বুধবার(০৬ জানুয়ারি) মার্কিন পার্লামেন্টে হামলাকারী সমর্থকদের পক্ষ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে বক্তব্যে দাঙ্গাকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তা নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে তার বিবাদ হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্পপন্থীরা ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়। হোয়াট হাউস থেকে ট্রাম্প তাদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন বলে তার এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প বলছিলেন, আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই শান্তিপ্রিয়। গ্রীষ্মের ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, গ্রীষ্মের দাঙ্গা ছাড়াও, আরও যে সব দাঙ্গা হয়েছে, তখন তো কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। আমার জনগণ শান্তিপ্রিয়। তারা ঠগ নয়।’
প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প তার সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এদিন পুরো দানবের মতো আচরণ করছিলেন। ২০১৭ সালের ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সমাবেশে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের যেভাবে ট্রাম্প সমর্থন দিয়েছিলেন, বুধবার আরও ভয়াবহভাবে দাঙ্গাকারীদের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।
ওয়াশিংটন পোস্টকে ওই সহযোগী জানান, সংঘাতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প ছিলেন খুবই ধীরগতির। দাঙ্গা বন্ধে জনগণের উদ্দেশে ভাষণেও তার যথেষ্ট অনীহা ছিল। ওই মুহূর্তে তিনি কিছু বলতে বা করতে মোটেও রাজি ছিলেন না। তার একটাই কথা ছিল, নির্বাচনের ফলাফলে তার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। অন্য কিছু তিনি ভাবতেই চাননি।
পোস্ট জানায়, দাঙ্গার বিষয়ে ফক্স নিউজ থেকে ট্রাম্পের মন্তব্য চেয়ে ফোন করলে তাতে সাড়া দেওয়ার জন্য সহযোগীরা অনেক চেষ্টা করেও রাজি করাতে পারেননি। তবে টুইটারে পোস্ট দেওয়ার জন্য একটি ভিডিও বার্তা দিতে সম্মত হন তিনি।
সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গাকারীদের প্রথম দফা হামলার আড়াই ঘণ্টা পর টুইটারে ট্রাম্পের ওই ভিডিও পোস্ট করা হয়।
পোস্ট আরও জানায়, ট্রাম্প যখন টুইটারের জন্য ভিডিও রেকর্ডিং করছিলেন, তখন সহযোগীদের দেওয়া অনুলিপি তিনি অনুরসরণ করছিলেন না। নিজের ইচ্ছা মতো নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছিলেন। বলেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তার কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এটি ছিল প্রতারণাপূর্ণ নির্বাচন। আমরা এ লোকদের (ডেমোক্র্যাটদের) হাতের খেলনা হতে পারি না। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। সুতরাং ঘরে ফিরে যাও। আমরা তোমাদের ভালোবাসি। তোমরা খুবই বিশেষ।
ওই ভিডিও পোস্ট করার পরই ট্রাম্পকে অস্থায়ীভাবে ব্লক করে টুইটার কর্তৃপক্ষ।
টুইটার জানায়, যেসব পোস্টের জন্য প্রেসিডেন্টকে ব্লক করা হয়েছিল, সেগুলো তিনি সরিয়ে নিয়েছেন। ১২ ঘণ্টা পর তার অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
বুধবার দিনগত রাত সাড়ে তিনটায় কংগ্রেসের যৌথসভা নবনির্বাচিত জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে চূড়ান্ত করে। বুধবার হামলার কারণে প্রথম দফায় ওই সভা বিঘ্নিত হয়। পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় আইনপ্রণেতাদের। ক্যাপিটল ভবন নিরাপদ হওয়ার পর রাত আটটায় আবার সভা শুরু হয়।


























