ঢাকা রাত ১:৫৮, শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্থগিত পরীক্ষার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামীমাসে, খুলবে না আবাসিক হল

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে ১৭ইমার্চ থেকে। প্রায় সাত মাস ধরে বন্ধ থাকায় চূড়ান্ত পরীক্ষা না হওয়া ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায় বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিপাকে পড়া স্নাতক শেষবর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে না পারায় ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চাকুরীর পরীক্ষায় আবেদন করতে পারছে না তারা।অন্যদিকে দীর্ঘসময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বড় সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার সুবিধার্থে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নেওয়ার দাবি ানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম চলমান থাকলেও শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা ও অপ্রকাশিত ফলাফল নিয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মার্চ মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত অন্তত ৩০টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। কিন্তু করোনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
করোনা সংকটে সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগে পাঁচটি স্নাতক এবং চারটি স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষাসহ প্রায় ১৬টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলমান ছিল।করোনার কারণে স্হগিত হয়ে যায় পরীক্ষাগুলো।যাদের শুধুমাত্র একটি বা দুটি পরীক্ষা বাকি আছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের পরীক্ষা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিভিন্ন চাকুরীর পরীক্ষায় আবেদন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।
বিভিন্ন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, করোনায় বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা আটকে পড়েছে, আবার অনেকের ক্লাস শেষ হলেও একটি বা দুইটি পরীক্ষা আটকে থাকায় এবং বিভিন্ন বিভাগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়ায় কোনও চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে পারছে না তারা।
ফলে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় এসব শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট দাবী জানিয়ে অাসছিলেন,স্বাস্থ্যবিধি মেনে চাইলে আটকে থাকা বাকি পরীক্ষাগুলো নিয়ে এবং ফলাফল প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের চাকুরীর আবেদন করার সুযোগ করে দিতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড.মো:অাবু তাহের জানান, ইউজিসির সিগন্যালে জট খুলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।ইউজিসির পরামর্শ মতে,অাগামী মাসের(নভেম্বর) প্রথম সপ্তাহে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে অাটকে থাকা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করা হবে।সব ব্যাচের পরীক্ষা একসাথে নেওয়া সম্ভব না হলে ব্যাচভিত্তিক ভাগ করে পরীক্ষায় বসানো হবে। বিভাগের কোনো ব্যাচের মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেক করে দুই শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানান তিনি।এতে প্রয়োজনে প্রশ্নের সেট বাড়ানো হবে।
তিনি অারো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির অাবাসিক হলগুলো এখনই খুলছে না।শিক্ষার্থীদের স্বাস্হঝুঁকির কথা চিন্তা করেই হলগুলো বন্ধ রাখার পক্ষে অনড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ