জায়গা বদল করে আখাউড়ায় আসা হয়।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারমাসই নানা প্রকার সবজি আবাদ হচ্ছে। ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় স্থানীয় কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়। কম খরচে লাভ বেশী হওয়ায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে সবজি চাষ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ ডটকম সম্পাদক দুই হাজার পরিবারকে উপহার দিলেন ঈদ সামগ্রী

সবজি ফলনে বাজিমাত

প্রকাশিত : ০৪:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে জমিতে সবজি চাষ করে রিতীমত বাজিমাত সৃষ্টি করেছেন মো. আমজাত খান নামে এক কৃষক। তিনি লাউ, করলা,আর শসা চাষ করে মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় তিনি ফলন পেয়েছে। স্বল্প সময়ে পৌর শহরের তারাগন এলাকায় সবজি চাষ করে তিনি এ সাফল্য পান। ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। গত ১ সপ্তাহ ধরে চলছে সবজি বিক্রি। কম সময়ে অধিক ফলন ও স্থানীয় বাজারে বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি।
গত দেড় মাস পূর্বে পৌর শহরের তারাগন এলাকায় ৪৫ শতক জায়গা এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। সবজি চাষে জমি, মাচা তৈরী চারাসহ অন্যান্য খরচ হয় তার প্রায় প্রায় ১লক্ষ টাকা। খুব কম সময়ে মধ্যে তিনি সবজি চাষে সাফল্য পেয়েছেন।
সরেজমিনে তারাগন গিয়ে দেখা যায়, লাউ, করলা, শসাসহ অন্যান্য সবজিতে পরিচর্যায় তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাচায় সবুজ পাতার ফাকে ঝুলছে ওই সব সবজি। দৃষ্টি নন্দন সবজি বাগান দেখতে প্রতিনিদই লোকজন ভিড় করছেন।
তিনি বলেন চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমি ইজারা নিয়ে পরীক্ষা মূলক লাউ, শসা, করলা চাষ করা হয়। পাশাপাশি রয়েছে তরমুজ ফলও। লাউ, শসা, করলা গাছের পরিচর্যা শেষে ৩৮ দিনের মধ্যেই তার গাছে সবজি বিক্রির উপযোগী হয়। তাছাড়া এখানে নানা প্রকার সবজি চারা ও তিনি বিক্রি করছেন। তার এ কাজের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শ্রমিক রয়েছে।
সবজি চাষে খরচ কম লাভ বেশী উল্লেখ করে কৃষক আমজাদ খান বলেন, জমি তৈরী করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহর মধ্যেই চারা গঁজিয়ে উঠে। এরপর পরিচর্যা, পানি, সার ও মাচা তৈরীসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। গত প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে সবজি বিক্রি। প্রতিদিন ১৭০ পিচ লাউ, ১শ কেজির উপর শসা ও ৩৫- কেজির উপর করলা বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে একটি লাউ ৪০ টাকা, শসা কেজি ১৫-২০, করলা ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান। তবে প্রতিদিনই বিক্রিতে সবজির পরিমান বাড়ছে ।
ওইসব সবজি বিক্রি চলবে প্রায় ৩ মাস। আশা করছি কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে খরচ বাদে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ১ লক্ষ টাকার উপর আয় হবে।
তিনি বলেন বলেন এখানকার বেশী ভাগ তেমন জমি আবাদ হয় না। লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরীক্ষা মূলক সবজি চাষ শুরু করা হয়। জমির গুনগত মান ভাল থাকায় সবজি চাষের পরিধি বৃদ্ধি করবেন বলে জানায়।
এদিকে কৃষি কর্মকর্তারা জানায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষ বেশী লাভ জনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষ। তারা জানায় এ উপজেলায় এখন ১২ মাসই নানা প্রকার সবজি চাষ হচ্ছে। ফলন ভাল করতে সার্বিক ভাবে কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরমুজ আলীর ছেলে আমজাদ খান । এইসএসসি পরীক্ষা পাশ করার পর এক পর্যায়ে তিনি কীটনাশক ও বীজ ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এতে সফলতা না পেয়ে মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। এক পর্যায়ে বাড়ি সংলগ্ন পৈত্রিক জায়গায় করলা,বরবটি, ঢেড়স, কাকরল, গাজর,সিম, টমেটো,পুইশাক,শসাসহ নানা প্রজাতির সবজি চাষ শুরু করেন। দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে তিনি বার মাসই এখন সবজি চাষ করছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষেই তিনি ভাগ্য বদল করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি সবজি চাষের উদ্যোক্তা হিসাবে কৃষকদের মাঝে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। তাছাড়া সফল সবজি চাষি হিসাবে তিনি ২০১২-১৪ সনে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে ২ বার পুরুস্কার পেয়েছেন।
তিনি বলেন বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও বন্যা থাকায় নিচু এলাকায় সবজি চাষ করা যায় না। তাই উচু জমিতে সবজি চাষ করতে জায়গা বদল করে আখাউড়ায় আসা হয়।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারমাসই নানা প্রকার সবজি আবাদ হচ্ছে। ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় স্থানীয় কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়। কম খরচে লাভ বেশী হওয়ায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে সবজি চাষ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ