পেঁয়াজ ভান্ডার খ্যাত পাবনায়ও লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্তে¡ও পাগলা ঘোড়ার বাজারের উর্ধ্বগতিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। বাজারের অস্থিরতার জন্য রাজধানীর পাইকার সিন্ডিকেট দায়ী করে, তাদের নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ জেলা প্রশাসনের।
গত বৃহস্পতবিার পাবনার সুজানগর বাজার পেঁয়াজ হাটে সকাল থেকেই ছিল পাইকার ও ক্রেতাদের ভীড়। দেশের সবচেয়ে বেশী পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এই উপজেলায় গত রবিবারের হাটেই প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকা।
মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সেখানেই প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৩২০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধের ঘোষণায় এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।
তবে, ভারতে আটকে থাকা পেঁয়াজ ছাড় হওয়ার খবরে দাম কিছুটা কমলেও তা সহনীয় নয় বলছেন ক্রেতারা। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার হাজির হাটে গিয়ে দেখা যায় প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
স্থানীয় পাইকাররা জানান, গত মৌসুমের আকাশচুম্বী দামের কারণে এ বছর পাবনায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও হয়েছে বাম্পার। উত্তোলন কালে আবহাওয়া শুষ্ক থাকা, বাতাসের আর্দ্রতা সহনীয় থাকায় কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষিত পেঁয়াজও নষ্ট হয়নি। এরপরেও গত বুধবার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম দাঁড়ায় কেজি প্রতি ১০০ টাকায়। আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে চাষীরা খুশি হলেও, ক্ষুব্ধ পাইকার ও ক্রেতারা।
সুজানগর উপজেলার চর দুলাই গ্রামের রায়হান খন্দকার বলেন, ৪০ টাকা ৫০ টাকার পেঁয়াজ তিনদিনেই হঠাৎ করে ১০০ টাকা হয়ে গেল। আমি মুড়িকাটা পেঁয়াজের বেসনের জন্য পেঁয়াজ কিনতে হাটে এসেছিলাম। কিন্তু দামের কারণে বেসন না কিনেই ফিরে যাচ্ছি।
একই উপজেলার সাতবাড়িয়া উলাট গ্রামের বাসিন্দা পেঁয়াজ চাষী সোলেমান প্রামাণিক বলেন, পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। ঢাকার পাইকারী বাজারে রেট ভালো যাচ্ছে। তাই পাবনায়ও দাম বেড়েছে।
পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম নির্ধারন দেয়। যার প্রভাবে দাম বেড়ে যায় পাবনার হাটে বাজারে । ফলে উৎপাদক বা সরবরাহকারী পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ঢাকার পাইকার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পেঁয়াজ বাজারও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, পাবনায় চলতি মৌসুমে সাড়ে ৫ লক্ষ মে্িট্রক টন আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৬ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ আছে। পেঁয়াজের তেমন কোন সংকট নেই। গুজবের কারণে মানুষ অতিরিক্ত মাত্রায় পেঁয়াজ কেনায় বাজারে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















