নওগাঁর আত্রাইয়ে বিদ্যুতের তারে প্লাস্টিকের পাইপ মোড়ানোর সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক ব্যক্তি নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর একজনকে রাজশাহী মেডিকের কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার উপজেলার বাঁকা গ্রামে।
নিহত শামছুল আরেফিন রাজু বাড়ি আত্রাই উপজেলা বাঁকা গ্রামের ।
আহত হন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ জুলফিকার আলী হায়দার (৭৭), বাঁকা গ্রামের সাজ্জাদ সরকারের ছেলে উসমান গণি (৪০) ও মহাদিঘী গ্রামের বিদ্যুতের মিস্ত্রী রফিকুল ইসলাম (৩৮)। আহতদের মধ্যে রফিকুল ও উসমান গণিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উসমান গণিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের জন্য নির্মাণ কাজ চলছিল। ওই ভবনের উপর দিয়ে বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের তার যাওয়ায় তারে প্লাস্টিক পাইপ মোড়ানের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে রাজু ঘটনাস্থলেই মারা যান।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হুসাইন বলেন, আমরা আমাদের ভবনের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার সরিয়ে নেয়ার জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর আবেদন করি। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি আগস্ট মাসের ১৬ তারিখে টাকাও জমা দিয়েছি। সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কাজ করতে এলে আমরা তাদের সাথে সহযোগিতা করছিলাম। এদিকে কাজ সমাপ্ত না হতেই সাব-স্টেশন থেকে লাইন চালু করায় এ দুঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বিষয়টিকে সম্পূর্ণরুপে অস্বীকার করেছেন নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আত্রাই জোনাল অফিসের কর্মকর্তা। এ অফিসের ডিজিএম শামসুজ্জামান বলেন, তারা বিদ্যুতের পোল স্থান্তরের জন্য আবেদন করেছেন। বিধি মোতাবেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এ কাজ সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু তারা আমাদেরকে না জানিয়ে লেবার নিয়ে সেখানে বিদ্যুতের তারে প্লাস্টিকের পাইপ মোড়াচ্ছিল।
বিশেষ কারন বশত নওগাঁ থেকে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনটি বন্ধ থাকার সুযোগে তারা এ কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে নওগাঁ থেকে লাইন চালু করলে দুর্ঘটনা সৃষ্টি হয়। মিস্ত্রী হিসেবে তারা যাদেকে নিয়ে গিয়েছেন তারা এ অফিসের কেউ নয়।
আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোসলেম উদ্দিন জানান, ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















