গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির দুই যুগপূর্তির বছরে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ পরিমাপে পদ্মা নদীতে বিগত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৩৩০ কিউসেক পানি কম পাওয়া গেছে। শনিবার দুই দেশের ছয় সদস্যের পানি পর্যবেক্ষণ দল ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি পরিমাপের পর এই তথ্য পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরে পরিমাপ শুরুর প্রথম দিনে শনিবার দুপুরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে মোট ৭৮ হাজার ২৪৪ কিউসেক পানি পাওয়া যায়। বিগত বছরের এই সময়ে একই পয়েন্টে পানি ছিল এক লাখ দুই হাজার ৫৭৪ কিউসেক। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৩৩০ কিউসেক পানি কম পাওয়া গেছে। আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত এই পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণকাজ চলবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভারত থেকে আসা দুজন ও বাংলাদেশের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল দুপুরে পর্যবেক্ষণকাজ শুরু করে। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন দেশটির কেন্দ্রীয় নদী কমিশনের উপপরিচালক ভেঙ্কটেশ্বর লুই ও সহকারী পরিচালক নগেন্দ্র কুমার। বাংলাদেশের পক্ষে টিম লিডার হিসেবে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন, ফিল্ড টিম লিডার হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উত্তরাঞ্চলীয় পরিমাপ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোর্শেদুল ইসলাম এবং প্রতিনিধি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন ও তহিদুল ইসলাম রয়েছেন।
সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। আর পরের বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে ভারতের অংশে গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগি চুক্তি কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী পানির ন্যায্য হিস্যার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের পাঁচ মাস অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কার্যকর হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর দুই দেশের প্রতিনিধিদল গঙ্গা ও পদ্মার পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ শেষে দুই দেশের নদী কমিশনের কাছে তথ্য উপস্থাপন করে।
প্রকৌশলী মোর্শেদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে প্রায় ৭৮ হাজার ২৪৪ কিউসেক পানি রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে প্রথম ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গায় এক লাখ ৬১ হাজার কিউসেক পানি ছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৬০ হাজার ৬১ কিউসেক এবং ভারতের ৪০ হাজার কিউসেক পানি। একই সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির পরিমাণ ছিল এক লাখ দুই হাজার ৫৭৪ কিউসেক। গত বছরের তুলনায় এবার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার কিউসেক পানি কম বিদ্যমান।
প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন জানান, গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছরের ১ জানুয়ারি থেকে পদ্মা নদীতে যৌথভাবে বাংলাদেশ-ভারত প্রতিনিধিদল হিস্যা অনুযায়ী পানির প্রাপ্যতা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। আর প্রতি দশ দিন পর পর তিন দফায় পানির প্রাপ্যতা পরিমাপ করে পাওয়া তথ্য দুই দেশের নদী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এবার পদ্মার পানিপ্রবাহ পরিমাপ-পর্যবেক্ষণের প্রথম দিনে শনিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৬.২১ মিটার এবং বিকেল ৩টায় পানির উচ্চতা কমে দাঁড়ায় ৬.১৯ মিটার। তবে পানির প্রাপ্যতার সঠিক পরিমাণ জানতে হলে আরো ১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
সরেজমিনে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের ৯টি পিলারের গোড়ায় পানি রয়েছে। তবে ব্রিজ থেকে মাত্র ১০০ মিটার উত্তরে চর পড়েছে। সেখান থেকে কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে নদী খাল হতে শুরু করেছে।
পদ্মা নদীর মৎস্যজীবী হাওলাদার বিধন, শশী ও রুবেল এবং নৌকার মাঝি আব্দুল মজিদসহ বেশ কয়েকজন জানালেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর পদ্মা নদীতে পানি অনেক কম।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















