০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আমন চারা বিক্রির ধুম দাম ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমের পুরো দমে আমন আবাদ শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা হাল চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুুত করে আমন চারা রোপনে এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছে । ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। এ মৌসুমে উন্নত বীজ চারার চাহিদা থাকায় বিভিন্নœ স্থানে কৃষকরা জমিতে বীজতলা তৈরী করে আমন চারা বিক্রি করছেন । বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় বেজায় খুশি তারা।
কৃষকরা জানায় ধান চাষ আবাদ থেকে চারা বিক্রিতে অধিক লাভ হওয়ায় অনেকেই মৌসুমী বীজতলা তৈরী করে চারা বিক্রিতে ঝুঁকছেন। তবে এ মৌসুমে আমন চারা অন্যান্য বছরের চাইতে বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে। ১ বিঘা জমির আমন চারা বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা থেকে ১৫শ টাকা উপরে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন আবাদে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানি সেচ ছাড়াই এই কৃষকরা আমন ধান চাষ করে থাকেন। তাই কৃষকরা পুরো দমে আমন ধানের চারা আবাদ করছেন।
সরেজমিনে পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, উপজেলার দক্ষিণ ও মোগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় কৃষকরা আমন ধান আবাদে জমি প্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপনের কাজে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সবুজ ধানের কচি চারায় ভরে উঠছে মাঠ।
সেই সাথে স্থানীয় কৃষকরা আমন চারা বিক্রির ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার লোকজন খোঁজ খবর নিয়ে আমন ধান আবাদ করতে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করছেন। তবে চারা বিক্রেতারা ও বসে নেই। ভাল দাম পাওয়ার আশায় বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ করে কৃষকদের কাছে চারা পৌঁছে দিচ্ছেন।
কৃষক মো. হারুণ মিয়া জানায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও উন্নত জাতের ৫ বিঘা জমিতে ২৪ মন ধান দিয়ে বীজতলা তৈরী করেছেন। চলছে বিকি কিনি। তিনি আরো জানায়,ধরখার কসবাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা যোগাযোগ করে চারা ক্রয় করছেন। অনেকে এখান থেকে ক্রয় করে আবার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। সময়মতো যদি আমন চারা বিক্রি হয় তাহলে ধান ক্রয় জমি প্রস্তুত,জমি ইজারাসহ অন্যান্য খরচ বাদে দেড় লক্ষ টাকার উপর আয় হবে। ওই পরিমান জমিতে ধান আবাদ করা হলে ২০-২৫ হাজার টাকা ধান পাওয়া যেতো না।
কৃষক লিয়াকত হোসেন বলেন জমিতে বীজতলা আর সবজি ছাড়া কিছুই করা হয়নি। আমন চারায় লাভ বেশী হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে তিনি আমন চারা বিক্রি করছেন। এ মৌসুমে বৃষ্টিপাতে কিছু চারা নষ্ট হলেও এরপরও আশা করছেন তিনি ৮০-৯০ হাজার টাকা চারা বিক্রি হবে। তবে ধান চারা ভাল রাখতে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নেওয়া হয়।
কৃষক আবুল কালাম জানায়, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারনে নিচু জমি তলিয়ে অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া এবছর ধানের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ধানের চারার দামও বেড়ে গেছে। ১ বিঘা জমির চারা ১৪শ টাকায় ক্রয় করা হয়। গত বছরের ৮৫০টাকায় ক্রয় করা হয়েছে বলে জানায়।
তিনি আরো বলেন গত বোরো মৌসুমে দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের ফলন ভাল না হওয়ায় বুক ভরা আশা নিয়ে এখন আমন ধান আবাদে মাঠে নেমে কাজ করছেন। আগের সব লোকসান পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা করছেন। কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ৮ বিঘা জমি আবাদ করতে চারা রোপন করা হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে বেশীভাগ চারা নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রতি ১বিঘা জমির চারা ১৪শ টাকায় কেনা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলায় স্থানীয় কৃষকরা পুরোদমে আমন ধান আবাদ শুরু করছেন। তবে চারা কোন সংকট নেই। শেষ পযর্ন্ত যদি আবহাওয়া অনকুলে থাকলে আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজী মফিকুল ইসলাম ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

সামাজিক সংগঠন সুহৃদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আমন চারা বিক্রির ধুম দাম ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষক

প্রকাশিত : ০৬:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমের পুরো দমে আমন আবাদ শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা হাল চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুুত করে আমন চারা রোপনে এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করছে । ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। এ মৌসুমে উন্নত বীজ চারার চাহিদা থাকায় বিভিন্নœ স্থানে কৃষকরা জমিতে বীজতলা তৈরী করে আমন চারা বিক্রি করছেন । বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় বেজায় খুশি তারা।
কৃষকরা জানায় ধান চাষ আবাদ থেকে চারা বিক্রিতে অধিক লাভ হওয়ায় অনেকেই মৌসুমী বীজতলা তৈরী করে চারা বিক্রিতে ঝুঁকছেন। তবে এ মৌসুমে আমন চারা অন্যান্য বছরের চাইতে বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে। ১ বিঘা জমির আমন চারা বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা থেকে ১৫শ টাকা উপরে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন আবাদে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানি সেচ ছাড়াই এই কৃষকরা আমন ধান চাষ করে থাকেন। তাই কৃষকরা পুরো দমে আমন ধানের চারা আবাদ করছেন।
সরেজমিনে পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, উপজেলার দক্ষিণ ও মোগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় কৃষকরা আমন ধান আবাদে জমি প্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপনের কাজে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সবুজ ধানের কচি চারায় ভরে উঠছে মাঠ।
সেই সাথে স্থানীয় কৃষকরা আমন চারা বিক্রির ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার লোকজন খোঁজ খবর নিয়ে আমন ধান আবাদ করতে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করছেন। তবে চারা বিক্রেতারা ও বসে নেই। ভাল দাম পাওয়ার আশায় বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ করে কৃষকদের কাছে চারা পৌঁছে দিচ্ছেন।
কৃষক মো. হারুণ মিয়া জানায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও উন্নত জাতের ৫ বিঘা জমিতে ২৪ মন ধান দিয়ে বীজতলা তৈরী করেছেন। চলছে বিকি কিনি। তিনি আরো জানায়,ধরখার কসবাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা যোগাযোগ করে চারা ক্রয় করছেন। অনেকে এখান থেকে ক্রয় করে আবার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। সময়মতো যদি আমন চারা বিক্রি হয় তাহলে ধান ক্রয় জমি প্রস্তুত,জমি ইজারাসহ অন্যান্য খরচ বাদে দেড় লক্ষ টাকার উপর আয় হবে। ওই পরিমান জমিতে ধান আবাদ করা হলে ২০-২৫ হাজার টাকা ধান পাওয়া যেতো না।
কৃষক লিয়াকত হোসেন বলেন জমিতে বীজতলা আর সবজি ছাড়া কিছুই করা হয়নি। আমন চারায় লাভ বেশী হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে তিনি আমন চারা বিক্রি করছেন। এ মৌসুমে বৃষ্টিপাতে কিছু চারা নষ্ট হলেও এরপরও আশা করছেন তিনি ৮০-৯০ হাজার টাকা চারা বিক্রি হবে। তবে ধান চারা ভাল রাখতে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নেওয়া হয়।
কৃষক আবুল কালাম জানায়, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারনে নিচু জমি তলিয়ে অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া এবছর ধানের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ধানের চারার দামও বেড়ে গেছে। ১ বিঘা জমির চারা ১৪শ টাকায় ক্রয় করা হয়। গত বছরের ৮৫০টাকায় ক্রয় করা হয়েছে বলে জানায়।
তিনি আরো বলেন গত বোরো মৌসুমে দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের ফলন ভাল না হওয়ায় বুক ভরা আশা নিয়ে এখন আমন ধান আবাদে মাঠে নেমে কাজ করছেন। আগের সব লোকসান পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা করছেন। কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ৮ বিঘা জমি আবাদ করতে চারা রোপন করা হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে বেশীভাগ চারা নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রতি ১বিঘা জমির চারা ১৪শ টাকায় কেনা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলায় স্থানীয় কৃষকরা পুরোদমে আমন ধান আবাদ শুরু করছেন। তবে চারা কোন সংকট নেই। শেষ পযর্ন্ত যদি আবহাওয়া অনকুলে থাকলে আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজী মফিকুল ইসলাম ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ