চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওর্য়াডের উত্তর আলিঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস। বোয়ালখালী-পটিয়া উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেষে বসবাস করা লোক গুলোর মুখে দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি ভেসেই উঠে।
প্রতিবছর এই কর্ণফুলী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পরে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত ঘর-বাড়ি ও বসত ভিটা। নদীর তীরে ঠেকসই বøক নির্মাণ না করা, চলাচলের সড়ক নির্মাণ না করা, এবং আলিঘাটস্থ পটিয়া-বোয়ালখালী সংযোগ ব্রিজ নির্মাণ না করায় জন জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। স্থানীয়দের দাবি গত এক যুগ ধরেও লাগেনি এই এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া। জনপ্রতিনিধিরা শুধু প্রতিশ্রতিতেই আবদ্ধ।
সরেজমীনে গিয়ে দেখা যায় কোলাগাও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডস্থ আলিঘাটের আশপাশের মানুষগুলো খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কর্ণফুলীর নদীর তীর ঘেষে কয়েকশত ঘড় বাড়ি নদী গর্ভে বিলীনের মুখে। যাতায়ােেতর সড়ক গুলোর বেহাল দশা।
স্থানীয়রা বলেন, আলিঘাটস্থ কর্ণফুলীর নদীর তীরে বক না দেওয়ায় প্রতিবছর তলিয়ে যাচ্ছে কয়েক একর জায়গা, তারা যে সড়ক দিয়ে চলাচল করে সেটিও সংস্কার হয়নি এক যুগ ধরে। শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়ে পোঁছাতে পারেনা। কেউ অসুস্থ হলে ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হলে অনেকেই গুরতর অসুস্থ হয়ে মারাও যান। করোনার এই মহামারীতেও মিলেনি কোন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এখনতো ভোট লাগেনা ভোট লাগলেতো জনগণের প্রয়োজন হতো। চেয়ারম্যানকে ভোটের ২দিন আগে দেখেছিলাম এলাকায় এরপর কখনো এলাকার ধারে কাছেও দেখিনি। এমনকি করোনা কালীন সময়ও তার দেখা মিলেনি এলাকায়।
স্থানীয়রা আরো বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় কোন প্রসূতি রোগিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে জোয়ারের পানি আর বৃষ্টির পানি একসাথে হয়ে আমাদের এলাকাটি বন্যায় প্ল¬াবিত হয়। এমনকি আমাদের এলাকার মেয়েদের কোন ভালো জায়গায় বিয়ে দেওয়াসহ ভালো কোন জায়গায় আশাও করা যায়না, এটা আমাদের জন্য কত বেদনাদায়ক তা শুধু আমরাই বুঝি।
স্থানীয় ফারুক আহম্মদ (৭৫) বলেন, বাপদাদার জায়গাটি দিয়েছিলাম মানুষ সহজেই চলাচল করার জন্য। শুধু তাই না নিজেই স্থাপন করেছিলাম ওই ঘাটটি। স্থাপন করার কয়েক বছর পর কিছুটা সংস্কার হলেও সংযুক্ত সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়ে যায়।
কয়েকজন কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে তারা বলেন, তারা ঠিক সময়ে স্কুল, কলেজে পোঁছাতে পারেনা। অনেকদূর তাদের হেঠে যেতে হয়।
স্থানীয় দোকানদার নূর হুসেন বলেন, আমাদের কাছে হোল সেলে কেও মালামাল বিক্রি করতে আসেনা, এই সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে আসা খুব কষ্টসাধ্য। স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুন টাকা পরিবহন খাতে ব্যায় হয় বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আজিজুল হক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চেয়াম্যানের ম্যধমে আমার কাছে ওই এলাকার জন্য কিছু না আসাই আমি দিতে পারিনি। চেয়ারম্যান যদি আমাকে দিতো তাহলে আমি দিতে পারতাম।
এ বিষয়ে কোলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহম্মদ নূর এর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি কোন অনুদান বা বরাদ্দ যদি ওই এলাকার জন্য আসে তখন তা দিয়ে দিব। করোনা কালীন সময়ে সরকারি ত্রাণ এর জন্য যারা যোগাযোগ করেছেন তারা সবাই ত্রাণ পেয়েছে। আমি ত্রান দিইনি এই বিষয়টা আমার নামে গুজব ছড়াচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর






















