০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

সন্ত্রাসবাদ দমনে এগিয়ে বাংলাদেশ

প্রতিকী ছবি

সন্ত্রাসবাদ দমনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সফল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরসহ গত কয়েক বছরের সন্ত্রাসবাদ সূচক থেকে উঠে এসেছে এমন তথ্য। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০২০ প্রকাশ করে। এতে ৩৩তম স্থানে অবস্থান বাংলাদেশের। ২০১৯ এ ছিল ৩০তম অবস্থানে। ২০১৮ সালে যা ছিলো ২৫তম অবস্থানে।

অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ দমনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে দেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ৪ দশমিক ৯০৯। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ১৩৫তম অবস্থান দখল করে নেয়া ভুটান রয়েছে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে।
সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ৯.৫৯২ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তান রয়েছে এক নম্বরে। এরপর ৭.৫৪১ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান সাত, ৭.৩৫৩ পয়েন্ট নিয়ে ভারত আট, ৬.০৬৫ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা ২০ নম্বর, ৫.৩৪ পয়েন্ট নিয়ে নেপাল রয়েছে ২৭ নম্বরে অবস্থান করছে। ৪.৯০৯ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ৩৩ ও শূন্য পয়েন্ট নিয়ে ভুটান রয়েছে ১৩৫ নম্বর অবস্থানে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারী ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এই উন্নতি সাধিত হয়েছে। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে ওঠাও একটি বড় কারণ। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগকারীদের সংস্থাগুলোর চেষ্টায় সূচকে দেশকে উন্নতি করতে সহায়তা করেছে। আমাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে হবে। আমরা সন্ত্রাসবাদ দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বহিনীর ক্রমাগত অভিযানের কারণে অপরাধ প্রবণতা কমে গেছে। একইভাবে সহিংসতা কমেছে। কিন্তু সাইবার সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে র‌্যাবের সাইবার অপরাধ দমন টিম কাজ করছে। পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) একজন কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসেচতনতা, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারী ও ধারাবাহিক অভিযানের কারণেই সূচকে বাংলাদেশ উন্নতি করেছে। তবে এটিকে আরও উন্নীত করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, স্বাধীন নিরপেক্ষ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইইপি মানুষের ভালো থাকা ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও অর্জনযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে। ২৩ সূচকের ওপর ভিত্তি করে ১৬৩ দেশকে নিয়ে চূড়ান্ত সন্ত্রাসবাদের সূচক তৈরি করা হয়েছে। এই দেশগুলোতেই বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বসবাস করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূচকে অবস্থান পাওয়া প্রতিটি দেশকে শূন্য থেকে ১০ স্কোরের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। স্কোর ৮ থেকে ১০ এর মধ্যে হলে সেই দেশগুলো সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে আক্রান্ত বলে ধরা হয়। স্কোর ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে পেলে দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। সূচকে ৪ থেকে ৬ স্কোর পাওয়া দেশগুলোতে মধ্যম আকারে সন্ত্রাসবাদ রয়েছে। স্কোর ২ থেকে ৪ এর মধ্যে থাকলে দেশগুলোতে খুব কম পরিমাণ সন্ত্রাসবাদ রয়েছে বলে ধরা হয়। আর স্কোর শূণ্য থেকে ২ এর অর্থ হলো যে, ঐ দেশে কোনও সন্ত্রাসবাদ নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সন্ত্রাসবাদ দমনে এগিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০১:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

সন্ত্রাসবাদ দমনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সফল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরসহ গত কয়েক বছরের সন্ত্রাসবাদ সূচক থেকে উঠে এসেছে এমন তথ্য। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০২০ প্রকাশ করে। এতে ৩৩তম স্থানে অবস্থান বাংলাদেশের। ২০১৯ এ ছিল ৩০তম অবস্থানে। ২০১৮ সালে যা ছিলো ২৫তম অবস্থানে।

অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ দমনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে দেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ৪ দশমিক ৯০৯। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ১৩৫তম অবস্থান দখল করে নেয়া ভুটান রয়েছে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে।
সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ৯.৫৯২ পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তান রয়েছে এক নম্বরে। এরপর ৭.৫৪১ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান সাত, ৭.৩৫৩ পয়েন্ট নিয়ে ভারত আট, ৬.০৬৫ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা ২০ নম্বর, ৫.৩৪ পয়েন্ট নিয়ে নেপাল রয়েছে ২৭ নম্বরে অবস্থান করছে। ৪.৯০৯ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ৩৩ ও শূন্য পয়েন্ট নিয়ে ভুটান রয়েছে ১৩৫ নম্বর অবস্থানে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারী ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এই উন্নতি সাধিত হয়েছে। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে ওঠাও একটি বড় কারণ। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগকারীদের সংস্থাগুলোর চেষ্টায় সূচকে দেশকে উন্নতি করতে সহায়তা করেছে। আমাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে হবে। আমরা সন্ত্রাসবাদ দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বহিনীর ক্রমাগত অভিযানের কারণে অপরাধ প্রবণতা কমে গেছে। একইভাবে সহিংসতা কমেছে। কিন্তু সাইবার সংক্রান্ত অপরাধ বেড়েছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে র‌্যাবের সাইবার অপরাধ দমন টিম কাজ করছে। পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) একজন কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসেচতনতা, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারী ও ধারাবাহিক অভিযানের কারণেই সূচকে বাংলাদেশ উন্নতি করেছে। তবে এটিকে আরও উন্নীত করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, স্বাধীন নিরপেক্ষ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইইপি মানুষের ভালো থাকা ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও অর্জনযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে। ২৩ সূচকের ওপর ভিত্তি করে ১৬৩ দেশকে নিয়ে চূড়ান্ত সন্ত্রাসবাদের সূচক তৈরি করা হয়েছে। এই দেশগুলোতেই বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বসবাস করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূচকে অবস্থান পাওয়া প্রতিটি দেশকে শূন্য থেকে ১০ স্কোরের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। স্কোর ৮ থেকে ১০ এর মধ্যে হলে সেই দেশগুলো সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে আক্রান্ত বলে ধরা হয়। স্কোর ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে পেলে দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। সূচকে ৪ থেকে ৬ স্কোর পাওয়া দেশগুলোতে মধ্যম আকারে সন্ত্রাসবাদ রয়েছে। স্কোর ২ থেকে ৪ এর মধ্যে থাকলে দেশগুলোতে খুব কম পরিমাণ সন্ত্রাসবাদ রয়েছে বলে ধরা হয়। আর স্কোর শূণ্য থেকে ২ এর অর্থ হলো যে, ঐ দেশে কোনও সন্ত্রাসবাদ নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর