০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ইসি’র মাঠ পর্যায়ে নেই এ্যাফিস ম্যাচিং, যাচাই করা যাচ্ছে না দ্বৈত ভোটার

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সেবামূলক কার্যক্রম হলো নাগরিকদের জাতীয় পরিচয় প্রদান। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং না থাকায় বাদ পরা ভোটাররা  সেবা নিতে পরেছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে, হচ্ছে ব্যাপক বিলম্ব। তবে সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে বাদপড়া ভোটারদের শনাক্ত করণে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং না থাকায় গ্রাহক সেবায় বাড়ছে হয়রানী ও সেবা প্রদানে হচ্ছে কিছুটা বিলম্ব ।

এরকমই হয়রানী শিকার ও সেবা নিতে কিছুটা বিলম্বে পরছেন সেই ভিক্ষুক দম্পত্তির একজন সুলতান ডাক্তার (৮০)। যাকে নিয়ে কয়েকদিন আগেও দেশের স্বনাম ধন্য কয়েকটি মিডিয়া ছিলো সরব। “পরনের কাপড় নেই, স্ত্রীর ওড়না পরেন স্বামী” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি বেসরকারী সহযোগিতার পাশাপাশি আশ্বাস পেয়ে ছিলেন সরকারে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্কভাতার। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গিয়েই বাজে ঝামেলা। দম্পত্তির স্বামী সুলতান ডাক্তারের নেই জাতীয় পরিচয়পত্র, ও স্ত্রী সকিনা বেগমের বয়স বাস্তবে ৭০ হলেও পরিচয় পত্রে দেওয়া হয়েছে ৫০ বছর।

সুলতান ডাক্তারের ভাষ্যমতে, ঢাকায় রিক্সা চালানোর জন্য পূর্বে পটুয়াখালী ছিলোনা বিধায় ভোটার হতে পারেনি তিনি। কেউ উদ্যোগ নিয়ে করেও দেননি। কয়েকবার নিজ থেকেই গিয়েছিলেন নির্বাচন অফিসে, কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র নিতে পারেনি তিনি, আর ভোটারও হতে পারেনি।

প্রতি বুধবার পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার বা বাদপরা বয়স্ক, মধ্য বয়স্কদের নিবন্ধন করে থাকে নির্বাচন অফিস। সুলতান ডাক্তারকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো ভোটার নিবন্ধন করার জন্য, কিন্তু পূর্বে ভোটার হয়েছে কিনা সেটা যাচাই করতে না পারার কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। যদি জেল বা উপজেলা অফিসে দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং পদ্ধতি চলমান থাকলে তাৎক্ষনিক যাচাই করে নিবন্ধন করা যেত বলে জানান কর্মকর্তরা।

কারণ দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে ইসি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। জারি করা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০, ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর উপর বিশেষ নির্দেশনা। একারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টরা।

এব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধিতে ভোটার নিবন্ধন ও স্মার্ট ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে এই সেবাকে যুগউপযোগী ও বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ভোট প্রদান ছাড়াও জাতীয় পরিচয়পত্র বিহীন কোন নাগরিককে সরকারি বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ কোন সেবা প্রদান ও গ্রহন প্রায় অসম্ভব। এদিকে দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে করলেও মাঠ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং না থাকার গ্রাহক সেবায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে এবং কেউ দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন করলেও শনাক্তকরা যাচ্ছে না এবং আইন প্রয়োগ করা যাচ্ছে না ।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের কাছে আমরা স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং পদ্ধতি চালু করার জন্য আবেদন করেছি, কমিশনও চিন্তা করছে। আশাকরি দ্রুত আশার আলো দেখবে এবং এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো। তবে সুলতান ডাক্তারের মত যারা সমস্যায়, তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে, আমরা কমিশনের সাথে যোগাযোগ করে সমাধানে কাজ করবো।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু

ইসি’র মাঠ পর্যায়ে নেই এ্যাফিস ম্যাচিং, যাচাই করা যাচ্ছে না দ্বৈত ভোটার

প্রকাশিত : ০৮:২২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী ২০২১

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সেবামূলক কার্যক্রম হলো নাগরিকদের জাতীয় পরিচয় প্রদান। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং না থাকায় বাদ পরা ভোটাররা  সেবা নিতে পরেছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে, হচ্ছে ব্যাপক বিলম্ব। তবে সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে বাদপড়া ভোটারদের শনাক্ত করণে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং না থাকায় গ্রাহক সেবায় বাড়ছে হয়রানী ও সেবা প্রদানে হচ্ছে কিছুটা বিলম্ব ।

এরকমই হয়রানী শিকার ও সেবা নিতে কিছুটা বিলম্বে পরছেন সেই ভিক্ষুক দম্পত্তির একজন সুলতান ডাক্তার (৮০)। যাকে নিয়ে কয়েকদিন আগেও দেশের স্বনাম ধন্য কয়েকটি মিডিয়া ছিলো সরব। “পরনের কাপড় নেই, স্ত্রীর ওড়না পরেন স্বামী” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি বেসরকারী সহযোগিতার পাশাপাশি আশ্বাস পেয়ে ছিলেন সরকারে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্কভাতার। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গিয়েই বাজে ঝামেলা। দম্পত্তির স্বামী সুলতান ডাক্তারের নেই জাতীয় পরিচয়পত্র, ও স্ত্রী সকিনা বেগমের বয়স বাস্তবে ৭০ হলেও পরিচয় পত্রে দেওয়া হয়েছে ৫০ বছর।

সুলতান ডাক্তারের ভাষ্যমতে, ঢাকায় রিক্সা চালানোর জন্য পূর্বে পটুয়াখালী ছিলোনা বিধায় ভোটার হতে পারেনি তিনি। কেউ উদ্যোগ নিয়ে করেও দেননি। কয়েকবার নিজ থেকেই গিয়েছিলেন নির্বাচন অফিসে, কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র নিতে পারেনি তিনি, আর ভোটারও হতে পারেনি।

প্রতি বুধবার পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার বা বাদপরা বয়স্ক, মধ্য বয়স্কদের নিবন্ধন করে থাকে নির্বাচন অফিস। সুলতান ডাক্তারকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো ভোটার নিবন্ধন করার জন্য, কিন্তু পূর্বে ভোটার হয়েছে কিনা সেটা যাচাই করতে না পারার কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। যদি জেল বা উপজেলা অফিসে দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং পদ্ধতি চলমান থাকলে তাৎক্ষনিক যাচাই করে নিবন্ধন করা যেত বলে জানান কর্মকর্তরা।

কারণ দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে ইসি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। জারি করা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০, ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর উপর বিশেষ নির্দেশনা। একারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টরা।

এব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধিতে ভোটার নিবন্ধন ও স্মার্ট ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে এই সেবাকে যুগউপযোগী ও বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ভোট প্রদান ছাড়াও জাতীয় পরিচয়পত্র বিহীন কোন নাগরিককে সরকারি বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ কোন সেবা প্রদান ও গ্রহন প্রায় অসম্ভব। এদিকে দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন প্রতিরোধে করলেও মাঠ পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং না থাকার গ্রাহক সেবায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে এবং কেউ দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন বা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন করলেও শনাক্তকরা যাচ্ছে না এবং আইন প্রয়োগ করা যাচ্ছে না ।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের কাছে আমরা স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সিস্টেম (এ্যাফিস) ম্যাচিং পদ্ধতি চালু করার জন্য আবেদন করেছি, কমিশনও চিন্তা করছে। আশাকরি দ্রুত আশার আলো দেখবে এবং এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো। তবে সুলতান ডাক্তারের মত যারা সমস্যায়, তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে, আমরা কমিশনের সাথে যোগাযোগ করে সমাধানে কাজ করবো।