০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

আদালতে মিন্নির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন চলছে

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় সাক্ষি থেকে আসামী হওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন চলছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলে মিন্নির উচ্চ আদালতের জামিন বাতিল হতে পারে। তবে জামিন বাতিল হলে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জামিন আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন শুরু হয়। মামলার ধার্য তারিখ থাকায় সকাল ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত হন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়েছে এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকেও। পুলিশি কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে আদালত প্রাঙ্গনজুড়ে।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির আসামির পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যেই মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতে আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি। আজ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মিন্নির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি খন্ডন করবেন। এরপর আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের মেয়াদও শেষ হবে। তাই আমার জিম্মায় পুনরায় মিন্নির জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করব। এরপর আদালত আদেশ দেবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই মারা যান।

গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক ৮ আসামি উচ্চ আদালত এবং বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

আদালতে মিন্নির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন চলছে

প্রকাশিত : ১২:১৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় সাক্ষি থেকে আসামী হওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন চলছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলে মিন্নির উচ্চ আদালতের জামিন বাতিল হতে পারে। তবে জামিন বাতিল হলে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জামিন আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন শুরু হয়। মামলার ধার্য তারিখ থাকায় সকাল ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত হন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়েছে এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকেও। পুলিশি কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে আদালত প্রাঙ্গনজুড়ে।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির আসামির পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যেই মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতে আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি। আজ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মিন্নির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি খন্ডন করবেন। এরপর আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের মেয়াদও শেষ হবে। তাই আমার জিম্মায় পুনরায় মিন্নির জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করব। এরপর আদালত আদেশ দেবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই মারা যান।

গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক ৮ আসামি উচ্চ আদালত এবং বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর