আরিফ, বয়স সবে ১২ । আরিফের বাবা ওদের ফেলে চলে গেছে বছর কয়েক আগে। ফলে পড়ালেখারও আর সুযোগ হয়নি। ছোট ভাই আর মায়ের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতে রাস্তায় নেমে যায় আরিফ।
প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাড়া দেওয়ার চুক্তিতে একটি ব্যাটারি চালিত রিকশা নেয় । ভাড়া টাকা জমা বাবদ ১৫০-২০০ টাকা অবশিষ্ট থাকত। আর তা দিয়েই আরিফের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো।
প্রতিদিনের মতো গত বুধবারও রিকশা নিয়ে বের হয় সে। রিকশা রেখে পাশের দোকানে নাস্তা খাওয়ার জন্য গেলে তার রিকশা চুরি হয়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় রিকশার মালিক আরিফকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে।
সমস্ত ব্যাপারটা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিসি (ট্রাফিক বিভাগ) জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন জানতে পেরে আরিফের মাকেসহ তাঁর কার্যালয়ে যেতে বলেন।
নিজের বেতনের মোটা একটা অংশ দিয়ে আরিফকে নিরাপদ একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন।
আরিফের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যারের সহযোগিতায় একটি দোকান দিয়েছে। সেখানে চা, বিস্কুট, কলা,রুটি বিক্রি করে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টাকা আয় করে।
এর আগেও একদিন আরিফকে রিকশা চালাতে দেখেন আব্দুল্লাহ আল মামুন । নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য কিনে আরিফকে বাসায় পাঠিয়ে দেন এবং রিকশা চালাতে নিষেধ করেন। কারণ এটা ছিল তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।
শুধু অরিফ ও তার পরিবারকে নয়, আরিফের পরিবারের মত কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত- পুলিশ সুপার পদে কর্তব্যরত থাকাকালে অনেক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক




















