০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

শীতের আগমনে সুস্বাদু কলাই রুটির দোকানে ভিড় বেড়েছে

সুস্বাদু খাবার হিসেবে কলাই রুটি ভোজনরসিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মরিচ বাটা, পেঁয়াজ কুঁচি বা সরিষার তেল দিয়ে বেগুনভর্তার সঙ্গে গরম কলাই রুটি মানুষের কাছে একটি প্রিয় খাবার হিসেবে পরিচিত।
শীতের আগমনে সুস্বাদু এসব কলাই রুটির দোকান গড়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে। অস্থায়ী ভাবে ফুটপাতের পাশে গড়ে উঠা এসব দোকানের বেচাবিক্রিও বেড়েছে বেশ। দুরদুরান্ত থেকে মানুষ কলাই রুটি খেতে আসছেন ফুটপাতের এসব দোকানে।
জানা যায়, প্রথমে মাষকালাই ও আতপ চাল পাটাতে বা যাঁতাতে পিষে আটা বানানো হয়। মেশিনে তৈরী আটা দিয়েও কালাই রুটি বানানো গেলেও পাটায় পিষ্ট আটা দিয়ে কালাই রুটি বানালে স্বাদ বৃদ্ধি পায়। এর সাথে স্বাদমতো লবণ ও প্র্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি মিশিয়ে খামির তৈরী করা হয়। খামির থেকে ছোট বল পরিমাণ আটা নিয়ে গোলাকার করা হয়। এরপর দুই হাতের তালুতে রেখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বড় রুটি বানানো হয়। সাধারণত গমের রুটির চেয়ে কালাই রুটি অধিক পুরু এবং বড় হয়। এরপর রুটিটিকে মাটির তাওয়াতে সেঁকে গরম করা হয়। রুটির রঙ বাদামী হয়ে গেলে নামিয়ে নেওয়া হয়।
কালাই রুটির সাথে সাধারণত বেগুন ভর্তা, শুকনো মরিচ ভর্তা, বট, পেঁয়াজ ভর্তা, মাংস ভুনা ইত্যাদি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এসবের সাথে রুটির টুকরোর ছিড়ে গরম গরম খাওয়া হয়।
সরেজমিন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খাড়ারা গ্রামের ফেরত মোড় নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের পাশে অস্থায়ী ভাবে গড়ে উঠেছে একটি কলাই রুটির দোকান। সেখানে খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি রুটি তৈরী করছেন। রুটি তৈরীতে সহায়তা করছেন তার স্ত্রী। খাইরুলের দোকানে বসে মানুষ রুটি খাচ্ছেন।
কলাই রুটি বিক্রেতা খাইরুল ইসলাম জানান, আমি আগে স্যালো ইঞ্জিন চালিত পটাং গাড়ি চালাতাম। আমার গাড়ির স্টান্ডে রেল লাইনের পাশে এক নারী কলাই রুটি তৈরী করতেন। তা দেখে প্রথম আমি শিখি। সেখান থেকে শিখে পরবর্তীতে আমি নিজেই তৈরী করা শুরু করেছি। আমার দোকানে অনেকেই এসে কলাই রুটি খান এবং সুনাম করেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ১০থেকে ১২কেজি আটার রুটি বিক্রি হয়। এককেজি আটায় ৬থেকে ৭টি রুটি হয়। রুটির সাথে বেগুল ভর্তা, পেয়াজ, রসুন, ধনিয়ার পাতা ছাড়াও রায় বাটা থাকে। কালাই রুটি দুই রকম তৈরী হয়। এর মধ্যে শুধু কলাই রুটি ৪০টাকা পিস বিক্রি করা হয়। এ ছাড়াও অরেক রকম ২৫টাকা পিস বিক্রি করা হয়।
খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩বছর ধরে কলাই রুটি বিক্রির সাথে যুক্ত আছি। মুলত শীতের ৩ থেকে ৪মাস কলাই রুটি বিক্রি হয়। প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা রুটি বিক্রি করে আয় হয়। আর প্রতি দিন ২৫শ’ টাকা পর্যন্ত বেচাবিক্রি হয়।
কথা হয় কলাই রুটি খেতে আসা আছাদুর রহমান বাবু নামে এক ব্যক্তির সাথে। তিনি জানান, আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে খাড়ারায় ফেরত মোড়ে অনেকদিন ধরে শুনছি খুব ভালো কলাই রুটি তৈরী করা হয়। তাই আমরা কলাই রুটি খেতে আসছি। এই কলাই রুটি খেয়ে অনেক ভালো লেগেছে।
মো. মামুনুর রশিদ জানান, মিরপুরের গেট পাড়া থেকে কলাই রুটি খেতে এসেছি। বেগুন ভর্তা আর ধনিয়া পাতা দিয়ে মসলা বানানো অনেক সুস্বাদু। এটা আমি গত বছর খাওয়ার পর এতো সুন্দর লেগেছিলো। এ কারণে আমি গত সপ্তাহে কলাই রুটি খেতে এসেছিলাম।
মো. আশরাফুল আলম হিরা নামে একজন জানান, আমি মিরপুর পৌর এলাকা থেকে কলাই রুটি সন্ধান পেয়ে খেতে এসেছি। এখানে এসে দেখদে পেলাম আমার মত অনেকে কলাই রুটি খেতে এসেছেন। গরম গরম কলাই রুটি খেয়ে বেশ ভালো লাগলো।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শীতের আগমনে সুস্বাদু কলাই রুটির দোকানে ভিড় বেড়েছে

প্রকাশিত : ০৫:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

সুস্বাদু খাবার হিসেবে কলাই রুটি ভোজনরসিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মরিচ বাটা, পেঁয়াজ কুঁচি বা সরিষার তেল দিয়ে বেগুনভর্তার সঙ্গে গরম কলাই রুটি মানুষের কাছে একটি প্রিয় খাবার হিসেবে পরিচিত।
শীতের আগমনে সুস্বাদু এসব কলাই রুটির দোকান গড়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে। অস্থায়ী ভাবে ফুটপাতের পাশে গড়ে উঠা এসব দোকানের বেচাবিক্রিও বেড়েছে বেশ। দুরদুরান্ত থেকে মানুষ কলাই রুটি খেতে আসছেন ফুটপাতের এসব দোকানে।
জানা যায়, প্রথমে মাষকালাই ও আতপ চাল পাটাতে বা যাঁতাতে পিষে আটা বানানো হয়। মেশিনে তৈরী আটা দিয়েও কালাই রুটি বানানো গেলেও পাটায় পিষ্ট আটা দিয়ে কালাই রুটি বানালে স্বাদ বৃদ্ধি পায়। এর সাথে স্বাদমতো লবণ ও প্র্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি মিশিয়ে খামির তৈরী করা হয়। খামির থেকে ছোট বল পরিমাণ আটা নিয়ে গোলাকার করা হয়। এরপর দুই হাতের তালুতে রেখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বড় রুটি বানানো হয়। সাধারণত গমের রুটির চেয়ে কালাই রুটি অধিক পুরু এবং বড় হয়। এরপর রুটিটিকে মাটির তাওয়াতে সেঁকে গরম করা হয়। রুটির রঙ বাদামী হয়ে গেলে নামিয়ে নেওয়া হয়।
কালাই রুটির সাথে সাধারণত বেগুন ভর্তা, শুকনো মরিচ ভর্তা, বট, পেঁয়াজ ভর্তা, মাংস ভুনা ইত্যাদি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এসবের সাথে রুটির টুকরোর ছিড়ে গরম গরম খাওয়া হয়।
সরেজমিন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খাড়ারা গ্রামের ফেরত মোড় নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের পাশে অস্থায়ী ভাবে গড়ে উঠেছে একটি কলাই রুটির দোকান। সেখানে খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি রুটি তৈরী করছেন। রুটি তৈরীতে সহায়তা করছেন তার স্ত্রী। খাইরুলের দোকানে বসে মানুষ রুটি খাচ্ছেন।
কলাই রুটি বিক্রেতা খাইরুল ইসলাম জানান, আমি আগে স্যালো ইঞ্জিন চালিত পটাং গাড়ি চালাতাম। আমার গাড়ির স্টান্ডে রেল লাইনের পাশে এক নারী কলাই রুটি তৈরী করতেন। তা দেখে প্রথম আমি শিখি। সেখান থেকে শিখে পরবর্তীতে আমি নিজেই তৈরী করা শুরু করেছি। আমার দোকানে অনেকেই এসে কলাই রুটি খান এবং সুনাম করেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ১০থেকে ১২কেজি আটার রুটি বিক্রি হয়। এককেজি আটায় ৬থেকে ৭টি রুটি হয়। রুটির সাথে বেগুল ভর্তা, পেয়াজ, রসুন, ধনিয়ার পাতা ছাড়াও রায় বাটা থাকে। কালাই রুটি দুই রকম তৈরী হয়। এর মধ্যে শুধু কলাই রুটি ৪০টাকা পিস বিক্রি করা হয়। এ ছাড়াও অরেক রকম ২৫টাকা পিস বিক্রি করা হয়।
খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩বছর ধরে কলাই রুটি বিক্রির সাথে যুক্ত আছি। মুলত শীতের ৩ থেকে ৪মাস কলাই রুটি বিক্রি হয়। প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা রুটি বিক্রি করে আয় হয়। আর প্রতি দিন ২৫শ’ টাকা পর্যন্ত বেচাবিক্রি হয়।
কথা হয় কলাই রুটি খেতে আসা আছাদুর রহমান বাবু নামে এক ব্যক্তির সাথে। তিনি জানান, আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে খাড়ারায় ফেরত মোড়ে অনেকদিন ধরে শুনছি খুব ভালো কলাই রুটি তৈরী করা হয়। তাই আমরা কলাই রুটি খেতে আসছি। এই কলাই রুটি খেয়ে অনেক ভালো লেগেছে।
মো. মামুনুর রশিদ জানান, মিরপুরের গেট পাড়া থেকে কলাই রুটি খেতে এসেছি। বেগুন ভর্তা আর ধনিয়া পাতা দিয়ে মসলা বানানো অনেক সুস্বাদু। এটা আমি গত বছর খাওয়ার পর এতো সুন্দর লেগেছিলো। এ কারণে আমি গত সপ্তাহে কলাই রুটি খেতে এসেছিলাম।
মো. আশরাফুল আলম হিরা নামে একজন জানান, আমি মিরপুর পৌর এলাকা থেকে কলাই রুটি সন্ধান পেয়ে খেতে এসেছি। এখানে এসে দেখদে পেলাম আমার মত অনেকে কলাই রুটি খেতে এসেছেন। গরম গরম কলাই রুটি খেয়ে বেশ ভালো লাগলো।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ