লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। যাদের উভয়ের বয়স ১০ বছরের নিচে। এসব শিশুর অধিকাংশই খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের ডোবায় কিংবা পুকুরে পড়ে মারা যায়।
বছর জুড়ে পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দূর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়।বর্ষার পানিতে শিশুদের খেলায় মেতে উঠাই এর অন্যতম কারণ।পানির উৎস বাড়ির যত কাছাকাছি থাকে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি ততই বেড়ে যায়।
এমনেই তথ্য পাওয়া গেছে এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়া পরিবারদের সঙ্গে কথা বলে।২০২০ সালের ১২ জুলাই তিস্তা নদীর পানিতে পড়ে মারা যায় আলিফা খাতুন (৮ মাস) নামে এক শিশু। শিশুটির পিতা আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের বন্যায় তার বাড়ি পানিবন্দি হয়ে যায়।
রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে যায় সবাই। কিন্তু ভোরে উঠে মাছ ধরতে যায় আনোয়ার। ঘুমান্ত মায়ের অজান্তেই বন্যায় ঘরের ভিতরে ওঠা পানিতে পড়ে শিশুটি মারা যায়।
২০২০ সালের ২৭ জুলাই লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের ভেটেশ্বর গ্রামে খালের পানিতে পড়ে ওমর ফারুকের ছেলে ফাহিম হোসেন নামে দেড় বছরের শিশু মারা যায়। জানা গেছে, বাড়ির উঠানে খেলা করতে গিয়ে বাড়ির উঠানের পাশে প্রতিবেশীর খালে পড়ে মারা যায় ওই শিশু।
একই বছরের ২৮ জুন জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে নিঁখোজ হওয়া ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয় একটি পুকুর থেকে। এরা হলেন গিনাবাড়ি গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৬) ও জহির উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন(৫)।
এ বছরের ১ আগষ্ঠ জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার শিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুল্লাহ (২) নামে একটি শিশু পুকুরের পানিতে পড়ে মারা যায়।
এসব বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা হয় হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, পানিতে পড়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অসাবধানতাই পানিতে পড়ে শিশু মারা যাওয়ার প্রধান কারন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ




















