কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের মাদকাসক্ত এক ছেলের কারনে তার পিতা ওই গ্রামের ইউপি সদস্য পরিবারে সদস্যদের নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। সবসময় চিন্তিত থাকেন কখন তার ছেলে মাদকের টাকার জন্য তার ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। সরেজমিন সোমবার ওই এলাকা ঘুরে জানা যায়, চান্দলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার সবুজপাড়া গ্রামের মো: ফুল মিয়ার ৩ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মাসুকুল ইসলাম(৪০) সবার বড়। এসএসসি গন্ডি না পেরোতেই ১৬ বছর বয়সে মাসুক বখাটে ছেলেদের সাথে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে কাউকে কিছু না বলে বাড়ী থেকে সিলেটে চলে যায়। সেখানে যেয়ে সে তার মত করে ভাঙ্গারী ব্যবসা শুরু করে। বাড়ীতে কোন টাকা-পয়সা না পাঠালেও সে ফোনে মাঝে মধ্যে বাড়ীর খবরা-খবর রাখত। ৬ বছর পর হঠাৎ করে সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ ফোনে সে জানায় সে ইন্ডিয়া চলে যাবে। তারপর থেকে সে নিখোজ হয়ে যায়। আবারও ৭ বছর বাড়ীর কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখেনি। হঠাৎ গত মে মাসে সে বাড়ীতে ফোন দিয়ে জানায় ৭ হাজার টাকা হলে সে দেশে ফিরে আসতে পারবে। বর্তমানে সে ইন্ডিয়ার বর্ডারে আটকে আছে। তার বাবা ইউপি সদস্য মাানবিক কারণে ছেলের কথা ভেবে তার কথামত বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। তারপর করোনার লক ডাউনের সময় ৩ মাস সে বাড়ীতে ভালই ছিল। আবারও বখাটেদের সাথে মিশে সে পুরানো অভ্যাসে ফিরে যায়। মাদকাসক্ত হয়ে টাকার জন্য প্রতিনিয়ত তার বাবা ও ২ ভাইকে গালাগালী করতে থাকে । ১ম বেশ কিছু দিন টাকা-পয়সা দিলেও তারা তার কোন পরির্বতন না দেখে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়। সে আরও বেপোরোয়া হয়ে তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভাঙ্গার চেষ্টাসহ তার ভাইদের মারধর করতে তেড়ে আসে। সম্প্রতি সে তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যে আপরাদ দিয়ে সাংবাদিকদের মিথ্যে তথ্য দিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় তার মান-সন্মান ক্ষুন্ন করে সংবাদ পরিবেশনসহ থানায় মিথ্যে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিল। সে সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ইউপি সদস্য প্রতিবাদ সংবাদ ছাপিয়েছেন। ওই গ্রামের চান মিয়া বেপারী, আবদুল মান্নান, আবদুল হামিদ, হারুন অর রশীদ, মাসুকুলের চাচা-দেলু মিয়া, চাচাত ভাই মো: কাউছার, ছোট ভাই মোবারক হোসেন ও মোশারফ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানায়, প্রকৃত পক্ষে সে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সব সময় মাতাল হয়ে পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন লোকজনের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তাকে নিয়ে এলাকায় কয়েকবার সালিসী বৈঠক হয়েছে। তার বাবা ফুল মিয়া মেম্বার বলেন, নিজের ও পরিবারের সম্মানের দিকে তাকিয়ে আমি আমার ছেলের বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ দেইনি। তবে সব সময় আমি আমার পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তবা আলী শাহীনকে অবগত করেছি। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহিনতায় ভ‚গছি। যে কোন সময় সে আমার ও আমার পরিবারের ক্ষতি করতে পারে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ আমি আমার মাদকাসক্ত ছেলেকে আবারও দেখতে পাচ্ছি না। তবে আতংকে আছি কখন আবার জানি ফিরে এসে সে কোন্ অঘঠন ঘঠিয়ে বসে। তিনি বলেন, আমি আমার এ ছেলের নামেও আমি কিছু সম্পদ রেখেছিলাম। সে ভাল হয়ে ফিরে এলে তার নামে লিখে দিতাম। এ ব্যাপারে চান্দলা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তবা আলী শাহীন বলেন, ছেলেটি মাদকাসক্ত সত্য। তাকে ভাল করার জন্য তার বাবাসহ আমরা অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সে ভাল হলে তার বাবা তার নামে সম্পদ লিখে দিবে বলে আমাকে জানিয়েছে। বর্তমানে তাকে নিয়ে তারা সবাই আতংকে আছে এটাও সত্য।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর





















