চট্টগ্রামে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন “এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড”-এর চেয়ারম্যান লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলী। অসহায় এক শিশুর চিকিৎসা ব্যয়ের বিপুল পরিমাণ বিল মওকুফ করে তিনি প্রমাণ করলেন চিকিৎসাসেবা শুধু ব্যবসা নয়, এটি মানবতারও অন্যতম বড় দায়িত্ব।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে নগরীর জিইসি এলাকায় অবস্থিত “এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড” পরিদর্শনে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা হাম আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সী শিশু জয়া দাসকে দেখতে যান তিনি। উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলী ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
জানা যায়, নগরের কাঠগড় জেলেপাড়ার বাসিন্দা সুমন জলদাসের পাঁচ মাস বয়সী কন্যা জয়া দাস হাম রোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। শিশুটিকে নিয়ে প্রায় ২০ দিন বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন স্বজনরা। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড না পেয়ে অবশেষে গত ৩০ এপ্রিল জিইসি এলাকার এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি করানো হয় তাকে।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর বর্তমানে শিশুটি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের মোট বিল দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০২ টাকা, যা পরিশোধ করা অসহায় পরিবারটির পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞার নজরে আসে।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এগিয়ে আসে এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী শিশুটির পরিবারের আর্থিক অসহায়ত্ব বিবেচনায় নিয়ে বকেয়া ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩০২ টাকার সম্পূর্ণ চিকিৎসা বিল মওকুফ ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আলী বলেন, “মানবিক এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। চিকিৎসা শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও একটি মাধ্যম। জেলা প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি অসহায় পরিবার বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছে।”
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “চিকিৎসাসেবা খাতে এমন মানবিকতা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবসেবা।”
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বর্তমানে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
বর্তমানে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে পৃথক NICU ও PICU ইউনিট চালু রয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের সহায়তায় হাসপাতালটির মানবিক ভূমিকা ইতোমধ্যে নগরজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ ও সংকটময় সময়ে চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলীর নেতৃত্বে গরিব ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ও স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসা খাতে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ডিএস./





















