১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

বদলগাছীতে ১০ হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি খাল (ক্যানেল) অভাবে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমির ফসল প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার কারণে তিন ফসলি আবাদি জমি এখন এক ফসলে পরিনত হয়েছে। আর এই জলাবন্ধতা নিরসনে একটি খাল খনন ও খালের উত্তর পাশ দিয়ে ভ্যান চলাচলের রাস্তা তৈরীর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

জানাযায়, উপজেলার কোলা ইউনিয়নের গয়ড়া, বনগ্রাম, শ্যামার, কেশাইল, নিরলী, গাড়াকন্দ, চকের মাঠ এবং কয়াভবানিপুর সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের গ্রায় ১০ হাজার বিঘা জমির রয়েছে ফসলি মাঠ। যেখানে বোরো, আমন ও সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এই মাঠের পানি নামার কোন পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
নকশার রেকর্ডে কয়াভবানিপুর গ্রাম থেকে ভাঙাগাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ফুট দুরত্ব সরকারি রাস্তা রয়েছে। নকশায় রাস্তা থাকলেও তা বাস্তবে নেই। রাস্তার পাশের জমির মালিকরা গত ৫০-৬০ বছর থেকে সেই জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছেন। ওই রাস্তাটি দখলমুক্ত করে একটি খাল খনন করা হলে কয়েকটি মাঠের পানি বেজ্রা ব্রিজ হয়ে হাস্তা বিলের ভাঙাগাড়ি দিয়ে তুলশিগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়বে। এতে করে ঐ সব মাঠের জলাবদ্ধতা দুর হয়ে তিন ফসলি জমিতে পরিনত হবে। এছাড়া মাঠের ফসল ঘরে উঠানোর জন্য খালের উত্তর পাশ দিয়ে ভ্যান চলাচলের রাস্তার প্রয়োজন।

গয়ড়া গ্রামের কৃষক সোহেল বলেন, বনগ্রামের মাঠে তার প্রায় ১৮ বিঘা ফসলি জমি আছে। এরমধ্যে কয়েক বিঘা জমিতে প্রতি বছর পটল, মরিচ ও বেগুনের চাষাবাদ করেন। এবং কিছু জমিতে পাটের আবাদ করে থাকে। প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে এই মাঠটি প্লাবিত হয়। পানি নামার জায়গা না থাকায় তার সবজিক্ষেতগুলো ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। এ বছর বৃষ্টির পরিমাণও বেশি। পাটের জমিতে পানি জমা হয়ে থাকায় তা নষ্ট হয়ে গেছে।
তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক মিঠু, মতিউর, আলেফ উদ্দিন, বনগ্রাম গ্রামের কৃষক সারোয়ার, আসলাম সহ কয়েকজন বলেন, এক সময় মাঠগুলোতে তিনটি ফসল চাষাবাদ হতো। বৃষ্টির পর পানি নেমেও যেত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর থেকে আর এসব মাঠের পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না। বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় জমি ডুবে থাকায় আমন ধানের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না কৃষকদের। কয়াভবানিপুর গ্রাম থেকে ভাঙাগাড়ি পর্যন্ত নকশার রাস্তাটি দখলমুক্ত করে খাল খনন করা হলে এই সব মাঠের তুলশিগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়বে। এতে করে পানি দ্রæত অপসারণ হবে। আবারও জমিতে তিনটি ফসল চাষাবাদ হবে। খাল খনন ও খালের পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরীর জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন কোলা ইউনিয়নবাসী।

কোলা ইউনিয়নের ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একটি খাল খননের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম । আমার কথা শুণে তিনি সরেজমিনে এসে মাঠটি পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. আবু তাহির বলেন, ইতোপূর্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে সরকারি একটি রাস্তা রয়েছে যা স্থানীয়রা দখল করে রেখেছেন। কয়েকদিন আগে সার্ভেয়ার পাঠিয়ে জরিপ করা হয়েছে। রাস্তার জায়গাটি ছেড়ে দিতে দখলকারীদের নোটিশ করা হবে। এরপর খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। আশা করছি শিগগিরই জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

বদলগাছীতে ১০ হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা

প্রকাশিত : ০২:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি খাল (ক্যানেল) অভাবে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমির ফসল প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার কারণে তিন ফসলি আবাদি জমি এখন এক ফসলে পরিনত হয়েছে। আর এই জলাবন্ধতা নিরসনে একটি খাল খনন ও খালের উত্তর পাশ দিয়ে ভ্যান চলাচলের রাস্তা তৈরীর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

জানাযায়, উপজেলার কোলা ইউনিয়নের গয়ড়া, বনগ্রাম, শ্যামার, কেশাইল, নিরলী, গাড়াকন্দ, চকের মাঠ এবং কয়াভবানিপুর সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের গ্রায় ১০ হাজার বিঘা জমির রয়েছে ফসলি মাঠ। যেখানে বোরো, আমন ও সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এই মাঠের পানি নামার কোন পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
নকশার রেকর্ডে কয়াভবানিপুর গ্রাম থেকে ভাঙাগাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ফুট দুরত্ব সরকারি রাস্তা রয়েছে। নকশায় রাস্তা থাকলেও তা বাস্তবে নেই। রাস্তার পাশের জমির মালিকরা গত ৫০-৬০ বছর থেকে সেই জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছেন। ওই রাস্তাটি দখলমুক্ত করে একটি খাল খনন করা হলে কয়েকটি মাঠের পানি বেজ্রা ব্রিজ হয়ে হাস্তা বিলের ভাঙাগাড়ি দিয়ে তুলশিগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়বে। এতে করে ঐ সব মাঠের জলাবদ্ধতা দুর হয়ে তিন ফসলি জমিতে পরিনত হবে। এছাড়া মাঠের ফসল ঘরে উঠানোর জন্য খালের উত্তর পাশ দিয়ে ভ্যান চলাচলের রাস্তার প্রয়োজন।

গয়ড়া গ্রামের কৃষক সোহেল বলেন, বনগ্রামের মাঠে তার প্রায় ১৮ বিঘা ফসলি জমি আছে। এরমধ্যে কয়েক বিঘা জমিতে প্রতি বছর পটল, মরিচ ও বেগুনের চাষাবাদ করেন। এবং কিছু জমিতে পাটের আবাদ করে থাকে। প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে এই মাঠটি প্লাবিত হয়। পানি নামার জায়গা না থাকায় তার সবজিক্ষেতগুলো ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। এ বছর বৃষ্টির পরিমাণও বেশি। পাটের জমিতে পানি জমা হয়ে থাকায় তা নষ্ট হয়ে গেছে।
তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক মিঠু, মতিউর, আলেফ উদ্দিন, বনগ্রাম গ্রামের কৃষক সারোয়ার, আসলাম সহ কয়েকজন বলেন, এক সময় মাঠগুলোতে তিনটি ফসল চাষাবাদ হতো। বৃষ্টির পর পানি নেমেও যেত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর থেকে আর এসব মাঠের পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না। বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় জমি ডুবে থাকায় আমন ধানের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না কৃষকদের। কয়াভবানিপুর গ্রাম থেকে ভাঙাগাড়ি পর্যন্ত নকশার রাস্তাটি দখলমুক্ত করে খাল খনন করা হলে এই সব মাঠের তুলশিগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়বে। এতে করে পানি দ্রæত অপসারণ হবে। আবারও জমিতে তিনটি ফসল চাষাবাদ হবে। খাল খনন ও খালের পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরীর জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন কোলা ইউনিয়নবাসী।

কোলা ইউনিয়নের ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একটি খাল খননের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম । আমার কথা শুণে তিনি সরেজমিনে এসে মাঠটি পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. আবু তাহির বলেন, ইতোপূর্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে সরকারি একটি রাস্তা রয়েছে যা স্থানীয়রা দখল করে রেখেছেন। কয়েকদিন আগে সার্ভেয়ার পাঠিয়ে জরিপ করা হয়েছে। রাস্তার জায়গাটি ছেড়ে দিতে দখলকারীদের নোটিশ করা হবে। এরপর খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। আশা করছি শিগগিরই জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর