০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নান্দাইলে হিজঁড়াদের অশ্লীল আচরণে বিব্রত যাত্রীরা

হিজঁড়া মানে তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষ। তারা নহে নারী বা নহে পুরুষ। তবে সৃষ্টির লীলা খেলায় এক অন্যজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষগণ। তারা মা-বাবা,আত্মীয়-স্বজনকে ত্যাগ করে পরিবারচ্যুত হওয়ায় তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষগণ দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। এটা যেন আরেকটি নতুন সমাজের রূপ দিয়েছে। তবে তারা কোন সামাজিক অভিশপ্ত না হলেও বর্তমানে তাদের আচার-আচরণে অতিষ্ট হয়েছে পড়েছে সাধারন মানুষ।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলাতেও সেমস্ত তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষদেরকে দেখা যায় দলে দলে ঘোরাফেরা করতে। তারা স্বাভাবিক নারীদের মতোই চলফেরা করতে পারলেও সমাজও যেন তাদেরকে বাকাঁ চোখে দেখে। যার ফলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কোন কর্মসংস্থানে যোগ না দিয়ে রাস্তাঘাট ও যানবাহনে চলাচলকারী সাধারন মানুষের কাছে বকশিসের নামে টাকা আদায় করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তবে বর্তমানে বকশিসের নামে টাকা আদায় জোরপূর্বক জুলুমের রূপ নিয়েছে। এতে করে রাস্তাঘাটে যানবাহনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি সহ হয়রানির শিকার হচ্ছে বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষ।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার জুম্মাহর দিন এলেই রাস্তাঘাটে এদের দৌড়াত্ম্য বেশী দেখা যায়। শুধুমাত্র শুক্রবার দিনটিকে তারা বিশেষ দিন হিসেবে বেচেঁ নেওয়ার পিছনেও কারণও রয়েছে। কারন এই দিনটি ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষের জন্য একটি শুভ দিন বলে বিবাহ উৎসবের দিন ধার্য্য করা হয়। ফলে বর ও কনের গাড়ী রাস্তায় গতিরোধ করে তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষরা বকশিসের নামে জোর-জুলমভাবে টাকা আদায় করে। তাদের চাহিদামত টাকা না দিলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার সহ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এমনকি গায়ে পর্যন্ত হাত দিতে দ্বিধাবোধ করে না।

তাদের সম্পর্কে আরো জানাযায়, শীতকালেই তাদের দৌড়াত্ম্য বেশী দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দোকান পাটের ব্যাবসায়ী ও সাধারন ক্রেতা-পথচারীদেরকে বকশিসের জন্য হয়রানি করে থাকে। তারা সড়ক বা মহাসড়ক বলতে কোন কিছুই না মেনে যখন তখন রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে গাড়ীর গতিরোধ করে থাকে। শুধু তাই নয় গ্রামের বিয়ে-বাড়িতে গিয়েও এধরনের আচরণ করে থাকে।

এ বিষয়ে হিজড়াদের সর্দার লাভলী আক্তার জানায়, “নান্দাইলে আমাদের দুই-তিনটা দল আছে। অনেকসময় বাহিরের কোন দল আমাদের এলাকায় ঢুকে মানুষদেরকে হয়রানি করে থাকে। তবে আমরা মানুষের কাছে হাত পেতে অর্থাৎ চাইয়া-মাইগ্যা খাই। আমরা কাউকে কোন ধরনের হয়রানি করিনা।” সরকারিভাবে কোন কিছু পান কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, “আমাদের খোজঁ খবর কে নেয় বাবা ? আমরা আমাদের মতই থাকতে হয়। আমরা কিছুই পাইনা।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.এরশাদ উদ্দিন জানান, তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষ তথা হিজড়াদের জন্য বর্তমান সরকার নীতিমালা ও ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন হাতে নিয়েছে খুবই শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। আর রাস্তাঘাটে যাত্রী সাধারনকে হয়রানির বিষয়টি আমরা কথিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শৃঙ্খলা রক্ষায় তেলের ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন

নান্দাইলে হিজঁড়াদের অশ্লীল আচরণে বিব্রত যাত্রীরা

প্রকাশিত : ০২:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০

হিজঁড়া মানে তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষ। তারা নহে নারী বা নহে পুরুষ। তবে সৃষ্টির লীলা খেলায় এক অন্যজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষগণ। তারা মা-বাবা,আত্মীয়-স্বজনকে ত্যাগ করে পরিবারচ্যুত হওয়ায় তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষগণ দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। এটা যেন আরেকটি নতুন সমাজের রূপ দিয়েছে। তবে তারা কোন সামাজিক অভিশপ্ত না হলেও বর্তমানে তাদের আচার-আচরণে অতিষ্ট হয়েছে পড়েছে সাধারন মানুষ।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলাতেও সেমস্ত তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষদেরকে দেখা যায় দলে দলে ঘোরাফেরা করতে। তারা স্বাভাবিক নারীদের মতোই চলফেরা করতে পারলেও সমাজও যেন তাদেরকে বাকাঁ চোখে দেখে। যার ফলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কোন কর্মসংস্থানে যোগ না দিয়ে রাস্তাঘাট ও যানবাহনে চলাচলকারী সাধারন মানুষের কাছে বকশিসের নামে টাকা আদায় করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তবে বর্তমানে বকশিসের নামে টাকা আদায় জোরপূর্বক জুলুমের রূপ নিয়েছে। এতে করে রাস্তাঘাটে যানবাহনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি সহ হয়রানির শিকার হচ্ছে বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষ।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার জুম্মাহর দিন এলেই রাস্তাঘাটে এদের দৌড়াত্ম্য বেশী দেখা যায়। শুধুমাত্র শুক্রবার দিনটিকে তারা বিশেষ দিন হিসেবে বেচেঁ নেওয়ার পিছনেও কারণও রয়েছে। কারন এই দিনটি ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষের জন্য একটি শুভ দিন বলে বিবাহ উৎসবের দিন ধার্য্য করা হয়। ফলে বর ও কনের গাড়ী রাস্তায় গতিরোধ করে তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষরা বকশিসের নামে জোর-জুলমভাবে টাকা আদায় করে। তাদের চাহিদামত টাকা না দিলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার সহ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এমনকি গায়ে পর্যন্ত হাত দিতে দ্বিধাবোধ করে না।

তাদের সম্পর্কে আরো জানাযায়, শীতকালেই তাদের দৌড়াত্ম্য বেশী দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দোকান পাটের ব্যাবসায়ী ও সাধারন ক্রেতা-পথচারীদেরকে বকশিসের জন্য হয়রানি করে থাকে। তারা সড়ক বা মহাসড়ক বলতে কোন কিছুই না মেনে যখন তখন রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে গাড়ীর গতিরোধ করে থাকে। শুধু তাই নয় গ্রামের বিয়ে-বাড়িতে গিয়েও এধরনের আচরণ করে থাকে।

এ বিষয়ে হিজড়াদের সর্দার লাভলী আক্তার জানায়, “নান্দাইলে আমাদের দুই-তিনটা দল আছে। অনেকসময় বাহিরের কোন দল আমাদের এলাকায় ঢুকে মানুষদেরকে হয়রানি করে থাকে। তবে আমরা মানুষের কাছে হাত পেতে অর্থাৎ চাইয়া-মাইগ্যা খাই। আমরা কাউকে কোন ধরনের হয়রানি করিনা।” সরকারিভাবে কোন কিছু পান কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, “আমাদের খোজঁ খবর কে নেয় বাবা ? আমরা আমাদের মতই থাকতে হয়। আমরা কিছুই পাইনা।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.এরশাদ উদ্দিন জানান, তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষ তথা হিজড়াদের জন্য বর্তমান সরকার নীতিমালা ও ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন হাতে নিয়েছে খুবই শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। আর রাস্তাঘাটে যাত্রী সাধারনকে হয়রানির বিষয়টি আমরা কথিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর