০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খেলাপির অপেক্ষায় সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরো সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ খেলাপি ঋণের ঘরে পৌঁছানোর আগের ধাপে অবস্থান করছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ছয় মাস পার হলেই সংশ্লিষ্ট অর্থ খেলাপি ঋণের নিম্ন স্তর অর্থাৎ নিম্নমানের (এসএস) খেলাপি ঋণের ঘরে চলে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ঋণের কিস্তি পর পর ছয় মাস পরিশোধ না হলে সেটি খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। এই খেলাপি ঋণের আগের স্তর হলো এসএমএ অর্থাৎ মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ছয় মাস অতিক্রম করলেই তা খেলাপি ঋণে পরিণত হবে। খেলাপি ঋণ আবার তিন ধরনের হয়। ঋণের কিস্তি ছয় মাস অতিক্রম হলেই সেটি খেলাপি ঋণের নিম্ন স্তর বা নিম্নমানের খেলাপি ঋণ হয়। ৯ মাস অতিক্রম হলেই ওই ঋণ সন্দেহজনক খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। আর এক বছর পার হলেই তা মন্দ বা কুঋণ হয়। এসব ঋণকে ব্যাংকিং খাতে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ বলা হয়। এ ধরনের ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যাংকগুলোর মামলা করার অনুমোদন রয়েছে।

করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব থেকে ব্যবসায়ীদের কিছুটা রেহাই দেয়ার জন্য এক বছরের জন্য ঋণ শ্রেণীকরণ থেকে অব্যাহতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমে জুন মাস পর্যন্ত, এরপর আরো দুই ধাপে তা বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধ না করলে তাকে ঋণখেলাপি বলা যাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা কার্যকরের সময় আগামী ৩১ ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন কোনো নির্দেশনা না দিলে খেলাপি ঋণের আগের নীতিমালাই কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা যখন থেকে কার্যকর করা হয় ওই সময় অনেক ঋণের কিস্তিই তিন মাস অনিয়মিত ছিল। কোনো ঋণ চার মাস আবার কোনো ঋণ পাঁচ মাস পর্যন্ত অনিয়মিত ছিল। ফলে ওই সব ঋণ খেলাপি ঋণের পূর্ব স্তর বা এসএমএ ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন করে নির্দেশনা না দিলে ওই সব ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সময় ধীরে ধীরে ছয় মাস পার হয়ে যাবে। আর ছয় মাস পার হলেই ওই সব ঋণ খেলাপি ঋণে পরিণত হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’

খেলাপির অপেক্ষায় সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ১১:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরো সাড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ খেলাপি ঋণের ঘরে পৌঁছানোর আগের ধাপে অবস্থান করছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ছয় মাস পার হলেই সংশ্লিষ্ট অর্থ খেলাপি ঋণের নিম্ন স্তর অর্থাৎ নিম্নমানের (এসএস) খেলাপি ঋণের ঘরে চলে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ঋণের কিস্তি পর পর ছয় মাস পরিশোধ না হলে সেটি খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। এই খেলাপি ঋণের আগের স্তর হলো এসএমএ অর্থাৎ মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ছয় মাস অতিক্রম করলেই তা খেলাপি ঋণে পরিণত হবে। খেলাপি ঋণ আবার তিন ধরনের হয়। ঋণের কিস্তি ছয় মাস অতিক্রম হলেই সেটি খেলাপি ঋণের নিম্ন স্তর বা নিম্নমানের খেলাপি ঋণ হয়। ৯ মাস অতিক্রম হলেই ওই ঋণ সন্দেহজনক খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। আর এক বছর পার হলেই তা মন্দ বা কুঋণ হয়। এসব ঋণকে ব্যাংকিং খাতে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ বলা হয়। এ ধরনের ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যাংকগুলোর মামলা করার অনুমোদন রয়েছে।

করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব থেকে ব্যবসায়ীদের কিছুটা রেহাই দেয়ার জন্য এক বছরের জন্য ঋণ শ্রেণীকরণ থেকে অব্যাহতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমে জুন মাস পর্যন্ত, এরপর আরো দুই ধাপে তা বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধ না করলে তাকে ঋণখেলাপি বলা যাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা কার্যকরের সময় আগামী ৩১ ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন কোনো নির্দেশনা না দিলে খেলাপি ঋণের আগের নীতিমালাই কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা যখন থেকে কার্যকর করা হয় ওই সময় অনেক ঋণের কিস্তিই তিন মাস অনিয়মিত ছিল। কোনো ঋণ চার মাস আবার কোনো ঋণ পাঁচ মাস পর্যন্ত অনিয়মিত ছিল। ফলে ওই সব ঋণ খেলাপি ঋণের পূর্ব স্তর বা এসএমএ ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন করে নির্দেশনা না দিলে ওই সব ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সময় ধীরে ধীরে ছয় মাস পার হয়ে যাবে। আর ছয় মাস পার হলেই ওই সব ঋণ খেলাপি ঋণে পরিণত হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর