সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ না করেই উন্নয়ন বরাদ্দের কোটি টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারার পাঁয়তারা শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাথে কয়েক যুগ ধরে সখ্যতা গড়ে উঠা একটি সিন্ডিকেট ও দালালরা। আর এর জন্য তারা নিচ্ছেন মোটা অংকের কমিশন। এর ভাগ যাচ্ছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা থেকে শুরু করে উপরস্থ কর্মকর্তাদের পকেটেও। আর এসব এখন অপেন সিক্রেট বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,২০১৯-২০২০অর্থবছরের উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৫৭টি বিদ্যালয়ে বৃহৎ মেরামত বাবদ প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকা করে ১কোটি ১৬লাখ এবং ১৯টি বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ প্রতিটি বিদ্যালয়ে দেড় লাখ টাকা করে ২৮লাখ ৫০হাজার টাকা মোট এক কোটি ৩৪লাখ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু বরাদ্দকৃত বিদ্যালয়ে এখনও কোন কাজ শুরু বা মেরামতের চিহ্ন পাওয়া যায় নি। আর কাজ না করেই উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা,দালাল ও একটি সিন্ডিকেট ভাগবাটোয়ারার পাঁয়তারা শুরু করেছে। শুধু এই বছরেই নয় তারা র্দীঘ কয়েক যুগ ধরেই সরকারী টাকা নয়ছয় দেখিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। আর বদলী,ইনক্রিমেন্ট,নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের পছন্দ মত যোগদান নিয়ন্ত্রণ কাজে সহযোগিতা করছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাথে কয়েক যুগ ধরে সখ্যতা গড়ে উঠা ঐ সিন্ডিকেট ও দালালরা অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে একাধিক শিক্ষক ও একাধিক স‚ত্রে জানা গেছে,বছরের শুরুতে কোনো বিদ্যালয়ে মেরামতের কি কি কাজ করতে হবে এর একটি চাহিদা তৈরি করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। বিদ্যালয় মেরামতের বিষয়টি দেখ ভাল করেন তারা। প্রকৌশল বিভাগের প্রত্যয়ন ছাড়া কাজ সম্পাদনের সম‚হ টাকা ছাড় দেয়ার এখতিয়ার নেই। এর জন্য প্রতিটি বিদ্যালয় প্রকৌশলী বিভাগকে ১০হাজার আর শিক্ষা অফিস কে ১০হাজার টাকা দিলেই সব দায়িত্ব তাদের। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিদের আর কিছুই করতে হবে না। আর এর জন্য আসতে হবে কয়েকজন দালালদের মাধ্যমে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল খায়ের বলেন,পূর্বে কি হয়েছে আমি তা জানি না। আমি নতুর এসেছি। কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ভাগভাটোয়ারা নয়,শতভাগ কাজ করার শর্তে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রচলিত নিয়মে কাজের আগে বরাদ্দকৃত সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির যৌথ অ্যাকাউন্টে অর্ধেক টাকা প্রদান করা হয়েছে। কাজ সমাপ্তের পরে বাকি অর্ধেক টাকা প্রদান করা হবে।
একাধিক বিদ্যালয়ে কাজ শুরু হয়ে শেষও হয়েছে। একে ত করোনা এর মধ্যে পর পর তিনবার বন্যার পানিতে ডুবে ছিল প্রতিটি স্কুল। এর মধ্যেই কখন আর কিভাবে কাজ শুরু হল আর শেষ এমন প্রশ্নের কোন সু উত্তর দিতে পারেন নি এই শিক্ষা কর্মকর্তা।
এদিকে নাম প্রকাশে এক জনপ্রতিনিধি জানান,আমি এবার করোনা ও বন্যায় স্কুল মেরামতের টাকা উত্তোলন না করে টাকা গুলো ফেরৎ দেওয়ার জন্য পরার্মশ দিয়েছিলাম। কারন বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন ভাবেই কাজ করা সম্ভবনা। এরপরও আমার কথা কেউ শুনেনি।
এদিকে প্রতিটি স্কুলের পাশের স্থানীয় বাসিন্দাগন ও অভিবাবকগন জানান,প্রতি বছরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামতের কাজ আসে শুনি কিন্তু কোন কাজ করতে ত দেখি না। এবারও কাজ শুরু হয়নি। এবার গত এক মাসের ব্যবধানে পর পর তিন বার বন্যার পানিতে উপজেলার প্রতিটি স্কুল পানিতে ডুবে ছিল। এছাড়াও গত ৪-৫মামের মধ্যে স্কুল গুলোতে কোন কাজ করতে দেখা নি।
এব্যাপারে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বরাদ্দকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলাপ করলে অনেকেই জানান,অ্যাকাউন্টে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা জমা হয়েছে। এখনও কাজ শুরু করা হয়নি,দু-একদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া অনেকেই বরাদ্দের টাকা প্রাপ্তির বিষয়ে অবগত নন বলেও জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যৌথভাবে ২০১৯-২০২০অর্থবছরের প্রাক-প্রাথমিক,রুটিন মেইনটেনেন্স এবং ¯িøপের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করেছেন,আমাদেরকে কিছুই জানাননি,বিদ্যালয়ে কোনো কাজও করেন নি বলে জানান,অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন।
এখনও কাজ সমাপ্তের কোনো চিঠি পাননি উল্লেখ করে উপজেলা প্রকৌশলী কার্য্যালয় সুত্রে জানাযায়,বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের প্রাক্কলন তৈরি করে আমরা দিলেও,কাজ সমাপ্তের চিঠি পেলে ভিজিট করবে,তারপর প্রত্যয়ন দেয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত কাজ সমাপ্তের চিঠি পায় নি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন,উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দূর্নীতি সহ্য করা হবে না,সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





















