কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন)র আবক্ষ ভাস্কর্য ভাংচুর ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা কুমারখালী থানায় করা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামীকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টায় কুষ্টিয়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সেলিনা খাতুন রিমান্ড শুনাণি শেষে তিন দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এ মামলায় তিনজন আসামীকে গ্রেফতার দেখিয়ে প্রত্যেককে সাত দিনের করে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ্ধ করে কুমারখালী থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি কয়া ফুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মহিরুদ্দিন সেখের ছেলে আনিসুর রহমান আনিছ (৩৫), নাসির উদ্দিনের ছেলে সবুজ হোসেন (২০) এবং বুদ্দিন মন্ডলের ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)।
কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, “যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন)র আবক্ষ ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনায় কুমারখালী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে কয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামীদের ৭দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ্ধ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত সোমবার (২১ ডিসেম্বর) রিমান্ড শুনাণি শেষে ৩দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত: শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া মহাবিদ্যালয় চত্বরের বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (৭ ডিসেম্বর, ১৮৭৯–১০ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫) ছিলেন একজন বাঙালী ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী নেতা। তিনি বাঘা যতীন নামেই সমধিক পরিচিত । কুষ্টিয়া কুমারখালী থানার কয়া গ্রামে নানীর বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশর অতিবাহিত হয় এখানেই। পরে শিক্ষার্জনে ভারতে গমন করেন। এবং ভারতের উড়িষ্যায় ১৯১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ৩৫বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা ও অবদান রেখেছিলেন। তিনি বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা ছিলেন। ভারত স্বাধীনতা আন্দোলন, হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্র, বড়দিন ষড়যন্ত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি সমাজ সংস্কারক হিসেবে নানা খাতে অবদান রাখেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, ব্যায়ামাগার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন কুষ্টিয়াতে।
ঐতিহাসিক ভাবে বাঘা যতীন বৈপ্লবিক অবদানের কারনে কুষ্টিয়ার ইতিহাসের সাথে অবিচ্ছেদ্য হন। দীর্ঘকাল ধরে তিনি নামে এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে লালিত একটি নাম হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তার কোন স্মৃতি সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৬ডিসেম্বর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও ভারতীয় হাই কমিশনার সমন্বয়ে উদ্যোগ নিয়ে কয়া ডিগ্রী কলেজ চত্বরে এই আবক্ষ ভাস্কর্যটি নির্মান করা হয়েছিলো বলে জানান ১৯৯২ সালে কয়া কলেজ প্রতিষ্ঠাতা আহŸায়ক বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















