০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সচেতনতাই পারে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে

লালমনিরহাটে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাচ্ছে। কিন্তু পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলায় এ বছরেই পানিতে ডুবে প্রায় ২০ জন শিশু মারা গেছে। তবে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুর হিসেব নেই কোন দপ্তরে। শহরের চেয়ে গ্রামে পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়ার সংখ্যা বেশি। ১০ বছরের কম বয়সের শিশু পানিতে ডুবে বেশি মারা যায়। তাছাড়া শিশুরা পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় ও খুব অল্প পানিতে পড়ে গেলেও শিশুরা বাঁচতে পারেনা।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গেরিলা লিডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, মা ও অভিভাবকদের গাফিলতি ও অসাবধানতাই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর প্রধান কারণ। এছাড়াও বাড়ির আশেপাশে ডোবা ও পুকুর থাকলে তা ভরাট করলেও শিশুর মৃত্যুর হার কমানো সম্ভবপর। এ বছরে যে সব শিশু পানিতে পড়ে মারা গেছে তাতে দেখা গেছে এদের অধিকাংশই বাড়ির আশে পাশে ডোবাও পুকুরের পানি পড়ে মারা গেছে। খেলতে খেলতে তারা পানিতে পড়ে মারা যায়। এসব শিশুর মা ও অভিভাবকগন নজরে রাখলে পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা আরো কম হতো।

কোনো দপ্তরে হিসাব নাই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা

লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সকলের ধারণা নিউমোনিয়া ও ডায়েরিয়ায় বেশি শিশু মারা যায়। কিন্তু এ ধারনা ঠিক নয়। আসলে বেশি শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে। কিন্তু পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুর কোন তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়না। পুলিশের খাতায়ও এদের সংখ্যা সংরক্ষণ করে রাখা হয়না। অন্য কোনো দপ্তরেও নেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গিরিলা লিডার ড, শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, এ বছরে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স ১০ বছরের নিচে। অভিভাবকদের অসাবধানতার কারনে এসব শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণে প্রশাসনের ভূমিকা জরুরী।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। যাদের উভয়ের বয়স ১০ বছরের নিচে। এসব শিশুর অধিকাংশই খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের ডোবায় কিংবা পুকুরে পড়ে মারা যায়।

বছর জুড়ে পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দূর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়।বর্ষার পানিতে শিশুদের খেলায় মেতে উঠাই এর অন্যতম কারণ।পানির উৎস বাড়ির যত কাছাকাছি থাকে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি ততই বেড়ে যায়।
এমনেই তথ্য পাওয়া গেছে এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়া পরিবারদের সঙ্গে কথা বলে।২০২০ সালের ১২ জুলাই তিস্তা নদীর পানিতে পড়ে মারা যায় আলিফা খাতুন (৮ মাস) নামে এক শিশু। শিশুটির পিতা আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের বন্যায় তার বাড়ি পানিবন্দি হয়ে যায়।
রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে যায় সবাই। কিন্তু ভোরে উঠে মাছ ধরতে যায় আনোয়ার। ঘুমান্ত মায়ের অজান্তেই বন্যায় ঘরের ভিতরে ওঠা পানিতে পড়ে শিশুটি মারা যায়।

২০২০ সালের ২৭ জুলাই লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের ভেটেশ্বর গ্রামে খালের পানিতে পড়ে ওমর ফারুকের ছেলে ফাহিম হোসেন নামে দেড় বছরের শিশু মারা যায়। জানা গেছে, বাড়ির উঠানে খেলা করতে গিয়ে বাড়ির উঠানের পাশে প্রতিবেশীর খালে পড়ে মারা যায় ওই শিশু।

একই বছরের ২৮ জুন জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে নিঁখোজ হওয়া ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয় একটি পুকুর থেকে। এরা হলেন গিনাবাড়ি গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৬) ও জহির উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন(৫)।
এ বছরের ১ আগষ্ঠ জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার শিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুল্লাহ (২) নামে একটি শিশু পুকুরের পানিতে পড়ে মারা যায়।
এসব বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা হয় হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, পানিতে পড়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অসাবধানতাই পানিতে পড়ে শিশু মারা যাওয়ার প্রধান কারন।

         লামায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

লামা উপজেলায় দুই দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৯ নভেম্বর ২০২০ইং) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেওলারচর এলাকায় বাড়ির পাশে কুয়ার পানিতে ডুবে জান্নাতুল ফেরদৌস (৩) নামে এক শিশু মারা যায়। সে মেওলারচর এলাকায় রহমত আলীর মেয়ে। অপরদিকে গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় লামা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের লামামুখ বাজারস্থ মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে পূজা কর্মকার (১০) নামে আরো এক শিশু নিখোঁজ হয়। পূজা কর্মকার লামামুখ বাজারের বিমল কর্মকার এর মেয়ে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি টিম ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির করে ৭ ঘন্টা পরে শনিবার রাত ৮টায় মাতামুহুরী নদী হতে তার লাশ উদ্ধার করে।পরপর দুইটি শিশু মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল, লামা পৌরসভার মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম ও লামা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন। কুয়ার পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করা শিশু জান্নাতুল ফেরদৌস এর বাবা রহমত আলী বলেন, বাড়ির পাশের জমির ধান পাঁকলে আমি জমিতে ধান কাটতে যাই। মেয়েটি আমার সাথে ধান কাটা দেখতে জমিতে যায়। ধান ক্ষেতের পাশে ছোট একটি পানির কুয়া ছিল। আমাদের অগোচরে কখন যে মেয়েটি ওখানে পড়ে যায় খেয়াল করতে পারিনি।

 

কিছুক্ষণ পরে আমার স্ত্রীর খুঁজতে এলে কুয়ায় তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত পূজা কর্মকারের বাবা বিমল কর্মকার জানায়, শনিবার দুপুরে মাতামুহুরী নদীতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে সে নদীর পানিতে ডুব দিয়ে আর উঠে নাই। আত্মীয়-স্বজন অনেক খোঁজেও পূজাকে জীবিত অথবা মৃত উদ্ধার করতে না পেরে লামা থানাকে অবহিত করে। খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পূজাকে পায়নি। পরে চট্টগ্রাম হতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিমকে আনা হয়।

 

অবশেষে রাত ৮টায় পূজার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম। লামা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাফায়েত হোসেন বলেন, আমরা ও স্থানীয়রা খোঁজে না পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি টিম আনা হয়। তারা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে পূজা কর্মকারের লাশ উদ্ধার করে। লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দুই শিশু মৃত্যুর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে নিহতদের লাশ পারিবারিক ভাবে দাফন কাপন ও শেষ কার্য্য সম্পাদনের জন্য বলা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বাবার স্মৃতি বিজড়িত খোদ্দ খাল খননের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

সচেতনতাই পারে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে

প্রকাশিত : ০৮:৪১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

লালমনিরহাটে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাচ্ছে। কিন্তু পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলায় এ বছরেই পানিতে ডুবে প্রায় ২০ জন শিশু মারা গেছে। তবে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুর হিসেব নেই কোন দপ্তরে। শহরের চেয়ে গ্রামে পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়ার সংখ্যা বেশি। ১০ বছরের কম বয়সের শিশু পানিতে ডুবে বেশি মারা যায়। তাছাড়া শিশুরা পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় ও খুব অল্প পানিতে পড়ে গেলেও শিশুরা বাঁচতে পারেনা।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গেরিলা লিডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, মা ও অভিভাবকদের গাফিলতি ও অসাবধানতাই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর প্রধান কারণ। এছাড়াও বাড়ির আশেপাশে ডোবা ও পুকুর থাকলে তা ভরাট করলেও শিশুর মৃত্যুর হার কমানো সম্ভবপর। এ বছরে যে সব শিশু পানিতে পড়ে মারা গেছে তাতে দেখা গেছে এদের অধিকাংশই বাড়ির আশে পাশে ডোবাও পুকুরের পানি পড়ে মারা গেছে। খেলতে খেলতে তারা পানিতে পড়ে মারা যায়। এসব শিশুর মা ও অভিভাবকগন নজরে রাখলে পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার সংখ্যা আরো কম হতো।

কোনো দপ্তরে হিসাব নাই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা

লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সকলের ধারণা নিউমোনিয়া ও ডায়েরিয়ায় বেশি শিশু মারা যায়। কিন্তু এ ধারনা ঠিক নয়। আসলে বেশি শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে। কিন্তু পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুর কোন তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়না। পুলিশের খাতায়ও এদের সংখ্যা সংরক্ষণ করে রাখা হয়না। অন্য কোনো দপ্তরেও নেই পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গিরিলা লিডার ড, শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, এ বছরে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স ১০ বছরের নিচে। অভিভাবকদের অসাবধানতার কারনে এসব শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণে প্রশাসনের ভূমিকা জরুরী।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে। যাদের উভয়ের বয়স ১০ বছরের নিচে। এসব শিশুর অধিকাংশই খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের ডোবায় কিংবা পুকুরে পড়ে মারা যায়।

বছর জুড়ে পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দূর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়।বর্ষার পানিতে শিশুদের খেলায় মেতে উঠাই এর অন্যতম কারণ।পানির উৎস বাড়ির যত কাছাকাছি থাকে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি ততই বেড়ে যায়।
এমনেই তথ্য পাওয়া গেছে এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মারা যাওয়া পরিবারদের সঙ্গে কথা বলে।২০২০ সালের ১২ জুলাই তিস্তা নদীর পানিতে পড়ে মারা যায় আলিফা খাতুন (৮ মাস) নামে এক শিশু। শিশুটির পিতা আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের বন্যায় তার বাড়ি পানিবন্দি হয়ে যায়।
রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে যায় সবাই। কিন্তু ভোরে উঠে মাছ ধরতে যায় আনোয়ার। ঘুমান্ত মায়ের অজান্তেই বন্যায় ঘরের ভিতরে ওঠা পানিতে পড়ে শিশুটি মারা যায়।

২০২০ সালের ২৭ জুলাই লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের ভেটেশ্বর গ্রামে খালের পানিতে পড়ে ওমর ফারুকের ছেলে ফাহিম হোসেন নামে দেড় বছরের শিশু মারা যায়। জানা গেছে, বাড়ির উঠানে খেলা করতে গিয়ে বাড়ির উঠানের পাশে প্রতিবেশীর খালে পড়ে মারা যায় ওই শিশু।

একই বছরের ২৮ জুন জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে নিঁখোজ হওয়া ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয় একটি পুকুর থেকে। এরা হলেন গিনাবাড়ি গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৬) ও জহির উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন(৫)।
এ বছরের ১ আগষ্ঠ জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার শিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুল্লাহ (২) নামে একটি শিশু পুকুরের পানিতে পড়ে মারা যায়।
এসব বিষয় নিয়ে সরাসরি কথা হয় হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, পানিতে পড়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অসাবধানতাই পানিতে পড়ে শিশু মারা যাওয়ার প্রধান কারন।

         লামায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

লামা উপজেলায় দুই দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৯ নভেম্বর ২০২০ইং) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেওলারচর এলাকায় বাড়ির পাশে কুয়ার পানিতে ডুবে জান্নাতুল ফেরদৌস (৩) নামে এক শিশু মারা যায়। সে মেওলারচর এলাকায় রহমত আলীর মেয়ে। অপরদিকে গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় লামা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের লামামুখ বাজারস্থ মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে পূজা কর্মকার (১০) নামে আরো এক শিশু নিখোঁজ হয়। পূজা কর্মকার লামামুখ বাজারের বিমল কর্মকার এর মেয়ে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি টিম ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির করে ৭ ঘন্টা পরে শনিবার রাত ৮টায় মাতামুহুরী নদী হতে তার লাশ উদ্ধার করে।পরপর দুইটি শিশু মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল, লামা পৌরসভার মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম ও লামা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন। কুয়ার পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করা শিশু জান্নাতুল ফেরদৌস এর বাবা রহমত আলী বলেন, বাড়ির পাশের জমির ধান পাঁকলে আমি জমিতে ধান কাটতে যাই। মেয়েটি আমার সাথে ধান কাটা দেখতে জমিতে যায়। ধান ক্ষেতের পাশে ছোট একটি পানির কুয়া ছিল। আমাদের অগোচরে কখন যে মেয়েটি ওখানে পড়ে যায় খেয়াল করতে পারিনি।

 

কিছুক্ষণ পরে আমার স্ত্রীর খুঁজতে এলে কুয়ায় তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত পূজা কর্মকারের বাবা বিমল কর্মকার জানায়, শনিবার দুপুরে মাতামুহুরী নদীতে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে সে নদীর পানিতে ডুব দিয়ে আর উঠে নাই। আত্মীয়-স্বজন অনেক খোঁজেও পূজাকে জীবিত অথবা মৃত উদ্ধার করতে না পেরে লামা থানাকে অবহিত করে। খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পূজাকে পায়নি। পরে চট্টগ্রাম হতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিমকে আনা হয়।

 

অবশেষে রাত ৮টায় পূজার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম। লামা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাফায়েত হোসেন বলেন, আমরা ও স্থানীয়রা খোঁজে না পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি টিম আনা হয়। তারা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে পূজা কর্মকারের লাশ উদ্ধার করে। লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দুই শিশু মৃত্যুর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে নিহতদের লাশ পারিবারিক ভাবে দাফন কাপন ও শেষ কার্য্য সম্পাদনের জন্য বলা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ