রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দেওয়ার কাজে নিয়োজিত এনজিও গুলোতে স্থানীয়দের পরিবর্তে বিদেশীদের চাকরি দেওইয়া হচ্ছে। যারা বর্তমানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাজ করছে। ধর্মী অনুভূতি এবং মানবিক বিষয়কে পুজি করে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় যে কোন স্বার্থন্বেষী মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতে বিদেশী যে কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে তাদের উপর আস্তা রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজার জেলার বালুখালী, কুতুপালং ,আঞ্জুমান পাড়া এবং নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে মিলেমিশে কাজ করছে বিদেশী নাগরিক, যারা গোপনে চালাচ্ছেন বিভিন্ন অপত–পরতা। দিন দিন বাড়ছে এনজিওতে কর্মকরত বিদেশ নাগরিকদের সংখ্যা। ক্যাম্প গুলোতে কতটি এনজিও কাজ করছে তার সঠিক তথ্য উপাত্ত কারো কাছে নেই। তবে প্রশাসনের অভিমত বর্তমানে ১০৫টি এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছে। যাদের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বেশির ভাগ বিদেশী নাগরিক। এদের অধিকাংশের কাছে নেই চাকরি করা বা বসবাসের কোন বৈধ অনুমতিপত্র।
২০১৮ সালের পর থেকে কক্সবাজারে র্যাব৭ (বর্তমানে র্যাব১৫) এর হাতে পৃথক অভিযানে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক হয়েছেন ৬৬ জন বিদেশী নাগরিক তবে আটক হওয়া বিদেশী নাগরিকদের বিভিন্ন শর্তে মূছলেকা নিয়ে ছেড়ে দিলেও তারা যথারীতি আগের দায়িত্ব পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আটক হওয়া বিদেশী নাগরিকদের বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন এবং জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায় নি।
এদিকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো মাহবুব আলম তালুকদার জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক বিদেশী নাগরিকদের কাজ করার জন্যে পূর্বানুমতির নিয়ম রয়েছে যার ভিত্তিতে ক্যাম্পে কাজ করছেন অনেকে। তবে এই মূহুর্তে কতজন বিদেশী নাগরিক কর্মস্থলে রয়েছেন তার সঠিক তথ্য তিনি জানেন না যেহেতু প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা পরিবর্তন হচ্ছে। কমিশনার মাহবুব আরও জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ বিদেশী নাগরিক কে বা কারা এবং তাদের বিষয়ে তথ্য রাখার কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর।
অপরদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে এনজিওতে কর্মরত বিদেশী নাগরিকদের উপর গোয়েন্দা নজরদারীর অভাব জনিত কারণে প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকান্ড, মানবপাচার সহ মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হচ্ছেন তারা। যে কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রত্যাবাসন বিলম্ব সহ আইনশৃঙ্খলা অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
কক্সবাজার র্যাব১৫ এর তথ্যমতে ২০১৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারী সড়কপথে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১১জন বিদেশী নাগরিককে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। অনুরুপ ১১ই মার্চ আরো ৩৯জন বিদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের কাছে কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হইয়েছিল। সর্বশেষ একি বছরের ১৯ শে এপ্রিল বুধবার সড়কপথে ক্যাম্পে কর্মরত যানবাহনে তল্লাশী চালিয়ে ১৬ জন বিদেশীকে আটক করা হয়। যাদের কারো কাছে ছিল না কোন বৈধ কাগজপত্র। তবে বর্তমান সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশী নাগরিকদের বৈধ কাগজ পত্র যাচাই-বাচাইয়ে নেই কোন ভূমিকা।
র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীর নিয়মিত ততপরতা থাকার পরও করোকালীন ছুটির আগে থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক এনজিও গুলোতে কাজ করছে কোন প্রকার বৈধ কাগজ পত্র ছাড়া বিদেশী নাগরিকরা। তবে কেন তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করতে বারবার ফিরে আসেন তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়ার পর নিজেরাই এখন বাস্তুহারা হয়ে পড়ছেন। বিদেশী নাগরিকদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা জড়াচ্ছে বিভিন্ন অপরাধে। সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন মানববন্ধনে দেখা যাচ্ছে ইংরেজিতে লেখা বিভিন্ন ডিজিটাল প্রিন্টেড ব্যানার। কে বা কারা এসব করছে তাও জানে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী।
এদিকে বিভিন্ন সময় আটক হওয়া বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে জার্মানের নাগরিক ও নাফ রেডিও কমিউনিটি ৯৯.২ এফএম’র মার্শাল ও অ্যান্ড্রুস লাঙ্গ, আমেরিকার নাগরিক ও বেসরকারি সেবা সংস্থা এসএএলটিএফএলআই’র এনটওনিটি মেরি ও আন্ড্রে লুনিসিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও হেল্প দ্যা নিডি’র স্যামুয়েল কে হাসলাম, মেডিলাইন বেলী হাসলাম এবং টাটুম এডলি নেলসন, ট্রাসি মিচেল হাসলাম, মালাইসা ডান নেলসন, জন স্টিভেন ইভলিন এবং যুক্তরাজ্যের নিজার নাগিব দাহান, মার্কাস জেমস ভ্যালান্সি, মাজাফার, খালিদ হোসাইন, ইফতেখার মাসুদ এবং ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিলের লিন্ডসে গ্রিম সু। পরে তাদেরকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা, যাতায়াতের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা ও যথাসময়ে ক্যাম্প ত্যাগ করবে এমন মর্মে লিখিত মুচলেকা নিয়ে এসব বিদেশীদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। আটক হওয়া বিদেশী নাগরিক তাদের সাথে কাজ করা অন্যান্য বিদেশী নাগরিকরা আবারও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রীয় হয়ে উঠছে এবং নাম মাত্র অনুমতি পত্র নিয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও গুলোতে দায়িত্ববান বিদেশীদের শনাক্ত করণ ও তাদের বৈধতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার শরনার্থী ত্রান ও পুনর্বাসন কমিশন কাজ করছে। তবে বৈধ অবৈধ এসব দেখার দায়িত্ব এখন তাদের হাতে।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্জিনা আক্তারকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশী নাগরিকরা এদেশের আইনের প্রতি যাতে শ্রদ্ধাশীল থাকেন সে কারণেই মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালালেও ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অনেক অবৈধ বিদেশী নাগরিক। নানান সময় আটক হওয়া বিদেশী নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে লিখিত শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও তারা এদেশের আইনের প্রতি কোন প্রকার তুয়াক্কা করছেন না। বিশিষ্টজনদের মতে, এইভাবে রোহিঙ্গাক্যাম্পের অবাধে চলা ফেরায় অবৈধ এসব বিদেশী নাগরিকদের মাধ্যমে দেশে যে কোন সময় গঠতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা, তাই সময় থাকতে বিদেশী নাগরিকদের বিষিয়ে সীদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ






















