লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর অনিয়মের উল্টো ৭ দফা অভিযোগ তুলেন সেই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। শনিবার(১৪ নভেম্বর) সন্ধায় নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৭ দফা অভিযোগ তুলেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) রাতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অসাদাচরন, দুব্যবহার ও প্রাণনাশের হুমকীর অভিযোগ তুলে ১৭জন অফিসারের গণস্বাক্ষরিত অভিযোগটি জেলা প্রশাসক বরাবরে দায়ের করে বিভিন্ন দফতরে অনুলিপি পাঠান ইউএনও। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস বলেন, ৪৭ হাজার ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দুর্নীতিমুক্ত মডেল উপজেলা গঠনের পদক্ষেপ গ্রহন করি। দায়িত্ব গ্রহনের পরে বিভিন্ন দফতরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আসায় কর্মকর্তাদের সতর্ক করি এবং জনগনের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করতে ইউএনওকে নির্দেশ প্রদান করি। একই সাথে বিগত অর্থ বছরের উন্নয়নমুলক কাজের অগ্রগতি চেয়ে দফতরগুলোতে চিঠি পাঠাই। এতে সকল দফতরের কর্মকর্তারা অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। একই সাথে নানান দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর পেয়ে ইউএনওকেও দুর্নীতিমুক্ত থাকার আহবান জানাই। এটাই আমার কাল হয়ে দাঁড়ায় যোগ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান।
ইউএনও’র বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো হলো, (১) ইউএনও মনসুর উদ্দিন যোগদানের পর থেকে কাল্পনিক ও একই প্রকল্প বারবার দেখিয়ে খেয়াল খুশিমত সরকারী টাকা ব্যায় দেখিয়ে আত্নসাৎ করেন। (২) মুজিববর্ষের নামে বিভিন্ন জনের নিকট থেকে চাঁদাবাজি করে আত্নসাৎ করের। (৩) হাট বাজারের ইজারার টাকা দীর্ঘ দিন নিজেস্ব তহবিলে রেখে তার ১০ শতাংশ কমিশন নিয়ে জমা করেন। (৪) উপজেলা কোয়াটার মেরামতসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ নিজেই ঠিকাদার হিসেবে করছেন ইউএনও। (৫) চাকুরী দেয়ার নামে ঘুষ, সরকারী গাছ কর্তনসহ দুর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে সাবেক গাড়ি চালক আজিজুলকে ব্যবহার করতেন ইউএনও। যা প্রকাশ পেলে নিজেকে বাঁচাতে চালক আজিজুলকে বহিস্কার করেন।(৬) রেজুলেশন ছাড়াই উন্নয়নমুলক কাজ নামকাওয়াস্তে করে মোটা অংকে টাকা আত্নসাৎ করেন ইউএনও। (৭) জনস্বাস্থ্যের টিউবয়েল বিতরনে কোন ধরনের পরিপত্র না মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। যেখানে সভাপতি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরও নেয়া হয়নি। নিজের বানানো নিয়মে উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইউএনও। ইউএনওসহ অফিসারদের দায়ের করা অভিযোগটি মিথ্যা উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের নিকট দায়ের করা ইউএনওসহ ১৮জন অফিসারদের অভিযোগে প্রকাশ, আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিধিবিধান ও নীতিমালা লংঘন করে কাজের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে সেই দফতরের কর্মকর্তাকে অশ্রব্য ভাষায় গালমন্দসহ প্রাণনাশের হুমকিও দেন চেয়ারম্যান।
উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, ভিজিডি, মাতৃত্ব ভাতা, কৃষি প্রণোদনা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীর তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন চেয়ারম্যান। বিধি বহির্ভূতভাবে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেওয়ায় এবং প্রাক্কালন কাজ শেষ না হতেই বিল পরিশোধ না করায় সাম্প্রতিক সময় উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে রুমে বেঁধে পেটানোর হুমকি দেন চেয়ারম্যান।
শুধু তাই নয়, তার কথামত কাজ না করায় একজন নারী কর্মকর্তাকে বহিরাগতদের দিয়ে মানহানির ঘটনা ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সব দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা তুলে ধরা হয় অভিযোগে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। যা বিধি সম্মত না হওয়ায় ইউএনও নাকোচ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভা অসমাপ্ত রেখে চলে যান চেয়ারম্যান। এরপর চেয়ারম্যান ইউএনও অফিসের সিএরপর এরপর চেয়ারম্যান ইউএনও অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা লোক দিয়ে খুলতে গেলে তার ছবি তোলেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একইসঙ্গে ক্যামেরা খুলে ফেলার কারণ জানতে চাইলে ইউএনওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করা হয়। চরম উত্তেজিত হয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোবাইলে কল করে তার দলের লোকদের ডাকলে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার পর থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই ইউএনওসহ উপজেলার সব দফতরের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। একই দিন রাতে ইউএনওসহ উপজেলার ১৮ জন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক বরাবরে এ সংক্রান্ত গণস্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার স্মারক নং ০৫.৪৭.৫২০২.০০০.০২.০৮৩.২০।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















