বিঘার পর বিঘা ছিল সবুজ জমিন। সবই ফসলি মাঠ। তবে শীত তার চাদর বিছিয়ে দিতে না দিতেই সেই সবুজ উধাও। যতদূর চোখ যায়, বিস্তীর্ণ জমিনজুড়ে কেবল হলুদ আর হলুদ। মনে হয়, কেউ হলুদ বরণ আলপনা দিয়ে ঢেকে রেখেছে এই প্রান্তর। তবে সেই হলুদ বরণে আপত্তি নেই কৃষকদের। বরং ক্ষেতজুড়ে সরিষার এমন ফুলের মেলায় কৃষকের চোখে হাসির ঝিলিক খেলে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরার কয়েকটি উপজেলায় এমনই দৃশ্য এখন ফসলের মাঠজুড়ে। প্রান্তরজুড়ে উঁকি দিচ্ছে শীতের শিশির ভেজা সরিষা ফুলের দোল খাওয়া গাছগুলো। সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল শীতের সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিকি করছে। যেন প্রকৃতিকন্যা সেজেছে ‘হলুদ বরণ সাজে’। চির সবুজের বুকে এ যেন কাঁচা হলুদের আলপনা। মনে হয় পৃথিবী বুঝি তার রঙ হারিয়েছে। শুধু কালের বিবর্তনে হলুদ রঙটাই এখনো টিকে আছে। আর তার সঙ্গে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ।
মূলত গত কয়েক বছর ধরেই সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ ফসলের প্রান্তরে শীতের মৌসুমে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদে চাষিরা ধারাবাহিকভাবে লাভবান হতে থাকায় তারা এই ফসলটি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জেলা কৃষি কার্যালয় আট হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এই জেলায়। তবে সাতক্ষীরায় সরিষা চাষ লাভজনক ফসল হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয় ৯ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে। পরবর্তী সময়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়েও ২৬ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ বেশি হয়। ওই বছর মোট চাষাবাদ হয় ৯ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও বাড়ে সরিষার আবাদ। আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় কয়েকশ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়ে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে অবশ্য এই পরিমাণ বেশ খানিকটা কমেছে। প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ কমে গিয়ে এবারে ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানাচ্ছে, তবে জেলার সাত উপজেলার মধ্যে বাকি দুই উপজেলা— তালা ও আশাশুনিতে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই সরিষার আবাদ হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ


























