ঢাকা রাত ২:৪১, বুধবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কৃষকরা দিশেহারা

রূপসায় কারেন্ট পোকার আক্রমনে আমন ধান বিনষ্টের আশংকা

গেল বছর কারেন্ট পোকার আক্রমনে জমি থেকে ঘরে ধান তুলতে পারেনি রূপসা উপজেলার জাবুসা বিলের চাষীরা। চড়া মূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে সর্বশান্ত হয় এ বিলের উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার চাষী।

এবছরও বেশিরভাগ জমিতে দেখা দিয়েছে কারেন্ট পোকা। ইতোমধ্যে ক্ষেতের অনেক স্থানের ধান গাছ মারা গেছে। অপরদিকে কারেন্ট পোকার আক্রমনের পাশাপাশি জমির ধান গাছ মাত্রা অতিরিক্ত বড় হওয়ায় জমিতে নেমে কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারছেনা চাষীরা। তবে উপজেলা কৃষি অফিস অফিসার বলছেন গত বছর পোকার আক্রমনে ফসলের ক্ষতি হলেও এবছর তেমন ক্ষতির আশংকা নেই। চাষীরা সময়মত কীটনাশক প্রয়োগ করলে ভালো ফলন তারা পাবে।

উপজেলার বাগমারা, চর রূপসা, রামনগর, রহিমনগর, জাবুসা, তালিমপুর, জয়পুর, নিকলাপুর, ইলাইপুর গ্রামবাসীর চাষাবাদের স্থান বিল জাবুসা হলেও বাগমারা, চর রূপসা, রামনগর, রহিমনগর ও জাবুসা গ্রাম নিয়ে গঠিত বাগমারা ব্লক। যে ব্লকে রয়েছে এই বিশাল বিলটি। এখানে নয়’শ হেক্টর জমি থাকলেও অনাবাদি, আবাস ভূমি ও সরকারি খাল ছাড়া প্রায় সাড়ে সাত’শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়ে থাকে। এসব জমির উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার চাষী। চলতি আমন মৌসুমে চড়া মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক ক্রয়সহ কৃষান নিয়ে জমি চাষ করলেও কারেন্ট পোকার আক্রমনে চাষীদের সোনালী স্বপ্ন ধুয়াসায় রূপ নিয়েছে। গত বছরের মত এ বছরও জমির ফসল বিনষ্ট হলে তাদের কষ্টের শেষ থাকবেনা। এ কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে মৌসুমী চাষীরা।

উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক নিয়াম শেখ বলেন, গত বছর কারেন্ট পোকার আক্রমনে যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তারপরও ধার-দেনা করে জমি চাষ করেছি। এবছরও সেই পোকার আক্রমনে জমির ফসল থোড় থেকে বের হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক খানজাহান আলী বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমনে গত বছরতো আমরা একটুও ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এবছর সেই একই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন সরকার যদি আমাদের দিকে একটু তাকাই তাহলে হয়তো এ বিলের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার কৃষক বাঁচবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াছ হোসেন শেখ বলেন, এই বিলের কৃষকরা গত বছর কোন ধান পাইনি। তারা অতিরিক্ত লোকসানের শিকার হয়েছে। মণ প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বীজ ধান কিনে কৃষকরা জমি চাষ করেছে। তারপরও এবছর যে তারা ফসল পাবে এমন কোন আশা করা যাচ্ছে না। কারণ অনেক জমি পোকায় খেয়ে বসে গেছে। আবার অনেক জমির ধান গাছ অতিরিক্ত বড় হওয়ায় জমিতে নেমে কীটনাশক প্রয়োগ করা কোনভাবেই সম্ভব না। তাই কৃষি বান্ধব সরকার যদি হেলিক্যাপ্টার বা অন্য কোন মাধ্যমে এসব জমিতে কীটনাশক দেয়ার ব্যবস্থা করে তা’হলে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

নৈহাটী ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বুলবুল বলেন, গত বছর পোকার আক্রমন থেকে জমি বাঁচাতে উপজেলা কৃষি অফিসারসহ আমরা অনেক চেষ্টা করেও ফসল রক্ষা করতে পারিনি। এবছরও সেই একই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জমির ফসল যদি না বাঁচে তা’হলে কৃষকরাও বাঁচবে না। সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে। কারণ তারা এই জমির উপরই নির্ভরশীল। আমরা অবশ্য আমাদের পক্ষ থেকে জমির ফসল রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে সরকারিভাবে যদি কোন ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে সমাধান হতে পারে। তা’ছাড়া সম্ভব না।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, সামান্য কিছু জমিতে পোকা আক্রমণ করলেও অন্যান্য জমির ফসল লবণাক্ততার কারণে নষ্ট হচ্ছে। ধান গাছ অতিরিক্ত বড় হওয়ার কারণ যেটা তা’হলো জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকা। পোকার কবল থেকে রক্ষা পেতে আমরা যে ভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে বলেছি সেভাবে প্রয়োগ করলে ঠিক হয়ে যাবে। গত বছরের মত বড় ধরণের কোন ক্ষতির আশংকা নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

এ বিভাগের আরও সংবাদ