কুমিল্লা বিজরা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌসের ভুল চিকিৎসার শিকার বরুড়া,লাকসামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ।এমনি একটি অভিযোগ উঠেছে বিজরা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ জান্নাতের বিরুদ্ধে। গত ১৬ নভেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও কুমিল্লা সিভিল সার্জনের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে এক ভুক্তভোগী নারী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার গন্ডা মারা গ্রামের মনিন্দ্র চন্দ্র সরকারের মেয়ে বনিতা রানী সরকারের প্রসব জনিত ব্যথা উঠলে কুমিল্লা চাঁদপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিরজা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস অনিতার রক্ত ও আল্ট্রা করার পর সিজার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ঐ দিনেই ডাঃ জান্নাত সিজার করতে গিয়ে অনিতার জরায়ু কেটে ফেলে। পরে অনিতার অতিরিক্ত রক্তক্ষরন দেখা দিলে ডাঃ জান্নাত অনিতা রানীর বাবাকে বলে তার মেয়ের অপারেশন করতে গিয়ে জরায়ু কেটে গেছে।তাকে কুমিল্লা নিয়ে যেতে হবে। অনিতার বাবা কারন জানতে চাইলে ডাঃ জান্নাত বলেন, জরায়ু কেটে ফেলেছি রোগীকে কুমিল্লা নিয়ে যান এখানে আর কোন চিকিৎসা হবেনা। অনিতার বাবা বলেন আমার কাছে এখন টাকা নাই আমি মেয়ের চিকিৎসা করবো কি করে। ডাঃ জান্নাত বলেন আপনারা কুমিল্লা নিয়ে চিকিৎসা করেন যত টাকা লাগবে আমি দিবো। তখন অনিতার শরিল থেকে প্রচুর রক্তক্ষরন হচ্ছে। কুমিল্লা ইনসাফ মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্মরত চিকিৎসক জানান, অনিতার সিজার করতে গিয়ে জরায়ু কেটে ফেলছে এখনি জরায়ু অপারেশন করতে হবে। এ কথা শুনে অনিতার বাবা ডাক্তারদের বলেন আমার মেয়েকে বাঁচান। অনিতার শরিল থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে ১৪ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। অনিতার পিতা এলাকার মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে মেয়েকে সুস্থ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। অনিতার বাবা জানায় আমার মেয়ে চিকিৎসা বাবদ প্রায় ২ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পরে অনিতাকে বাড়িতে নিয়ে আসলে ডাঃ জান্নাতের কাছে ক্ষতিপূরণের টাকা চাইতে গেলে তিনি গালমন্দ করে তাড়িয়ে দেয়। এদিকে অনিতার স্বামী ও আর অনিতাকে নিয়ে সংসার করবেনা বলে জানায়। ভুক্তভোগী পরিবার জানান, অনিতার অল্প বয়সেই জরায়ু কেটে ফেলার কারনে স্বামী এখন নিতে চায়না। এদিকে অনিতার বাবা একজন দিনমজুর তিনি মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ও এনজিও থেকেও টাকা নিয়েছে। যা এখনো পরিশোধ করতে পারেনি। অনিতার বাবা মনিন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, ডাঃ জান্নাতের ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের এতোবড় ক্ষতি হয়ে গেছে যা কখনোই পোষানোর মত নয়। আমি এই ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।যেন ভবিষ্যতে এমন আর কারো সাথে না ঘটে। তাই অনিতা রানীর পক্ষে তার ভাই শ্যামল বাদী হয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন গত ১৬ নভেম্বর। এ দিকে একই রকম আরেক ভুক্তভোগীরও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাকসাম উপজেলার প্রবাসী দুলাল মিয়ার স্ত্রী মাহিনুর ঐ হাসপাতালে সিজার করতে গিয়ে ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস মাহিনুরের জরায়ু কেটে ফেলে। মাহিনুরের স্বামী দুলাল ও কুমিল্লা সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করে গত চলতি মাসের ১৬ তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাঃ জান্নাতকে একাধিক বার চেষ্টা করেও হাসপাতালের মুঠো ফোনেও পাওয়া যায়নি৷ এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন নিয়াতুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ




















