গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্বামীকে ডির্ভোস দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে মাদকাসক্ত স্বামী। এ ঘটনার মাদকাসক্ত তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাটিকাটা রেললাইন এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে।
নিহত হলেন, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বেলতলী এলাকার শাহ আলমের মেয়ে সালমা আক্তারকে (২৫)।
নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম আগবপুর এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে লিটন শেখের সঙ্গে প্রায় ৭/৮ বছর আগে পারিবারিক সালমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরেই পারিবারিক কলহের কারণে সালমা আক্তার তার স্বামীকে তালাক দেয়।
পরবর্তীতে স্বামী লিটনের পরিবার ও তাকে বুঝিয়ে আবারো তাকে বিয়ে করেন। এরপর তারা জীবিকার খোঁজে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আসেন।
পরে তারা কালিয়াকৈর উপজেলার মাটিঘাটা এলাকার বাহারুলের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে ববসবাস শুরু করে। সালমা স্থানীয় এপেক্স ল্যানজারি কারখানার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তাদের সংসার জীবনে লিজা মনি নামে চার বছরের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে। কিন্তু স্বামী লিটন ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। কোনো কাজকর্মও করে না লিটন। যদিও কোনো কারখানায় কাজ নেন, মাত্র কদিন কাজ করার পর আবার তিনি ছেড়ে দেন।
এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলে আসছিল। স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে গত ২৪ দিন আগে আবারো লিটনকে তালাক দেয় সালমা। পরে সালমা মেয়েকে নিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে একই এলাকার পাশের বাছেদের বাড়িতে ভাড়া বাসায় চলে যায়।
এতে লিটন ক্ষিপ্ত হন। সালমা বৃহস্পতিবার সকালে তার কর্মস্থলে এপেক্স ল্যানজারি কারখানায় যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাবেক স্বামী লিটন একটি ধারালো ছুরি দিয়ে পিছন থেকে সালমাকে আঘাত করে। এরপর তাকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে ঘাতক লিটনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে সালমাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লিটনকে আটক ও রক্তাক্ত ছুরি উদ্ধার করে। পরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
নিহতের বাবা শাহ আলম জানান, মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কিছুদিন পরই জামাই লিটন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। যার কারণে সে আর কোনো কাজকাম করে না। এনিয়ে একাধিকবার ঝগড়া-ঝাটি হলে আমার মেয়ে তাকে তালাক দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ছুরিকাঘাত করে আমার মেয়েকে খুন করেছে।
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া ঘাতক তালাকপ্রাপ্ত স্বামী লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ




















