০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

নওগাঁয় আড়াই শতাধীক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নওগাঁর রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের জায়গায় অবৈধ্যভাবে গড়ে তোলা আড়াই শতাধীক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার মো: নুরুজ্জামন মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
এদিকে শতশত ক্ষতিগ্রস্থ্যরা জানান, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ঘুষ নিয়ে এই অবৈধ্য ঘর নিমাণের অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। দ্রæত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্থ্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর রেলওয়ে লাইনের পশ্চিম পাশ দিয়ে নওগাঁ-নাটোর মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কের দুই পাশ দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিচুঁ ডোবা ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ডোবায় মাটি কেটে ভরাট করে ২শ’ ৮৪টি ইটের তৈরি ভবন নির্মাণ করে দোকানপাঠ শুরু করেন। এ ব্যাপারে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বারং বার বাধা দিয়েও অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে পারেনি। ফলে গত প্রায় এক মাস আগে মাইকিং করে স্থাপনা অপসারণ করার নির্দেশ দিলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে ব্যবসা করে আসছিল।
এরই মধ্যে গত ১০/১২ দিন আগে লিখিত এবং আবারো মাইকিং করে স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হলেও ভবনগুলো অপসারণ করা হয়নি। ফলে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার মো: নুরুজ্জামান অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা দুটি স্কেবেটার মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া শুরু করেন।
অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারী মামুন হোসেন সাংবাদিকদের জানান, স্থাপনা নির্মাণকারীদের বৈধ কাগজপত্র করে দেয়া হবে স্থানীয় সদ্য প্রয়াত এমপি ইসরাফিল আলমের গাড়ী চালক আনোয়ার হোসেনের আশ্বাসে প্রতি ঘর বাবদ ১ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। সেই টাকা সদ্য প্রয়াত সাংসদের নামে গাড়ী চালক আনোয়ার হোসেন নিয়েছেন। তার ৪টি ঘর তৈরীতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে ইট দিয়ে চারটি দোকান ঘড় নির্মান করেছেন।
তারা আরো ক্ষোভের সাথে কিন্তু স্থাপনা উচ্ছেদের কারনে পথে বসেছেন। এমন কথা জানিয়েছেন আরো কয়েকজন। তারা বলছেন, স্থাপনা উচ্ছেদে কয়েকশ’ পরিবার আজ পথে বসল। কিভাবে তারা চলবেন, কিভাবে সংসার ছেলে/মেয়ে পরিবার চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তাই ঘুম হারাম হয়ে গেল।
ভুক্তোভোগী মুনছুর রহমান জানান, তার কাগজপত্র সব রয়েছে। তারপরও কোন কাজগপত্র না দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভেঙ্গে ফেলেছেন। চাকুরি শেষে পাওয়া শেষে যে টাকা পেয়েছিলেন সেই টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। তিনিসহ ক্ষতিগ্রস্থ্যরা অভিযোগ করে বলেন, সান্তাহার জংসনের কানুনগো প্রতি ঘর বাবদ রশিদ কাটার সময় ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। সে সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন তাদের ঘর কখনো ভাঙ্গা হবে না।
এ ব্যাপারে সদ্য প্রয়াত এমপি ইসরাফিল আলমের গাড়ী চালক আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সান্তাহার জংসনের কানুনগো মহসিন আলী ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক বছরের মধ্যে তাদের কোন লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার মো: নুরুজ্জামন জানান, দখল এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মানের সময় আমরা বারবার বন্ধ করতে এবং দখল মুক্ত করতে তাগিদ এবং মাইকিং করেও কোন ফল হয়নি। তাই অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ের জায়গা অবৈধ দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অপরপ্রশ্নে তিনি আরো বলেন, রেলওয়ের কেউ ঘুষ নিয়ে জনসাধারণদের ঘর অবৈধ্যভাবে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ্যভাবে যদি কেউ অবৈধভাবে রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

নওগাঁয় আড়াই শতাধীক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রকাশিত : ০৪:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

নওগাঁর রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের জায়গায় অবৈধ্যভাবে গড়ে তোলা আড়াই শতাধীক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার মো: নুরুজ্জামন মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
এদিকে শতশত ক্ষতিগ্রস্থ্যরা জানান, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ঘুষ নিয়ে এই অবৈধ্য ঘর নিমাণের অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। দ্রæত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্থ্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর রেলওয়ে লাইনের পশ্চিম পাশ দিয়ে নওগাঁ-নাটোর মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কের দুই পাশ দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিচুঁ ডোবা ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ডোবায় মাটি কেটে ভরাট করে ২শ’ ৮৪টি ইটের তৈরি ভবন নির্মাণ করে দোকানপাঠ শুরু করেন। এ ব্যাপারে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বারং বার বাধা দিয়েও অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে পারেনি। ফলে গত প্রায় এক মাস আগে মাইকিং করে স্থাপনা অপসারণ করার নির্দেশ দিলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে ব্যবসা করে আসছিল।
এরই মধ্যে গত ১০/১২ দিন আগে লিখিত এবং আবারো মাইকিং করে স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হলেও ভবনগুলো অপসারণ করা হয়নি। ফলে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার মো: নুরুজ্জামান অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা দুটি স্কেবেটার মেশিন দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া শুরু করেন।
অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারী মামুন হোসেন সাংবাদিকদের জানান, স্থাপনা নির্মাণকারীদের বৈধ কাগজপত্র করে দেয়া হবে স্থানীয় সদ্য প্রয়াত এমপি ইসরাফিল আলমের গাড়ী চালক আনোয়ার হোসেনের আশ্বাসে প্রতি ঘর বাবদ ১ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। সেই টাকা সদ্য প্রয়াত সাংসদের নামে গাড়ী চালক আনোয়ার হোসেন নিয়েছেন। তার ৪টি ঘর তৈরীতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে ইট দিয়ে চারটি দোকান ঘড় নির্মান করেছেন।
তারা আরো ক্ষোভের সাথে কিন্তু স্থাপনা উচ্ছেদের কারনে পথে বসেছেন। এমন কথা জানিয়েছেন আরো কয়েকজন। তারা বলছেন, স্থাপনা উচ্ছেদে কয়েকশ’ পরিবার আজ পথে বসল। কিভাবে তারা চলবেন, কিভাবে সংসার ছেলে/মেয়ে পরিবার চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তাই ঘুম হারাম হয়ে গেল।
ভুক্তোভোগী মুনছুর রহমান জানান, তার কাগজপত্র সব রয়েছে। তারপরও কোন কাজগপত্র না দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভেঙ্গে ফেলেছেন। চাকুরি শেষে পাওয়া শেষে যে টাকা পেয়েছিলেন সেই টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। তিনিসহ ক্ষতিগ্রস্থ্যরা অভিযোগ করে বলেন, সান্তাহার জংসনের কানুনগো প্রতি ঘর বাবদ রশিদ কাটার সময় ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। সে সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন তাদের ঘর কখনো ভাঙ্গা হবে না।
এ ব্যাপারে সদ্য প্রয়াত এমপি ইসরাফিল আলমের গাড়ী চালক আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সান্তাহার জংসনের কানুনগো মহসিন আলী ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক বছরের মধ্যে তাদের কোন লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিভিশনাল এস্টেট অফিসার মো: নুরুজ্জামন জানান, দখল এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মানের সময় আমরা বারবার বন্ধ করতে এবং দখল মুক্ত করতে তাগিদ এবং মাইকিং করেও কোন ফল হয়নি। তাই অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ের জায়গা অবৈধ দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অপরপ্রশ্নে তিনি আরো বলেন, রেলওয়ের কেউ ঘুষ নিয়ে জনসাধারণদের ঘর অবৈধ্যভাবে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ্যভাবে যদি কেউ অবৈধভাবে রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ