ঢাকা রাত ১১:১৮, বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইবির জিয়া পরিষদে দুই শিক্ষককে বহিষ্কার

‘জিয়া পরিষদ’ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সাংগঠনিক বিধি বহির্ভূত কাজ করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশেরর কোন জবাব না দেওয়ায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম শরফরাজ নেওয়াজ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে জিয়া পরিষদের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ স্থায়ীভাবে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জিয়া পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখের ভার্চুয়াল সাধারণ সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জিয়া পরিষদের গঠনতন্ত্রের ধারা ২৬ অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে প্রেরিত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ও সংগঠনের নীতি ও আদর্শ বিরোধী কাজ করায় হওয়ায়, সংগঠনের সামগ্রিক ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় জিয়া পরিষদ ইবি শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির ১৬ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখের ভার্চুয়াল সাধারণ সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জিয়া পরিষদ থেকে ড. এ এস এম শরফরাজ নেওয়াজ ও ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। এই বহিষ্কারাদেশ ১৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

জানা যায়, শিক্ষক সমিতি নির্বাচন-২০২০ এ সংগঠনের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আলাদা প্যানেলে নির্বাচন করেন ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এতে ১০টি পদে পরাজিত হয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক প্যানেল।

এ ঘটনায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জিয়া পরিষদের ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ড. মতিনুর রহমান ও ড. সরফরাজ নেওয়াজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
জিয়া পরিষদের গঠনতন্ত্রের ২৬ ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ মর্মে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর প্রেরিত কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ও এহেন কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতি ও আদর্শ বিরোধী হওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এই বহিষ্কারাদেশ ১৭ অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে বলে জানা যায়।

এছাড়া জিয়া পরিষদের সদস্যরা গত ৬ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমানকে আহবায়ক ও অধ্যাপক এ এস এম শরফরাজ নেওয়াজকে সদস্য সচিব করে মোট ২৬ সদস্য বিশিষ্ট সাদা দল’র আত্মপ্রকাশ ঘটে।

এছাড়া ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের বিরুদ্ধে নাম জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নাম জালিয়াতি ও সম্মতি ছাড়াই কিছু শিক্ষককে জিয়া পরিষদ থেকে পদত্যাগ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর জিয়া পরিষদ ইবি শাখার প্রতি চরম অনাস্থা জানিয়ে কিছু শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন এ মর্মে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ১৭ জন শিক্ষকের পূর্ণ নাম ও স্ব-স্ব বিভাগ উল্লেখ করে জিয়া পরিষদ থেকে তাদের পদত্যাগ দেখানো হয়। কিন্তু তাদের নামের পাশে কারো কোন স্বাক্ষর ছিল না, ছিল না সবার পক্ষে কোনো সদস্যের স্বাক্ষর।

প্রেস রিলিজে উল্লেখিত পদত্যাগকারীদের কেউ কেউ এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

প্রকাশিত ঐ বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের কারণ। হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখকরণে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক, কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক জিয়া পরিষদের সভাপতি (বর্তমান কেন্দ্রীয় মহাসচিব) কর্তৃক ইবি শাখায় বিভাজন ও নিয়ন্ত্রনের অভিযোগ সহ নানা কারন উল্লেখ করা হয়।

ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, পদত্যাগের আগে আমরা ভার্চুয়ালি মিটিং করেছি। যেহেতু মিটিংয়ে সবাই সম্মতি জানিয়েছেন তাই স্বাক্ষর অস্পষ্ট দেখানো হয়েছে। এটি মিটিংয়ের একটি প্রসিডিউর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ