১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে সিন্ডিকেটের কবলে মৎস্য ব্যবসায়ীরা, প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

কক্সবাজারে সিন্ডিকেট করে বরফের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করেছে মিল মালিকেরা। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শত মৎস্য ব্যবসায়ী। অতিরিক্ত দামে বরফ বিক্রি ও মিল মালিকদের এমন স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মৎস্য ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ।
সমাবেশে জানানো হয়, অতি মুনাফালোভী মিল মালিকদের কারণে বরফ নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কক্সবাজারের ফিশারিঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচ প্রায় একই থাকলেও পূর্বের ৫০-১০০ টাকার এক পিস বরফ কিছুদিন ধরে চারগুণ বাড়ানো দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে কেনা ছাড়া অন্যস্থান থেকেও কোন বরফ আনতে দেয়া হচ্ছে না। ৬ নম্বর জেটি ঘাট ও ফিশারিঘাট এলাকার বেশ কিছু বরফ মালিক সরকারি দলের সাথে যুক্ত থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপট খাটানো হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ ও ক্ষুব্দ ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদে বরফ কেনা বন্ধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছে। বন্ধ রয়েছে মাছ বেচাকেনা। এতে সাগর থেকে আহরিত মাছ নিয়ে ঘাটে ফেরা ট্রলার মালিকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। কোন ব্যবসায়ী মাছ কেনাবেচা না করায় ট্রলার থেকে মাছ নামাতে পারছেন না। ফলে অনেক ট্রলারে মাছ পঁচে যাচ্ছে বলে দাবি ট্রলার মালিকদের।
বিক্ষোভ কর্মসূচীতে আরো অভিযোগ করা হয়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বরফ খুবই নি¤œমানের। ওজনেও কম। সময় মতো পাওয়া যায় না যোগান। এরপরও মালিকদের সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে ফিশিংবোট মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। সঠিক সময়ে বরফের যোগান না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী। ক্ষতি পোষাতে না পেরে অনেকে ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। যারা ব্যবসায় আছে তারাও লোকসান গুনে চলছে।
সব মিলিয়ে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের ‘মন্দার দিন’ চলছে। আর অধিক মুনাফায় ফুলছে বরফকল মালিকেরা।
জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, ১৫০ টাকার বরফ ৫০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বরফের ঘাটতি পূরণে বাইর থেকে আনতে গেলেও বাধা দেয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বরফ আকারে বড় হলেও ভেতরে পুরো ফাঁকা। ওজনে ঠকানোর কারণে এ বরফ কিনে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, খুলনা, মহিপুর থেকে বরফ কিনে আনছে ব্যবসায়ীরা। তাতেও বাধা অসাধু বরফকল মালিকদের। এ কারণে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কর্মসূচী চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বরফের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আহরিত ইলিশ মাছ। আহরিত মাছ নিয়ে অনেক ট্রলার কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এলেও মাছ আনলোড করতে না পেরে দাদন নিয়ে সাগরে যাওয়া ট্রলার মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওসমান গণি টুলু ও সাধারণ সম্পাদক জানে আলম পুতু বলেন, একটি বরফ তৈরিতে খরচ হয় ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা। ১০০ টাকায় বরফ বিক্রি করলেও স্বাভাবিক হতো। কিন্তু এখন মালিকেরা সিন্ডিকেট করে সেই বরফ বিক্রি করছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। তাছাড়া এসব বরফের মানও ভাল না। বাইরের জেলার একটি বরফের ওজন ১০০ কেজি। কিন্তু এখানকার বরফ সাইজেও ছোট ও ওজন মাত্র ৩০ কেজি। অধিক দামেও বরফ কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে বরফ না নিলে নানা ধরণের চাপ ও হুমকী দেয়া হয়। বাইরের জেলা থেকে কেউ বরফ সরবরাহ করতে চাইলে মিল মালিকদের কাছে নাজেহাল ও হয়রানীর শিকার হতে হয়। মৎস্য ব্যবসায়ীদেরও তারা বাইরে থেকে বরফ আনতে দেয় না। কেউ বরফ নিয়ে আসলে তাকে আর মিল মালিকেরা বরফ দেয় না। মোটকথা মৎস্য ব্যবসায়ীদের পুরোদমে বরফ মিল মালিকেরা জিম্মি করে রেখেছে।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম চিশতি, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বাশি, জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওসমান গণি টুলু, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম পুতু, ব্যবসায়ী নেতা নাসির উদ্দিন বাচ্চু।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) কক্সবাজার কেন্দ্রের প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভকারিরা আমার চেম্বারে এসেছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই এর সুষ্ঠু একটি সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

কক্সবাজারে সিন্ডিকেটের কবলে মৎস্য ব্যবসায়ীরা, প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

প্রকাশিত : ০৯:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

কক্সবাজারে সিন্ডিকেট করে বরফের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করেছে মিল মালিকেরা। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শত মৎস্য ব্যবসায়ী। অতিরিক্ত দামে বরফ বিক্রি ও মিল মালিকদের এমন স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মৎস্য ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ।
সমাবেশে জানানো হয়, অতি মুনাফালোভী মিল মালিকদের কারণে বরফ নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কক্সবাজারের ফিশারিঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচ প্রায় একই থাকলেও পূর্বের ৫০-১০০ টাকার এক পিস বরফ কিছুদিন ধরে চারগুণ বাড়ানো দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে কেনা ছাড়া অন্যস্থান থেকেও কোন বরফ আনতে দেয়া হচ্ছে না। ৬ নম্বর জেটি ঘাট ও ফিশারিঘাট এলাকার বেশ কিছু বরফ মালিক সরকারি দলের সাথে যুক্ত থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপট খাটানো হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ ও ক্ষুব্দ ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদে বরফ কেনা বন্ধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছে। বন্ধ রয়েছে মাছ বেচাকেনা। এতে সাগর থেকে আহরিত মাছ নিয়ে ঘাটে ফেরা ট্রলার মালিকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। কোন ব্যবসায়ী মাছ কেনাবেচা না করায় ট্রলার থেকে মাছ নামাতে পারছেন না। ফলে অনেক ট্রলারে মাছ পঁচে যাচ্ছে বলে দাবি ট্রলার মালিকদের।
বিক্ষোভ কর্মসূচীতে আরো অভিযোগ করা হয়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বরফ খুবই নি¤œমানের। ওজনেও কম। সময় মতো পাওয়া যায় না যোগান। এরপরও মালিকদের সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে ফিশিংবোট মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। সঠিক সময়ে বরফের যোগান না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী। ক্ষতি পোষাতে না পেরে অনেকে ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। যারা ব্যবসায় আছে তারাও লোকসান গুনে চলছে।
সব মিলিয়ে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের ‘মন্দার দিন’ চলছে। আর অধিক মুনাফায় ফুলছে বরফকল মালিকেরা।
জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, ১৫০ টাকার বরফ ৫০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বরফের ঘাটতি পূরণে বাইর থেকে আনতে গেলেও বাধা দেয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বরফ আকারে বড় হলেও ভেতরে পুরো ফাঁকা। ওজনে ঠকানোর কারণে এ বরফ কিনে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, খুলনা, মহিপুর থেকে বরফ কিনে আনছে ব্যবসায়ীরা। তাতেও বাধা অসাধু বরফকল মালিকদের। এ কারণে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কর্মসূচী চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি বরফের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আহরিত ইলিশ মাছ। আহরিত মাছ নিয়ে অনেক ট্রলার কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এলেও মাছ আনলোড করতে না পেরে দাদন নিয়ে সাগরে যাওয়া ট্রলার মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওসমান গণি টুলু ও সাধারণ সম্পাদক জানে আলম পুতু বলেন, একটি বরফ তৈরিতে খরচ হয় ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা। ১০০ টাকায় বরফ বিক্রি করলেও স্বাভাবিক হতো। কিন্তু এখন মালিকেরা সিন্ডিকেট করে সেই বরফ বিক্রি করছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। তাছাড়া এসব বরফের মানও ভাল না। বাইরের জেলার একটি বরফের ওজন ১০০ কেজি। কিন্তু এখানকার বরফ সাইজেও ছোট ও ওজন মাত্র ৩০ কেজি। অধিক দামেও বরফ কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে বরফ না নিলে নানা ধরণের চাপ ও হুমকী দেয়া হয়। বাইরের জেলা থেকে কেউ বরফ সরবরাহ করতে চাইলে মিল মালিকদের কাছে নাজেহাল ও হয়রানীর শিকার হতে হয়। মৎস্য ব্যবসায়ীদেরও তারা বাইরে থেকে বরফ আনতে দেয় না। কেউ বরফ নিয়ে আসলে তাকে আর মিল মালিকেরা বরফ দেয় না। মোটকথা মৎস্য ব্যবসায়ীদের পুরোদমে বরফ মিল মালিকেরা জিম্মি করে রেখেছে।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম চিশতি, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বাশি, জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওসমান গণি টুলু, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম পুতু, ব্যবসায়ী নেতা নাসির উদ্দিন বাচ্চু।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) কক্সবাজার কেন্দ্রের প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভকারিরা আমার চেম্বারে এসেছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই এর সুষ্ঠু একটি সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ