০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

দাঙ্গা হলে অর্থ বন্ধ, নির্দেশ ট্রাম্পের

 

দাঙ্গা হলেই ফেডারেল ফান্ড বন্ধ। নির্দেশে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে মার্কিন পুলিশের সমর্থনে সোচ্চার হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার।

এ বার আর কোনো হুমকি নয়, একেবারে নির্দেশনামায় সই করলেন ট্রাম্প। আইনশৃঙ্খলার অবণতি হলে অ্যামেরিকার শহরগুলিতে ফেডারেল ফান্ড বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল শহরগুলি এই কেন্দ্রীয় সাহায্য বন্ধের হুমকির মধ্যে পড়ল। তার মধ্যে অন্যতম পোর্টল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, সিয়াটেল।

হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা বিবৃতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমার প্রশাসন করদাতাদের পয়সা ওই সব শহরে দেবে না, যেগুলি আইন-শৃঙ্খলাহীন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম ব্রারকেও বলা হয়েছে, যে সব শহরে সহিংসতার অনুমতি দেয়া হয়েছে, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি,  তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উদ্যোগী হোন।

আর সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বার জানিয়েছেন, অ্যামেরিকার পুলিশ বর্ণবাদী নয়। আর যাঁরা প্রতিবাদ আন্দোলন চালাচ্ছেন, তাঁদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, দাঙ্গার আগে কী অস্ত্র কিনছেন, সে সবই নজরে আছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বর্ণবাদ, বিশেষ করে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু, জেকব ব্লেককে সাতটি গুলি নির্বাচনী প্রচারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যামেরিকার ভোটারদের একটা অংশ যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পছন্দ করছেন না, সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু ট্রাম্প আর এ নিয়ে পিছনে ফিরে তাকাতে রাজি নন। তিনিও আইন-শৃঙ্খলাকে নির্বাচনী বিষয় করে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই তিনি কেনোশা গিয়ে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শহরে যে জায়গায় সহিংসতা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। তারপর এই নির্দেশ। কেনোশা, পোর্টল্যান্ডে ট্রাম্পের সমর্থকরাও বিক্ষোভের মোকাবিলা করতে শুরু করে দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরো উত্তেজক হয়েছে।

বার বলেছেন,যে সব শহরে সহিংসতা হয়েছে, আমি  সেখানকার পুলিশ প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা একমত যে বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা করেছে। ওরা দেশজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা জানি, তাঁরা কারা। ওঁদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আর দেশজুড়ে একটা ধারণা তৈরি করে দেয়া হচ্ছে যে, পুলিশ বর্ণবাদী। তা আদৌ সত্যি নয়। ফ্লয়েড বা ব্লেক হলো বিরল ঘটনা। অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট মুভমেন্ট বা অ্যান্টিফা এই বিক্ষোভের পিছনে আছে।

ট্রাম্পেরসিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর টুইট করে বলেছেন,ট্রাম্প নিউ ইয়র্ককে শাস্তি দিতে চাইছেন। কিন্তু তিনি রাজা নন। তিনি কিছুতেই নিউ ইয়র্ককে অর্থ দেয়া বন্ধ করতে পারেন না। এটা বেআইনি স্টান্ট ছাড়া আর কিছু নয়।পোর্টল্যান্ডের মেয়র বলেছেন, ট্রাম্প আবার শহরগুলিকে টার্গেট করছেন। তিনি নৈরাজ্যসৃষ্টিকারী।

বিজনেস বাংলাদেশ/এসএম

জনপ্রিয়

দাঙ্গা হলে অর্থ বন্ধ, নির্দেশ ট্রাম্পের

প্রকাশিত : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

দাঙ্গা হলেই ফেডারেল ফান্ড বন্ধ। নির্দেশে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে মার্কিন পুলিশের সমর্থনে সোচ্চার হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার।

এ বার আর কোনো হুমকি নয়, একেবারে নির্দেশনামায় সই করলেন ট্রাম্প। আইনশৃঙ্খলার অবণতি হলে অ্যামেরিকার শহরগুলিতে ফেডারেল ফান্ড বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল শহরগুলি এই কেন্দ্রীয় সাহায্য বন্ধের হুমকির মধ্যে পড়ল। তার মধ্যে অন্যতম পোর্টল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, সিয়াটেল।

হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা বিবৃতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমার প্রশাসন করদাতাদের পয়সা ওই সব শহরে দেবে না, যেগুলি আইন-শৃঙ্খলাহীন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম ব্রারকেও বলা হয়েছে, যে সব শহরে সহিংসতার অনুমতি দেয়া হয়েছে, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি,  তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উদ্যোগী হোন।

আর সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বার জানিয়েছেন, অ্যামেরিকার পুলিশ বর্ণবাদী নয়। আর যাঁরা প্রতিবাদ আন্দোলন চালাচ্ছেন, তাঁদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, দাঙ্গার আগে কী অস্ত্র কিনছেন, সে সবই নজরে আছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বর্ণবাদ, বিশেষ করে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু, জেকব ব্লেককে সাতটি গুলি নির্বাচনী প্রচারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যামেরিকার ভোটারদের একটা অংশ যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পছন্দ করছেন না, সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু ট্রাম্প আর এ নিয়ে পিছনে ফিরে তাকাতে রাজি নন। তিনিও আইন-শৃঙ্খলাকে নির্বাচনী বিষয় করে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই তিনি কেনোশা গিয়ে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শহরে যে জায়গায় সহিংসতা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। তারপর এই নির্দেশ। কেনোশা, পোর্টল্যান্ডে ট্রাম্পের সমর্থকরাও বিক্ষোভের মোকাবিলা করতে শুরু করে দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরো উত্তেজক হয়েছে।

বার বলেছেন,যে সব শহরে সহিংসতা হয়েছে, আমি  সেখানকার পুলিশ প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা একমত যে বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা করেছে। ওরা দেশজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা জানি, তাঁরা কারা। ওঁদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আর দেশজুড়ে একটা ধারণা তৈরি করে দেয়া হচ্ছে যে, পুলিশ বর্ণবাদী। তা আদৌ সত্যি নয়। ফ্লয়েড বা ব্লেক হলো বিরল ঘটনা। অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট মুভমেন্ট বা অ্যান্টিফা এই বিক্ষোভের পিছনে আছে।

ট্রাম্পেরসিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর টুইট করে বলেছেন,ট্রাম্প নিউ ইয়র্ককে শাস্তি দিতে চাইছেন। কিন্তু তিনি রাজা নন। তিনি কিছুতেই নিউ ইয়র্ককে অর্থ দেয়া বন্ধ করতে পারেন না। এটা বেআইনি স্টান্ট ছাড়া আর কিছু নয়।পোর্টল্যান্ডের মেয়র বলেছেন, ট্রাম্প আবার শহরগুলিকে টার্গেট করছেন। তিনি নৈরাজ্যসৃষ্টিকারী।

বিজনেস বাংলাদেশ/এসএম