১০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ১০ দিনের আল্টিমেটাম

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পতির মালিক হলেও তিনি ছিলেন ধরা ছোয়ার বাহিরে। এনআইডি জালিয়াতিতে গোমর ফাঁস হলে থলের বিড়াল বের হতে শুরু করেছে। কুষ্টিয়ায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউলের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি জমি উদ্ধারে নোটিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে লাহিনী এলাকায় সড়ক ও জনপথের প্রায় ৫ শতক জমি এবং গড়াই নদীর তীরে জেলা প্রশাসনের ১৫ একর তিনি জবর দখল করে ভোগ করছেন।

ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ থেকে আগামী ১০দিনের মধ্যে দখলকৃত জমি থেকে প্রাচীরসহ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকে দখলকৃত জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বড় বাজার এলাকায় গড়াই নদীর তীরে জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা ১৫ একর জমি জেলা পরিষদ দখল করে কোন অনুমতি না নিয়ে পার্ক নির্মাণ কাজ করছে। গত ৫ বছর ধরে চলে আসছে পার্কের কাজ। দখলকৃত নদীর জায়গায় সরকারি অর্থে পার্কের বেশ কিছু কাজ ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে গত আগষ্ট মাসে সরেজমিন পরিদর্শন করে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা একটি প্রতিবেদন দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। গত কয়েকদিন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী অবৈধ দখল ও উচ্ছেদের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে জেলা প্রশাসন বরাবর পত্র দিয়েছে। পত্রে দখলকৃত জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি জেলা প্র্রশাসককে অনুরোধ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসনের ১৫ একর জায়গার ওপর পার্কের কাজ করছে জেলা পরিষদ। তবে এ জন্য কোন অনুমোদন নেয়। এ কারনে নদীর জায়গা দখল করার জন্য তাদের নোটিশ করা হবে। এ জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

এদিকে শহরতলীর লাহিনী এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর থেকে শুরু করে একেবারে মহাসড়কের গা ঘেঁষে প্রায় দুই বিঘা জমিতে শক্ত প্রাচীর দিয়ে রেখেছেন হাজি রবিউল ইসলাম।

জানা গেছে, তিনি এখানে মাত্র ৪ কাঠা জমি কিনে তার কয়েকগুন বেশি জমি দখল করে রেখেছেন। এ জমির মধ্যে সড়ক ও জনপথের প্রায় ৫ শতক জমি রয়েছে। বাকি জমি অন্য দপ্তরের। বাজারের কিছু জমিও রয়েছে দখলের মধ্যে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অফিস থেকে গত রোববার সকালে লাল চিহ্ন দিয়ে মার্ক করে দেয়া হয়। পাশাপাশি হাজি রবিউল ইসলামকে নোটিশ করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সরিয়ে না নেয়া হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। দখলকৃত জমিতে গাছ লাগানো হয়েছে। সামনের দিকে বড় একটি গেইট নির্মাণ করা হয়েছে।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে সড়কের জায়গা দখল করে ঘিরে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে রোববার সকালে সেখানে লাল কালি দিয়ে মার্ক করে দেওয়া হয়েছে। হাজী রবিউল ইসলামের কাছে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার জন্য। তা না হলে ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভেঙে ফেলা হবে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, পার্কের পুরো ৪৫ বিঘা জায়গায় গড়াই নদীর। জেলা প্রশাসন থেকে জেলা পরিষদ কোন রকম বন্দোবস্ত না নিয়েই অবৈধভাবে পার্ক নির্মাণ করছে। এজন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

কুষ্টিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ১০ দিনের আল্টিমেটাম

প্রকাশিত : ০৪:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পতির মালিক হলেও তিনি ছিলেন ধরা ছোয়ার বাহিরে। এনআইডি জালিয়াতিতে গোমর ফাঁস হলে থলের বিড়াল বের হতে শুরু করেছে। কুষ্টিয়ায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউলের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি জমি উদ্ধারে নোটিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে লাহিনী এলাকায় সড়ক ও জনপথের প্রায় ৫ শতক জমি এবং গড়াই নদীর তীরে জেলা প্রশাসনের ১৫ একর তিনি জবর দখল করে ভোগ করছেন।

ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ থেকে আগামী ১০দিনের মধ্যে দখলকৃত জমি থেকে প্রাচীরসহ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকে দখলকৃত জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বড় বাজার এলাকায় গড়াই নদীর তীরে জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা ১৫ একর জমি জেলা পরিষদ দখল করে কোন অনুমতি না নিয়ে পার্ক নির্মাণ কাজ করছে। গত ৫ বছর ধরে চলে আসছে পার্কের কাজ। দখলকৃত নদীর জায়গায় সরকারি অর্থে পার্কের বেশ কিছু কাজ ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে গত আগষ্ট মাসে সরেজমিন পরিদর্শন করে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা একটি প্রতিবেদন দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। গত কয়েকদিন আগে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী অবৈধ দখল ও উচ্ছেদের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে জেলা প্রশাসন বরাবর পত্র দিয়েছে। পত্রে দখলকৃত জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি জেলা প্র্রশাসককে অনুরোধ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসনের ১৫ একর জায়গার ওপর পার্কের কাজ করছে জেলা পরিষদ। তবে এ জন্য কোন অনুমোদন নেয়। এ কারনে নদীর জায়গা দখল করার জন্য তাদের নোটিশ করা হবে। এ জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

এদিকে শহরতলীর লাহিনী এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর থেকে শুরু করে একেবারে মহাসড়কের গা ঘেঁষে প্রায় দুই বিঘা জমিতে শক্ত প্রাচীর দিয়ে রেখেছেন হাজি রবিউল ইসলাম।

জানা গেছে, তিনি এখানে মাত্র ৪ কাঠা জমি কিনে তার কয়েকগুন বেশি জমি দখল করে রেখেছেন। এ জমির মধ্যে সড়ক ও জনপথের প্রায় ৫ শতক জমি রয়েছে। বাকি জমি অন্য দপ্তরের। বাজারের কিছু জমিও রয়েছে দখলের মধ্যে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অফিস থেকে গত রোববার সকালে লাল চিহ্ন দিয়ে মার্ক করে দেয়া হয়। পাশাপাশি হাজি রবিউল ইসলামকে নোটিশ করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সরিয়ে না নেয়া হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। দখলকৃত জমিতে গাছ লাগানো হয়েছে। সামনের দিকে বড় একটি গেইট নির্মাণ করা হয়েছে।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে সড়কের জায়গা দখল করে ঘিরে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে রোববার সকালে সেখানে লাল কালি দিয়ে মার্ক করে দেওয়া হয়েছে। হাজী রবিউল ইসলামের কাছে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার জন্য। তা না হলে ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভেঙে ফেলা হবে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, পার্কের পুরো ৪৫ বিঘা জায়গায় গড়াই নদীর। জেলা প্রশাসন থেকে জেলা পরিষদ কোন রকম বন্দোবস্ত না নিয়েই অবৈধভাবে পার্ক নির্মাণ করছে। এজন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ