ফেনী ট্রমা সেন্টারটি শীঘ্রই চালু না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহত রোগীরা। গত ১৩ বছরেও দূর্ঘটনায় আহত হাড় ভাঙ্গা রোগীর কোন চিকিৎসাও হয়নি। তবে এটি শীঘ্রই চালু করার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ট্রমা সেন্টারটিতে মোট ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ থাকলেও বর্তমানে দুই চিকিৎসা কর্মকর্তা, নার্স, ফার্মাসিষ্টসহ মোট ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। দৈনিক গড়ে ১৫-২০ জন সাধারণ রোগী বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিষ্ট) ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিযুক্ত রয়েছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো) পদটি দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এছাড়া একজন করে মেডিকেল টেকনোলজি (ল্যাব), মেডিকেল টেকনোলজি (রেডিওগ্রাফার), অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, আয়া, গাড়ী চালক, সুইপার, কুক মশালছি, দুইজন ওয়ার্ড বয় ও দুইজন নিরাপত্তা প্রহরীর পদে কোন নিয়োগ নেই।
জানা গেছে, দুটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) যন্ত্রপাতি নেই। এছাড়া এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। ল্যাবও বন্ধ দীর্ঘদিন। কোন ধরনের রোগ পরীক্ষার সুযোগ নেই।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্র জানায়, ফেনী ট্রমা সেন্টারটি (হাড় ভাঙ্গা চিকিৎসা কেন্দ্র) ২০০৬ সালের ৩ অক্টোবর চালু করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কেন্দ্রস্থল মহিপাল এলাকায় প্রায় এক একর জমির ওপর তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার তিন তলা এ হাসপাতাল ভবন নির্মান করা হয়।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: কাজী সানজিদা আক্তার জানান, কোন হাড় ভাঙ্গা বা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী ট্রমা সেন্টারে গেলে তাকে বা তাদেরকে সাথে সাথে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ট্রমা সেন্টারটি বর্তমানে শুধু বর্হিবিভাগ হিসেবে চালু রয়েছে। বর্হিবিভাগের সাধারণ রোগীদের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের কোন ব্যবস্থা নেই। যারাই এখানে কাজ করুক- সবাইকে বাইরে থেকে আসা-যাওয়া করতে হয়।
শনিবার ফেনী এসে বক্ষব্যধি হাসপাতালে জিন এক্সপার্ট মেশিন উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তৎসংলগ্ন ট্রমা সেন্টার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এভাবে একটি ভবন নির্মাণের পর পড়ে থাকতে পারেনা। এটি চালুর ব্যাপারে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জানতে চাইলে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা: মীর মোবারক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে বহি:বিভাগ চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আন্ত:বিভাগ চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ




















